Alamin Islam
Senior Reporter
ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবরে উড়ছে দুই কোম্পানির শেয়ার
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনী কোম্পানি অ্যাপেক্স ফুড এবং অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাধারণত ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবরে শেয়ারের দাম বাড়লেও, এই দুটি কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
অ্যাপেক্স ফুডের পতন:
সোমবার অ্যাপেক্স ফুডের ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবর প্রকাশের পর থেকেই শেয়ারটির দামে পতন শুরু হয়।
সোমবার শেয়ারটির দাম ২ টাকা বা ০.৭৮ শতাংশ কমে ২৫৪ টাকা হয়, এবং মঙ্গলবার আরও ১০ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪.০৯ শতাংশ কমে ২৪৩ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। রবিবার দিনশেষে শেয়ারটির দাম ছিল ২৫৬ টাকা, যা মঙ্গলবার ২.০৯ শতাংশ কমেছে।
অ্যাপেক্স স্পিনিংয়েরও একই চিত্র:
অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই প্রবণতা। ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবর প্রকাশের পর সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৬ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩.৮১ শতাংশ এবং মঙ্গলবার ৩ টাকা ১০ পয়সা বা ১.৮৩ শতাংশ কমেছে। রবিবার শেয়ারটির দাম ছিল ১৭৫ টাকা ৮০ পয়সা, যা মঙ্গলবার কমে ১৬৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কেন এই উল্টো দৌড়?
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
মুনাফা তুলে নেওয়া: সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কোম্পানির শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই যারা লাভে রয়েছেন, তারা ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবরে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রবণতা।
অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ: কিছু বিনিয়োগকারী ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। তারা মনে করতে পারেন, বর্তমান দামে শেয়ার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আগের বছরের ডিভিডেন্ডের পুনরাবৃত্তি?: উভয় কোম্পানিই ২০২৪ সালে ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবছরও কোম্পানি দুটি আগের বছরের সমপরিমাণ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারে। এই প্রত্যাশা পূরণ না হলে বা ডিভিডেন্ডের পরিমাণ কম হলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হতে পারেন।
স্বল্প মূলধনী ঝুঁকি: স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ সাধারণত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। যেকোনো খবরেই এই ধরনের শেয়ারের দামে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা:
যদিও ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবরে শেয়ার দুটির দাম কমেছে, তবে এটি বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির অতীত ডিভিডেন্ড প্রদানের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের অস্থিরতা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের উচিত, কোনো রকম গুজবে কান না দিয়ে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে সতর্কতার সাথে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আব্দুর রহিম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- কলকাতায় কড়াকড়ি, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জরুরি পরামর্শ
- ঢাকাসহ ৮ বিভাগে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- ওবায়দুল কাদেরের সেই ‘মাসুদ’ বদলি
- ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় উল্লম্ফন
- যেসব সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল না দিতে বলেছে টিআইবি
- সোনা কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- এক ক্লিকেই কি বাড়বে ওয়াই-ফাই স্পিড? জেনে নিন বাস্তবতা
- স্বর্ণ কিনতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আজকের বাজারদর