ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

৬১৫০ কোটির ক্ষতি রুখতে বিসিবিকে ৩ বড় সুবিধা দিচ্ছে আইসিসি

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ০৯:৫৫:০২
৬১৫০ কোটির ক্ষতি রুখতে বিসিবিকে ৩ বড় সুবিধা দিচ্ছে আইসিসি

বিশ্ব ক্রিকেটে ঘনীভূত হওয়া সংকট নিরসনে অবশেষে কার্যকর পদক্ষেপ নিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশের আপত্তির জেরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিসিবিকে তিনটি বড় ধরনের বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। মূলত ভারত-পাকিস্তান মহারণ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা এবং এর ফলে সম্ভাব্য ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতেই আইসিসি এমন সমঝোতার পথে হেঁটেছে।

পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল?

নিরাপত্তা ও অন্যান্য ইস্যুতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে আইসিসি টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানও আসন্ন ১৫ ফেব্রুয়ারির হাই-ভোল্টেজ ভারত ম্যাচটি বয়কটের হুমকি দিয়ে বসে। এই বিশাল বাণিজ্যিক ধস ঠেকাতে রোববার লাহোরে পিসিবি ও বিসিবির প্রতিনিধিদের নিয়ে ৫ ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠকে বসে আইসিসি।

বিসিবির ‘অভিযোগ’ ও আইসিসির ‘সমাধান ফর্মুলা’

সূত্রমতে, বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের ওপর হওয়া দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরে। আইসিসি বিসিবির প্রতিটি পয়েন্টকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং সংকট উত্তরণে একটি বিশেষ ‘ফর্মুলা’ প্রস্তাব করেছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা পেতে যাচ্ছে:

১. আর্থিক ক্ষতিপূরণ: বিশ্বকাপে অনুপস্থিতির কারণে বিসিবি যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা নগদ অর্থে পুষিয়ে দেবে আইসিসি।

২. টুর্নামেন্টের লভ্যাংশ: টুর্নামেন্টে না খেলেও মূল আয়ের (Dividend) একটি অংশ বিসিবির তহবিলে জমা হবে।

৩. ভবিষ্যৎ হাইব্রিড মডেল: ভবিষ্যতে ভারতের আয়োজনে কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থাকলেও বাংলাদেশকে সেখানে ‘হাইব্রিড মডেলে’ (অন্য ভেন্যুতে) খেলার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি সেতুর মতো কাজ করেছে। মূলত আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেছে তারা।

রোববারের দীর্ঘ আলোচনার পর আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বোর্ড সভায় ফিরে গেছেন। অন্যদিকে, বিসিবি সভাপতি উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করতে দেশে ফিরেছেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ সোমবার দুপুর নাগাদ দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ হতে পারে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ