MD. Razib Ali
Senior Reporter
বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো
দেশের ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চরম অব্যবস্থাপনা আর ঋণের ভারে ন্যুব্জ ৬টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) পুরোপুরি বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা আরও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের সংশোধনের জন্য শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণী বোর্ড সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালিকায় থাকা ৬ প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নির্ধারণ
দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং নজিরবিহীন খেলাপি ঋণের কারণে যে ৬টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো হলো— পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং অ্যাভিভা ফাইন্যান্স।
বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলুপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া বা অবসায়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।
শেষ সুযোগ পেল যারা
প্রাথমিক তালিকায় থাকা ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠান— জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি-কে এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না। গত সপ্তাহের শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া কর্মপরিকল্পনা বিবেচনা করে তাদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কেন এই চরম পরিণতি?
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত ধসে পড়েছে। বিশেষ করে আলোচিত পিকে হালদার একাই চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই ৬টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশের ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের মে মাসে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারের কার্যকর পরিকল্পনা না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর অবস্থানে পৌঁছেছে।
আমানতকারীদের জন্য সুখবর: ফেব্রুয়ারিতেই মিলবে টাকা
সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, এই ৬টি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ আমানতকারীরা তাদের জমানো মূল টাকা ফেরত পেতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ শুরু হবে।
অর্থ ফেরত পাওয়ার শর্তাবলী:
১. আমানতকারীরা শুধুমাত্র তাদের জমা রাখা আসল টাকা পাবেন।
২. জমানো টাকার ওপর কোনো ধরনের সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে না।
৩. আমানত মেটাতে সরকারকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিলের মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
৪. প্রথমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন করা হবে। সম্পদ বিক্রির অর্থ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা মেটানোর পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবেই শেয়ারহোল্ডাররা ভাগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে দেশের নড়বড়ে আর্থিক খাতকে সংস্কার করার এক বলিষ্ঠ প্রয়াস হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার
- Yamaha FZS V5 Hybrid-এর দাম কত? ফিচার ও মাইলেজ জানুন
- Royal Enfield Himalayan 750-এর দাম ও লঞ্চ নিয়ে যা জানা গেল