ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

৩ বছর খাজনা না দিলেই জমি খাস! আসছে মালিকানার স্মার্ট কার্ড

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০১ ১২:৪৩:৪৬
৩ বছর খাজনা না দিলেই জমি খাস! আসছে মালিকানার স্মার্ট কার্ড

ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা আনতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। দেশে প্রথমবারের মতো কিউআরকোড বা ইউনিক নম্বর সম্বলিত ‘ভূমি মালিকানা সনদ (সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ–সিএলও)’ নামের একটি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে ভূ-সম্পত্তির মালিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে চূড়ান্ত বৈধ দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এর পাশাপাশি, প্রস্তাবিত নতুন আইনে টানা তিন বছর ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

‘ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়ায় মালিকানা নিশ্চিতকরণ, জমি জালিয়াতি রোধ, এবং উর্বর কৃষিজমি সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।

ডিজিটাল সনদ (CLO): ভূ-সম্পত্তির মালিকানার প্রধান ভিত্তি

সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত এই অত্যাধুনিক ‘ভূমি মালিকানা সনদ (সিএলও)’ ভবিষ্যতে ভূমির মালিকানা যাচাইয়ের মুখ্য মাধ্যম হবে। শুধু মালিকানা নয়, এই স্মার্ট কার্ডটি ব্যবহার করে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কাজটিও সম্পন্ন করা যাবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এই নতুন আইন কার্যকর হলে জমির সমস্ত তথ্য-উপাত্ত একটি কার্ডেই সংরক্ষিত থাকবে।

টানা ৩৬ মাস কর বকেয়া: সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনে!

ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত খসড়া আইনে কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে যদি টানা ৩৬ মাস (তিন বছর) ভূমি উন্নয়ন কর অপরিশোধিত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট জমিটিকে বাজেয়াপ্ত করে খাস জমি হিসেবে ঘোষণা করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জমি জালিয়াতি ও অবৈধ দখলের চরম শাস্তি

ভূমি জালিয়াতি ও অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের মতো অপরাধ দমনের লক্ষ্যে আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের ভূমি অন্যায়ভাবে হস্তগত করেন, তবে তাঁকে সর্বোচ্চ ২৪ মাস কারাদণ্ড, পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।

নামজারি ও সনদের নিয়মিত নবায়ন আবশ্যিক

নতুন আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর অবশ্যই নামজারি ও রেকর্ডপত্র অবিলম্বে হালনাগাদ করা আবশ্যক করা হয়েছে। মালিকানা পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে সিএলও বা মালিকানা সনদটি সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে নিয়মিতভাবে নবায়ন করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত সনাতন ‘দাখিলা’ পদ্ধতির তুলনায় এই প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সরলীকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে, উল্লেখ্য, এই আইন দেশের তিন পার্বত্য জেলায় বলবৎ হবে না।

উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর নিয়ম

খসড়া আইনে কৃষিজমি রক্ষায় একাধিক সুরক্ষামূলক ধারা যোগ করা হয়েছে:

অধিগ্রহণের নীতিমালা: জরুরি সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের নীতিমালায় প্রথমত অনুৎপাদনশীল বা অনুর্বর জমিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বি-ফসল বা ত্রি-ফসল জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনস্বার্থে বিশেষ প্রয়োজন হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি অপরিহার্য হবে। জমি দুই না তিন ফসলি—তা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত দেবেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন ত্রি-সদস্যের কমিটি।

শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ: স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে ভূমিকে কৃষি, অকৃষি, আবাসিক ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা হবে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। ব্যতিক্রম কেবল ব্যক্তি মালিকানায় এক বিঘার নিচে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

বাসস্থানে উৎসাহ: কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং বহুতল ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করতে গ্রামীণ এলাকায় সহজ শর্তে গৃহঋণের নির্দেশনাও খসড়ায় যুক্ত হয়েছে। শিল্পকারখানা বা অফিস নির্মাণের ক্ষেত্রেও অনুর্বর কৃষিজমিকেই আগে বিবেচনা করতে হবে।

চলাচলের পথ বন্ধ করলে শাস্তি

কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলে, আলোচনার মাধ্যমে বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে রাস্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিষয়ে রাজি না হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং অমান্যকারীকে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ