ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল ফোনের পার্থক্য কী? কোনটি কেনা ভালো হবে?

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:৩০:৪৫
অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল ফোনের পার্থক্য কী? কোনটি কেনা ভালো হবে?

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। তবে শোরুমে ফোন কিনতে গেলেই আমরা দুটি শব্দের মুখোমুখি হই— ‘অফিশিয়াল’ এবং ‘আনঅফিশিয়াল’। একই মডেলের ফোনে দামের পার্থক্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অনেকেই কম দামে ভালো ফোন পাওয়ার আশায় আনঅফিশিয়াল ফোনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু এই দুই ধরনের ফোনের মধ্যে আসল পার্থক্য কী এবং কোনটি কেনা আপনার জন্য নিরাপদ হবে? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

অফিশিয়াল ফোন কী?

অফিশিয়াল ফোন হলো সেই সব ফোন যা দেশের অনুমোদিত ডিলার বা ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ সরাসরি সরকারি কর (Tax) এবং ভ্যাট দিয়ে বৈধভাবে আমদানি করে। এই ফোনগুলোর আইএমইআই (IMEI) নম্বর বিটিআরসি-র (BTRC) ডাটাবেজে নিবন্ধিত থাকে।

আনঅফিশিয়াল ফোন কী?

আনঅফিশিয়াল ফোন মূলত কর ফাঁকি দিয়ে বা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ থেকে আনা ফোন। এগুলো দেশের অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে আসে না। ফলে এই ফোনগুলোর তথ্য সরকারের বা বিটিআরসি-র ডাটাবেজে থাকে না। তবে ফোনগুলো আসল ব্র্যান্ডেরই হয়ে থাকে।

অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল ফোনের মূল পার্থক্যসমূহ:

১. ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা:

অফিশিয়াল ফোনের সাথে আপনি ব্র্যান্ডের ১ বছরের পার্টস ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাবেন। ফোনের কোনো সমস্যা হলে আপনি সরাসরি ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার থেকে সেবা নিতে পারবেন। অন্যদিকে, আনঅফিশিয়াল ফোনে ব্র্যান্ডের কোনো ওয়ারেন্টি থাকে না। বিক্রেতারা শুধু সীমিত সময়ের জন্য ‘শপ ওয়ারেন্টি’ দিয়ে থাকেন, যা অনেক সময় নির্ভরযোগ্য হয় না।

২. আইএমইআই নিবন্ধন ও আইনি ঝুঁকি:

অফিশিয়াল ফোনের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসি-তে নিবন্ধিত থাকে, যা বৈধতার প্রমাণ। সরকার বর্তমানে অবৈধ বা আনঅফিশিয়াল ফোন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে আনঅফিশিয়াল ফোন কিনলে ভবিষ্যতে সেটি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে।

৩. দামের পার্থক্য:

অফিশিয়াল ফোনে সরকারকে উচ্চহারে ট্যাক্স দিতে হয়, তাই এর দাম কিছুটা বেশি। আনঅফিশিয়াল ফোন কর ফাঁকি দিয়ে আসে বলে এর দাম তুলনামূলক কম হয়।

৪. সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক:

অফিশিয়াল ফোনে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের উপযোগী সফটওয়্যার বা গ্লোবাল রম (ROM) থাকে। আনঅফিশিয়াল ফোনে অনেক সময় অন্য দেশের (যেমন চীন বা ভারত) রম থাকে, যার ফলে নেটওয়ার্ক সমস্যা বা সফটওয়্যার আপডেটে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কোনটি কেনা ভালো হবে?

অফিশিয়াল ফোন কিনুন যদি:

আপনি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি চান।

ব্র্যান্ডের আসল ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস নিশ্চিত করতে চান।

বিটিআরসি-র নিয়ম মেনে বৈধ ফোন ব্যবহার করতে চান।

বাজেট নিয়ে খুব বেশি সীমাবদ্ধতা না থাকে।

আনঅফিশিয়াল ফোন কেনা কি ঠিক?

বাজেট খুব কম হলে অনেকেই এটি কেনেন। তবে বর্তমানে সরকারের কড়াকড়ির কারণে আনঅফিশিয়াল ফোন কেনা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে আপনার শখের ফোনটি যেকোনো সময় অকেজো (নেটওয়ার্ক লক) হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে অফিশিয়াল ফোন কেনাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

ফোন কেনার আগে কীভাবে চেক করবেন?

আপনি যে ফোনটি কিনছেন সেটি বৈধ বা অফিশিয়াল কি না, তা যাচাই করা এখন খুব সহজ। ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন KYD ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬০০২ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনি ফোনটি নিবন্ধিত কি না তা জানতে পারবেন।

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই অল্প কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া ঠিক হবে না। নিরাপদ অভিজ্ঞতা এবং সরকারি নিয়ম মেনে অফিশিয়াল স্মার্টফোন কেনাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ