দলিল থাকলেও জমি বাতিল! জেনে নিন ঝুঁকিতে থাকা ৫ ধরনের সম্পত্তির কথা
এতদিন জমি বা ভূসম্পত্তির মালিকানার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দলিলকে বিবেচনা করা হলেও, সেই ধারণায় আমূল পরিবর্তন আনছে সরকার। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে সম্প্রতি এক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যাপ্ত দলিল থাকা সত্ত্বেও অন্তত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট কারণে জমির মালিকানা ও দখল বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
প্রচলিত একটি কথা আছে— ‘দলিল যার, ভূমি তার’। তবে মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্র বলছে, সব ক্ষেত্রে এই সূত্র এখন আর কাজ করবে না। বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে দলিল থাকলেও আদালতের রায় ছাড়া জমির দখলকে বৈধ বলা যাবে না।
মালিকানা বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা ৫ ধরনের জমি
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিচের ৫টি বিষয়ের যেকোনো একটির মধ্যে পড়লে আপনার জমির মালিকানা বা দখলদারিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে:
১. উত্তরাধিকার ঠকিয়ে করা দলিল
বণ্টননামা বা ফারায়েজ না মেনে যদি কোনো সাব-কবলা দলিল করা হয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীকে তার পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে সেই দলিল বাতিলযোগ্য। বঞ্চিত উত্তরাধিকারী যদি আইনি পদক্ষেপ নেন, তবে বর্তমান দখলদারের দলিল খারিজ হয়ে যাবে।
২. শর্তযুক্ত বা ত্রুটিপূর্ণ হেবা
যিনি জমি দান (হেবা) করছেন, তিনি যদি ওই জমির প্রকৃত মালিক না হন কিংবা হেবা করার সময় আইনি প্রক্রিয়া ও শর্ত যথাযথভাবে পালন না করা হয়, তবে সেই দলিলটিও টেকসই হবে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে দানপত্রটি বাতিল করে জমির দখল পুনরুদ্ধারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
৩. জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিল
বর্তমান আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় জাল দলিল শনাক্ত করা অত্যন্ত সহজ। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড জালিয়াতি করে তৈরি করা কোনো দলিল যদি প্রকৃত মালিক যথাযথ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেন, তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।
৪. খাস জমির ব্যক্তিগত রেকর্ড
সরকারের মালিকানাধীন ‘খাস খতিয়ানভুক্ত’ জমি অনেক সময় অসাধু উপায়ে ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি জমি ব্যক্তি নামে বিক্রি করা হলেও সেই দলিল কোনো আইনি ভিত্তি পাবে না। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসব জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নিতে।
৫. অর্পিত সম্পত্তির অবৈধ দখল
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পরিত্যক্ত বা ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত জমি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত মালিকানায় বা দখলে রাখা যাবে না। এসিল্যান্ড বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই ধরনের জমিগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারের জিম্মায় নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা ছাড়া দখল নয়
সরকারি পরিপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লেখিত এই পাঁচ শ্রেণির জমির দখলদাররা যদি দীর্ঘদিন ধরে সেই জমি ভোগও করেন, তবুও আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া তাদের দখলকে বৈধতা দেওয়া হবে না। তাই এ ধরনের বিতর্কিত জমির মালিকদের দ্রুত আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই কঠোর অবস্থান?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—
সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা।
ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করা।
প্রকৃত ভূমি মালিকদের অধিকার সুরক্ষিত করা।
এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি ভূমিহীন ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এক লাফে কমলো স্বর্ণের দাম
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা দেখুন
- সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা যে দিন থেকে শুরু হবে
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যেরোজার আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা
- শেয়ারবাজারের সময়সূচিতে পরিবর্তন
- ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় শাস্তি: ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো দুই কোম্পানির শেয়ার
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: দেখেনিন কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন?
- বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকছেন যারা? দেখুন তালিকা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: ৫০ জনের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ
- বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা: শপথের ডাক পাওয়া ৪৮ জনের তালিকা প্রকাশ
- সূর্য গ্রহণ 2026 বাংলাদেশ সময়: আজ কখন দেখবেন?
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- 2026 ramadan calendar: বাংলাদেশে রোজা কবে থেকে জানুন
- বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ, নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন কারা? দেখুন তালিকা