ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা: ৫ ধরনের জমি ছাড়তে হবে দলিল থাকলেও

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ আগস্ট ৩১ ১২:২৯:৩৩
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা: ৫ ধরনের জমি ছাড়তে হবে দলিল থাকলেও

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিল ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, শুধু দলিল থাকলেই জমির মালিকানা প্রমাণ হয় না—এমন ধারণা এখন আর কার্যকর নয়। ইতোমধ্যে সরকারী প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ ধরনের জমি যাদের দখলে আছে, তাঁদের তা ছাড়তে হবে, এমনকি দলিল থাকলেও।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অবৈধভাবে দখলে থাকা এসব জমি ফেরত না দিলে প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন জমি ছাড়তে হবে?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী যেসব জমি ঝুঁকিতে রয়েছে—

সাব-কবলা দলিল : উত্তরাধিকার বণ্টন সম্পন্ন না করে সাব-কবলা দলিল করলে তা বাতিল হবে। বঞ্চিত উত্তরাধিকারী আদালতে গেলে দলিল খারিজ হতে পারে।

হেবা দলিল : দাতার পূর্ণ মালিকানা না থাকা, শর্ত ভঙ্গ বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে করা হেবা দলিল আইনের চোখে বৈধ নয়।

জাল দলিল : ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার ফলে জাল দলিল দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি দলিল আদালতে বাতিল হবে।

খাস খতিয়ানের জমি : সরকারি খাস জমি কেউ ব্যক্তিগত নামে ভোগ করলে তা অবৈধ। জেলা প্রশাসক এসব জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেবেন।

অর্পিত সম্পত্তি : মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিত্যক্ত বা অর্পিত সম্পত্তি কারও দখলে থাকতে পারবে না। এসিল্যান্ড এসব জমি শনাক্ত করে সরকারের নামে ফেরত দেবেন।

সরকারের অবস্থান

ভূমি মন্ত্রণালয় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—আদালতের বৈধ রায় ছাড়া এসব জমির দখল টিকবে না। বহু বছরের দলিল থাকলেও যদি তা আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধ না হয়, তবে জমি ফেরত যাবে প্রকৃত মালিক অথবা সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

এ পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি ব্যবহারকারীদের এখনই সতর্ক হতে হবে। দলিল থাকলেই চলবে না—আদালতে বৈধতা প্রমাণ করতে না পারলে জমি ছাড়তে হবে।

আল-আমিন ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ