MD Zamirul Islam
Senior Reporter
যে পাপ বা গুনাহ গুলো করলে রিযিক বন্ধ হয়ে যায়
সাবধান! রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি ভয়াবহ গুনাহ: জেনে নিন সুরা ও হাদিসের রেফারেন্সসহ
আমাদের জীবনে অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের পরেও অভাব দূর হয় না। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কেবল পরিশ্রমই নয়, বরং কিছু সুনির্দিষ্ট গুনাহের কারণে মানুষের রিযিকের বরকত উঠে যায় এবং দারিদ্র্য জেঁকে বসে। পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে এমন ২০টি গুনাহ চিহ্নিত করা হয়েছে যা মানুষের রিযিকের পথ বন্ধ করে দেয়।
আজকের প্রতিবেদনে আমরা রিযিক কমে যাওয়ার সেই ২০টি কারণ বিস্তারিত জানবো:
১. সুদ (Riba): আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ
সুদ এমন এক জঘন্য ব্যবস্থা যার ফলে রিযিকের সব বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।
রেফারেন্স: পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৯-এ আল্লাহ বলেন, "যদি তোমরা সুদ বর্জন না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।"
২. অকৃতজ্ঞতা: পাওয়া নেয়ামতকে তুচ্ছ করা
আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে সেই নেয়ামত কেড়ে নেওয়া হয়।
রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৭-এ আল্লাহ বলেন, "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো আমার শাস্তি বড়ই কঠোর।"
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করা রিযিক সংকীর্ণ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ২৯৮৬)-তে বর্ণিত আছে, "যে ব্যক্তি তার রিযিক প্রশস্ত করতে এবং আয়ু বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।"
৪. ব্যবসায় অসততা
ব্যবসায় মিথ্যা বলা বা ওজনে কম দেওয়া সাময়িক লাভ মনে হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট করে।
৫. প্রতারণা বা হক নষ্ট করা
কারও প্রাপ্য অধিকার বা টাকা আত্মসাৎ করা জীবনে স্থায়ী অভাব ডেকে আনে।
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ১০২)-এ রাসূল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
৬. সালাতে অবহেলা করা
নামাজে অবহেলা করলে জীবন থেকে বরকত উঠে যায়। অনেক ওলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন যে, "নিশ্চয়ই রিযিক সালাতের মধ্যে নিহিত।"
৭. গীবত বা পরনিন্দা
অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা নিজের অর্জিত বরকতকে পুড়িয়ে ফেলে।
রেফারেন্স: সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২-তে আল্লাহ গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছেন।
৮. অহংকার করা
অহংকার মানুষের ভাগ্যের দরজা বন্ধ করে দেয়।
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ৯১)-এ বর্ণিত আছে, "যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" আর জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া মানেই শ্রেষ্ঠ রিযিক থেকে বঞ্চিত হওয়া।
৯. যাকাত আটকে রাখা
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং তা ক্রমে ধ্বংস হতে থাকে।
রেফারেন্স: সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৪-৩৫-এ যাকাত আদায় না কারীদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম
অধীনস্থদের পারিশ্রমিক ও অধিকার নিয়ে টালবাহানা করলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
রেফারেন্স: ইবন মাজাহ (হাদিস নং: ২৪৪৩)-এ রাসূল (সা.) বলেছেন, "মজদুরের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।"
১১. বেচাকেনায় পণ্যের দোষ লুকানো
পণ্যের ত্রুটি লুকিয়ে রেখে বিক্রি করলে সেই আয়ের বরকত আল্লাহ তুলে নেন।
১২. সীমাহীন লোভ
কেবল "আরও চাই" মনোভাব মানুষকে কখনো তৃপ্ত করে না, ফলে সে অভাবীই থেকে যায়।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ৬৪৩৯)-তে বর্ণিত, "আদম সন্তানকে যদি দুই উপত্যকা ভরা সম্পদ দেওয়া হয়, তবে সে তৃতীয়টি পেতে চাইবে।"
১৩. বাবা-মাকে অবহেলা
সন্তানের রিযিকের প্রশস্ততা বাবা-মায়ের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে।
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিমের বিভিন্ন রেওয়ায়েতে প্রমাণিত যে, বাবা-মায়ের সেবায় আয়ু ও রিযিক বৃদ্ধি পায়।
১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন
জোর করে কারও জমি বা সম্পদ দখল করলে তাতে লানত বর্ষিত হয়।
১৫. সদকা বা দান না করা
অনেকে মনে করেন দান করলে টাকা কমে যায়, আসলে বিষয়টি উল্টো।
রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং: ২৫৮৮)-এ বলা হয়েছে, "সদকা করলে সম্পদ কমে না।" অর্থাৎ সদকা না করলে সম্পদ থেকে বরকত হারিয়ে যায়।
১৬. অন্যের প্রতি হিংসা
অন্যের উন্নতি দেখে হিংসা করা নিজের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনে।
১৭. নারীদের ও শিশুদের ওপর জুলুম
পরিবারের দুর্বল সদস্যদের প্রতি কঠোর হওয়া বা তাদের ওপর জুলুম করলে রিযিক উঠে যায়।
১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া
ব্যবসায় পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করলে লাভ হলেও বরকত নষ্ট হয়।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি (হাদিস নং: ২০৮৭)-তে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
১৯. অলসতা
আল্লাহ তায়ালা চেষ্টা ও পরিশ্রমকে পছন্দ করেন। অলস বসে থাকা মানুষের রিযিকের পথ রুদ্ধ হয়।
২০. তাকদির বা ভাগ্যের ওপর অসন্তুষ্টি
আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট না হয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।
রেফারেন্স: তিরমিজি (হাদিস নং: ২৫১০)-তে বলা হয়েছে, "আল্লাহর সিদ্ধান্তে যে সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ তার হৃদয়কে অভাবমুক্ত করে দেন।"
রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তবে আমাদের করা এই ভুল বা গুনাহগুলো আমাদের রিযিকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আসুন, আমরা এই ২০টি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকি এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে হালাল পথে চলার চেষ্টা করি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- রোনালদোর মাইলফলক থেকে ৬ গোল বাদ পড়ায় তোলপাড়
- এক লাফে বাড়লো সোনার দাম, জানুন ২২ স্বর্ণের দাম
- খেলার মাঝেই নিখোঁজ ৭ ফুটবলার! তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল
- রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম: ৩ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে সোনা
- বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, দেশের যেসব এলাকায়
- বিসিবিতে বড় ধামাকা: তামিম ইকবালকে নতুন সভাপতি ঘোষণা
- আজকের খেলার সময়সূচি:বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো
- বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো: সম্ভাব্য একাদশ ও প্রেডিকশন
- এডহক কমিটিতে থাকা কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?
- বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের নজর ১৬ এপ্রিল: বড় লভ্যাংশের আভাস
- ৬০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৩ জেলায় বড় সতর্কতা
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (৭ এপ্রিল ২০২৬)
- পিএসজি বনাম লিভারপুল: সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচ প্রেডিকশন
- সংসদে নতুন আইন পাস: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ
- নতুন এডহক কমিটির প্রথম সভা আজকেই