MD. Razib Ali
Senior Reporter
নতুন পে স্কেলে বেতন কবে থেকে কার্যকর হবে
দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা 'নবম পে স্কেল' কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে চলা এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি খাতের বেতন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা এবং বৈষম্য কমিয়ে আনা।
তিন ধাপের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সময়সীমা
নতুন এই কাঠামোটি হঠাৎ করেই নয়, বরং সুশৃঙ্খলভাবে তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের ছক কষা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করবে। এরপর সেই প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করা হবে।
গ্রেড সংখ্যা হ্রাস ও বেতনের নতুন পরিসীমা
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো বিদ্যমান ২০টি গ্রেডকে কমিয়ে মাত্র ১৩টি গ্রেডে রূপান্তর করা। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ধাপের সম্ভাব্য বেতন চিত্র
কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক দশকে কর্মচারীদের বেতন গড়পড়তায় ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় দেখা যায়:
দ্বিতীয় গ্রেড: ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৬ টাকা।
পঞ্চম গ্রেড: ৮৩ হাজার ২০ টাকা।
অষ্টম গ্রেড: ৪৪ হাজার ৪০৬ টাকা।
দশম গ্রেড: ৩০ হাজার ৮৯১ টাকা।
সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেড: ১৫ হাজার ৯২৮ টাকা।
রাজপথে আন্দোলনের মেঘ
নতুন স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় মাঠপর্যায়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর সমন্বয় পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট না এলে ১ জানুয়ারি থেকে তারা 'লং মার্চ'-এর মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাবে। এই পরিস্থিতি প্রশাসনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাড়তি টাকা কর্মচারীদের হাতে গেলে তাদের কেনাকাটার ক্ষমতা বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। তবে এই বিশাল অংকের বাজেট সামলানো এবং এর ফলে বাজারে যাতে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি না ঘটে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
সরকারি কর্মচারীরা আশা করছেন, ২০২৬ সালের এই নতুন শুরু কেবল তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়াবে না, বরং তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করবে। এটি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে এবং জনসেবাকে আরও গতিশীল করতে উৎসাহ জোগাবে। তবে সবকিছুর মূল চাবিকাঠি এখন গেজেট প্রকাশ ও এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন যিনি
- ‘জেড’ক্যাটাগরিতে নামলো দুই কোম্পানির শেয়ার
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তারেক রহমান: বিএনপির মন্ত্রিসভায় থাকছেন যারা
- আওয়ামী লীগ কবে রাজনীতিতে ফিরতে পারবে যা জানালেন তারেক রহমান
- আজ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- চলছে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- শপথের তারিখ চূড়ান্ত, জানুন কবে
- আজ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম
- আজকের খেলার সময়সূচি:ভারত বনাম পাকিস্তান
- রমজানজুড়ে স্কুল বন্ধ থাকবে কিনা জানিয়ে দিল হাইকোর্ট
- যে ৩০ আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জামায়াত জোটের
- পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পরিকল্পনা