শেয়ারবাজারে ইতিবাচক অগ্রগতি: সূচক ও লেনদেনে দৃশ্যমান উন্নতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বুধবার, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। টানা কয়েক দিনের মিশ্র প্রবণতার পর আজ ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পায়, যা সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে তরলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনের শুরু থেকেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, বিশেষ করে মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত সহায়তার কারণে বাজারে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে এবং নতুন পুঁজির প্রবাহ বাড়ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)
১৮ জুন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭.১৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৭৬.৮২ পয়েন্টে। ডিএসইএস সূচক ৮.৮৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১,০৪২.৬৪ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৭.২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থান করছে ১,৭৮৭.৪৪ পয়েন্টে।
মোট ৩৯৬টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২০২টির দর বেড়েছে, ১১২টির কমেছে, এবং ৮২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইতে আজ মোট লেনদেন হয়েছে ৩২৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ৩১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বেশি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)
সিএসইতেও বাজারের প্রবণতা ছিল ইতিবাচক। আজ লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ১২ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ১১ কোটি ১৭ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
মোট ১৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৩টির দর বেড়েছে, ৭৯টির কমেছে, এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১০.৬২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,২৫৬.০৬ পয়েন্টে।
বাজারের সামগ্রিক চিত্রে স্থিতিশীলতা ও ধীরগতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ পুনরায় বাজারকে সক্রিয় করে তুলেছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে বাজারে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
জামিরুল ইসলাম/