MD. Razib Ali
Senior Reporter
ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফরে আসবে কিনা জানা গেল
বহুল আলোচিত ইসলামিক বক্তা ড. জাকির নায়েকের পাঁচ জেলায় আয়োজিতব্য বিশাল ধর্মীয় বক্তৃতার সফরটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে সকল প্রকার অনুমোদন পাওয়ার পরও নির্বাচনের কারণে এমন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা।
আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে তারা এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বক্তাকে দেশে আনার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে সরকারি অনুমতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি লাভ করার পর আগামী ২০২৫ সালের ২৮ ও ২৯শে অক্টোবর ঢাকায় এই মেগা লেকচার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও বগুড়ায় আরও পাঁচটি জেলায় তাঁর আগমন ও বক্তৃতার কর্মসূচি ছিল।
প্রথমদিকে ঢাকার অনুষ্ঠানটির স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিপুল সংখ্যক দর্শকের আগমন প্রত্যাশা করে, পরে এটি বাংলাদেশ প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোক্তারা জানান, একটি বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে ইভেন্টের প্রায় আশি শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে "ফুল-প্রুফ" ও ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সকল বাহিনীর কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা নেওয়া হয়, যা দেশের যেকোনো ইভেন্টের জন্য এক বিরল ব্যবস্থা। প্রশাসনিক স্তরেও যা যা প্রথাগত নথিপত্র এবং অনুমতি দরকার, তার চেয়েও বেশি ব্যবস্থা তারা প্রস্তুত রেখেছিলেন।
আশ্চর্যজনকভাবে, ৪ঠা নভেম্বর উদ্যোক্তারা যখন মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত ছিলেন, তখনও অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করার বিষয়ে তাদের অবগত করা হয়নি। আয়োজকরা গভীর রাতে, প্রায় ১১টায়, একটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠান স্থগিতের অপ্রত্যাশিত খবরটি জানতে পেরে হতবাক হন।
তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলীয় ব্যানারের ইভেন্ট ছিল না। দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং আসন্ন নির্বাচন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী মার্চ মাসে পরিবর্তিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে, যেহেতু সকল ধরনের আয়োজন ও প্রস্তুতি বিদ্যমান রয়েছে। আয়োজকরা এই মর্মে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কেউ এই বিষয়টিকে অন্যভাবে প্রচার না করে এবং সকলের আগে দেশ ও দেশের মানুষের গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়।
তানভির ইসলাম/