Alamin Islam
Senior Reporter
৫টি দলের করুণ দশা: সারা দেশে জোটেনি ১০০০ ভোটও!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এক বিস্ময়কর চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ৫টি দল দেশজুড়ে ভোটারদের নূন্যতম আস্থাও অর্জন করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, এই দলগুলোর সংগৃহীত মোট ভোট এক হাজারের গণ্ডিও পার হতে পারেনি।
ভোটের তলানিতে থাকা ৫ দল
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, সারা দেশের ভোট সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে— বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি। এই দলগুলোর প্রার্থীরা দেশের কোথাও ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগাতে পারেননি।
শীর্ষ দুই দলের আধিপত্য
অন্যদিকে, নির্বাচনী লড়াইয়ে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯০টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮টি ভোট পকেটে পুরেছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় অর্ধেক (৪৯.৯৭%)। এছাড়া সংসদের নতুন বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জামায়াতে ইসলামীও ভোটের মাঠে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিয়েছে। ২২৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৬৩৯টি (৩১.৭৬%) ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলটি।
জাতীয় পার্টির ভরাডুবি ও স্বতন্ত্রের দাপট
বিগত কয়েক দশকের সংসদীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবার নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ১৯৯টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ে দলটি সংহগ্রহ করেছে মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২টি ভোট, যা মোট ভোটের এক শতাংশের (০.৮৯%) নিচে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে লড়াই করা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে ভোটের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছেন। ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঝুলিতে জমা পড়েছে ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৪টি ভোট।
উদীয়মান শক্তি ও হেভিওয়েটদের অবস্থান
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছে দলটি। এছাড়া ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যথাক্রমে ২০ লাখ ও ১৫ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে।
বিপরীতে, প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের দলগুলো ভোটার টানতে রীতিমতো সংগ্রাম করেছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার ‘নাগরিক ঐক্য’ ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট এবং ড. কামাল হোসেনের ‘গণফোরাম’ মাত্র ৫ হাজার ৬৬টি ভোট পেয়ে কোনোমতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। অনশন করে নিবন্ধন পাওয়া তারেকের ‘আমজনতার দল’ ৬ হাজার ২০৯টি ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
নিবন্ধন পাওয়া নতুন দলগুলোর মধ্যে ‘জনতার দল’ ৩৭ হাজার ৪০১ এবং ‘বাসদ (মার্কসবাদী)’ ১৩ হাজার ২৩৫টি ভোট পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের মেরুকরণ মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় ছোট ও পুরনো অনেক দল কার্যত সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন হারিয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: গোল, গোল খেলাটি সরাসরি দেখুন Live
- উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: ৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
- নারী এশিয়ান কাপ-চলছে উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন Live
- আজকের খেলার সময়সূচি:ভারত বনাম ইংল্যান্ড
- দুই লাখ শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা
- উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: প্রথমার্ধের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- নারী এশিয়ান কাপ-উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: ৮০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- কিছুক্ষণ পর উত্তর কোরিয়া বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- ১৬ মার্চ শেষ অফিস, টানা ৭ দিন ঈদের ছুটির পরিকল্পনা
- মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রাখতে পারবে? জানুন
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ৫ গোলের ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- ৫ দিনে ১৭৬ ফ্লাইট বাতিল: সংকটে শাহজালাল বিমানবন্দর