Alamin Islam
Senior Reporter
ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে মহানগরী! ৮০% বহুতল ভবন ধসের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: Zone-4 এর কেন্দ্রে সিলেট, ৮০% ভবন ঝুঁকিতে
এক অভূতপূর্ব ভূ-তাত্ত্বিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সিলেট মহানগরী। জাতীয় মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সিজমিক জোন-৪ এর একেবারে কেন্দ্রে এই শহরের অবস্থান। বিশ্বখ্যাত ভূ-তত্ত্ববিদ এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত পূর্বাভাস বলছে, যেকোনো মুহূর্তে এই অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে এক বিশাল মাত্রার ভূমিকম্প, যার পরিণামে নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বহুতল কাঠামো ধসে যেতে পারে। বর্তমানে ৬ লক্ষাধিক বাসিন্দার এক বিশাল অংশই এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন।
ডাউকি ফল্ট: সিলেটের বিপর্যয়ের উৎস
সিলেটের এই ভয়াবহ সিসমিক দুর্বলতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডাউকি ফল্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্টোরির বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বখ্যাত সিসমোলজিস্ট ড. জেমস বার্গম্যান এবং ভূ-তত্ত্ববিদ ড. মাইকেল স্টার্ন এই ডাউকি ফল্টকে একটি বৃহৎ বিপরীত চ্যুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেঙ্গল বেসিনের দক্ষিণে অবস্থিত এই বিশাল ভূতাত্ত্বিক কাঠামোটিই শিলং মালভূমিকে উপরের দিকে ঠেলে তুলছে। যেহেতু সিলেট অঞ্চল এই ফল্ট লাইনের চরম কাছাকাছি, তাই এখানে সৃষ্ট যেকোনো কম্পনের তীব্রতা হবে কল্পনাতীতভাবে বেশি।
স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেট নগরীর অর্ধেকেরও বেশি (৫০ শতাংশের ঊর্ধ্বে) বহুতল ভবন টিকে থাকতে পারবে না। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) পুরাতন ও বর্ধিত সীমানায় মোট ৭০ হাজার বহুতল ভবন রয়েছে। এখানকার ৬ লক্ষাধিক মানুষের ৬০ শতাংশই এই সমস্ত বহুতল বা আধা-বহুতল ভবনের বিপজ্জনক কাঠামোর ভেতরে বাস করেন।
বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন: ৬০-৬৫% ভবনের দুর্বলতা উন্মোচিত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রকৌশলীদের জরিপ ও গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য: নগরীর মোট বহুতল ভবনের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই বিল্ডিং কোড মানদণ্ডকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নির্মিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে এসব কোড-লঙ্ঘনকারী ভবনগুলোই সবচেয়ে আগে ভেঙে পড়বে।
শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, নকশা প্রণয়ন এবং নির্মাণ কার্যক্রমে দুই দফায় অবহেলার কারণে বহুতল ভবনের সহনীয় ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি কমে আসে।
সিসিক কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও উদ্ধার ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা
এই চরম ঝুঁকির মুখেও সিসিক প্রশাসনের কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে চরম উদাসীনতা। জানা গেছে, সিসিক অতি ঝুঁকিপূর্ণ ২৩টি ভবন চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি ভবন ভাঙা হয়েছে। বাকি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো গুলো এখনও পর্যন্ত বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিলেটের রাস্তাঘাট এমনিতেই খুব সরু ও অপ্রশস্ত। ফলে যে কোনো বড় ধরনের ডিজাস্টারের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ: ৪০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন? তালিকা প্রকাশ!
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি: শেষ ম্যাচ জানুন ফলাফল
- বিএনপির বৈঠক: ৪০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে আসলো সিদ্ধান্ত
- আজকের সোনার দাম:( শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫)
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি: খেলাটি লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ভূমিকম্প রেড জোন: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে দেশের যে ৯ জেলা, দেখুন তালিকা
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড প্রথম টি-২০: খেলাটি সরাসরি দেখুন Live
- আজকের সোনার দাম:(বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫)
- earthquake today : বাংলাদেশে আবারও ভূমিকম্প,উৎপত্তিস্থল কোথায়
- আজকের ফজরের নামাজের শেষ সময়: ( শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫)
- আজ বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কিভাবে দেখবেন লাইভ
- ব্রাজিল বনাম ইতালি: টাইব্রেকারে শেষ হলো ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- আজ ২৮ নভেম্বর দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাম কত
- আজকের স্বর্ণের দাম: আজ ২৮ নভেম্বর২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত
- আজকের আবহাওয়া খবর বাংলাদেশ: ঘূর্ণিঝড় 'ডিটওয়াহ' সমুদ্র বন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা!