ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

ভূমি মালিকদের জন্য সুখবর:আর বাতিল হবে না নামজারি আবেদন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৭ ১১:২৩:২৪
ভূমি মালিকদের জন্য সুখবর:আর বাতিল হবে না নামজারি আবেদন

বাংলাদেশের ভূমি প্রশাসনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন থেকে কোনো ভূমি মালিকের নামজারি (মিউটেশন) আবেদন অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা যাবে না। পাশাপাশি নামজারি সম্পন্ন করার জন্য কঠোর সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই নতুন রায়ে দেশের ভূমি মালিকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে, যেখানে নামজারি প্রক্রিয়াকে সহজ এবং দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ছোট ভুলে আর খারিজ নয়: সংশোধনের সুযোগ বাধ্যতামূলক

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ভূমি মালিকের নামজারি আবেদন বাতিল বা খারিজ করা যাবে না। এটিই এই নির্দেশের প্রধান দিক।

সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নামজারি আবেদনে যদি ছোটখাটো ভুল বা নথিপত্রের ঘাটতিও থাকে, তবুও আবেদন অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এরপর আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধন করে জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এসিল্যান্ডদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি: "শাসক নয়, সেবক হোন"

ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি কোনো এসিল্যান্ড (AC Land) কর্মকর্তা অযৌক্তিকভাবে নামজারি আবেদন রিজেক্ট করেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে বলেছেন—কোনো বৈধ ভূমি মালিককে নামজারি থেকে বঞ্চিত করা চলবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের শাসক নয়, বরং সেবক হিসেবে কাজ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত দেশের ভূমি প্রশাসনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস করবে।

সর্বোচ্চ ২৮ কর্মদিবস: নতুন সময়সীমা বাধ্যতামূলক

ভূমি মালিকদের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল নামজারি সম্পন্ন হতে অস্বাভাবিক কালক্ষেপণ। এবার সেই জটিলতা দূর করতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নামজারি আবেদনের পর সর্বোচ্চ ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে অবশ্যই নামজারি সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।

অভিযোগ জানানোর জন্য হালনাগাদ হটলাইন ১৬১২২

নামজারি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ ও হয়রানি প্রতিরোধে সরকার তাদের হটলাইন ১৬১২২ সচল ও হালনাগাদ রেখেছে। ভূমি মালিকরা এই নাম্বারে ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্ত কেবল সাধারণ ভূমি মালিকদের হয়রানি কমাবে না, এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার। কারণ, নামজারি ছাড়া ভূমি মালিকরা খাজনা দিতে পারেন না। নামজারি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে দেশে ভূমি প্রশাসন আরও জবাবদিহিমূলক ও জনগণের সেবায় নিবেদিত হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ