ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন: বয়সসীমা ৩২ বছর

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ০৯:৫৭:৩৫
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন: বয়সসীমা ৩২ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) গেজেট আকারে প্রকাশিত এই বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় আনা হয়েছে যুগোপযোগী বেশ কিছু পরিবর্তন।

বয়সসীমা ও কোটা ব্যবস্থায় রদবদল

নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বছর। বহুদিন ধরে কার্যকর থাকা নারী ও পোষ্য কোটার বিধান সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে এবার থেকে সহকারী শিক্ষক পদে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে কেবল মেধার ভিত্তিতে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য এবং ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পদোন্নতির সুযোগ বাড়ল

বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে যেখানে ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হতো, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে। বাকি ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তবে পদোন্নতির উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।

নতুন বিষয় যুক্ত হলো

শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো শরীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত বিষয়কে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট কোটার সুযোগ

যদিও নারী ও পোষ্য কোটা বাতিল হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কিছু কোটার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা কার্যকর থাকবে। এসব কোটায় প্রার্থী না থাকলে শূন্যপদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে।

কঠোর শর্ত আরোপ

বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে কোনো প্রার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে বিবেচনা করা হবে না।

উপজেলা ও থানাভিত্তিক নিয়োগ

সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম উপজেলা ও থানাভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করা হবে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান হয়।

আল-আমিন ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ