MD Zamirul Islam
Senior Reporter
শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখ
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারো আমাদের মাঝে সমাগত হতে যাচ্ছে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকে মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে। এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা কারীদের ক্ষমা করে দেন।
নিচে কুরআন ও হাদীসের আলোকে শবে বরাতের গুরুত্ব, নামাজের নিয়ম ও দোয়াসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. শবে বরাতের গুরুত্ব ও হাদীসের রেফারেন্স
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের; নিশ্চয়ই আমি তা এক বরকতময় রাতে নাজিল করেছি।” (সূরা আদ-দুখান: ১-৩)। অনেক মুফাসসিরের মতে, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে শবে বরাতকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে, যদিও অধিকাংশের মতে এটি লাইলাতুল কদর।
হাদীস শরিফে এই রাতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যখন শাবান মাসের পনেরতম রাত আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত কর এবং দিনে রোজা রাখ। কেননা সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন— আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক অন্বেষণকারী, যাকে আমি রিজিক দেব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি বিপদ মুক্ত করব? এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ ঘোষণা করতে থাকেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৮)।
২. শবে বরাতের নামাজের নিয়ম
শবে বরাতের জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির নামাজ হাদীসে বর্ণিত হয়নি। এই রাতে মূলত নফল ইবাদত করা হয়। নফল নামাজের সাধারণ নিয়মেই এই নামাজ পড়তে হয়।
নিয়ত: “আমি দুই রাকাত নফল নামাজ কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করছি— আল্লাহু আকবার।” (নিয়ত মনে মনে করাই যথেষ্ট)।
রাকাত সংখ্যা: শবে বরাতের নামাজের কোনো নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই। ২ রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ পড়া যায়। অনেকে এই রাতে ৮, ১২ বা ২০ রাকাত নামাজ আদায় করেন।
সূরা পাঠ: নফল নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর পবিত্র কুরআনের যেকোনো সূরা পড়া যায়। তবে দীর্ঘ কিরাত বা অধিক তিলাওয়াত করা সওয়াবের কাজ।
অন্যান্য ইবাদত: নামাজের পাশাপাশি এই রাতে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও তওবা-ইস্তিগফার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৩. বিশেষ দোয়া ও আমল
শবে বরাতের নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে কোনো বরকতময় রাতে মাগফিরাতের দোয়া করতেন। এই রাতে নিচের দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া যেতে পারে:
তওবা ও ইস্তিগফার: আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
দরুদ শরিফ: রাসূল (সা.) এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
সাধারণ দোয়া: নিজের জন্য, পিতা-মাতা ও সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চেয়ে দোয়া করা।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি এক রাতে রাসূল (সা.)-কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দোয়া করতে দেখলাম। তিনি তখন বললেন, “এই রাতে আল্লাহ তাআলা বনু কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের চাইতেও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন।” (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।
৪. শবে বরাতের রোজা
হাদীস অনুযায়ী শাবান মাসের ১৫ তারিখে (শবে বরাতের পরের দিন) রোজা রাখা মুস্তাহাব বা সওয়াবের কাজ। এছাড়া আইয়ামে বিজের (চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রোজা রাখাও সুন্নত।
সতর্কতা:
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আতশবাজি, আলোকসজ্জা বা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা ইসলাম সমর্থন করে না। এটি ইবাদত ও তওবা-ইস্তিগফারের রাত, তাই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়াই মুমিনের কাজ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এই পবিত্র রজনীতে সঠিকভাবে ইবাদত করার এবং তাঁর ক্ষমা লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
২০২৬ সালের ইসলামি পঞ্জিকা অনুযায়ী শবে বরাত, রমজান ও হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলো পালনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুসারে, সামর্থ্যবান ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য এসব ইবাদত পালন করা অপরিহার্য। তবে ইসলাম কেবল পরকালীন মুক্তির জন্য ইবাদত নয়, বরং ইহকালীন জীবনের জীবিকা অন্বেষণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।
কর্ম ও ধর্ম: ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান
ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী, একজন মুমিন ব্যক্তিকে তার ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপার্জনের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। কেবল ইবাদতে মগ্ন থেকে সংসার বিরাগী হওয়া যেমন ইসলামের শিক্ষা নয়, তেমনি পার্থিব উন্নতিতে ডুবে থেকে স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়াও কাম্য নয়।
জীবিকা ও ইবাদতের এই মেলবন্ধন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা জুমআ’র ১০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
‘অতঃপর যখন নামাজ শেষ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান কর; আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’
ইসলামি সংস্কৃতির আনন্দ ও ফজিলত
ইসলাম মানুষের সহজাত আনন্দ-উৎসবের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে না। তবে জাহেলি যুগের অপসংস্কৃতি দূর করে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য দুটি পবিত্র উৎসব নির্ধারণ করেছেন।
মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন দেখলেন মদিনাবাসী গান-বাজনা ও ঢোল-তবলার মাধ্যমে দুটি উৎসব পালন করছে, তখন তিনি তাদের এই প্রথা অপছন্দ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই দুটি দিনের পরিবর্তে আরও উত্তম দুটি দিন দান করেছেন; একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১১৩৪)
পার্থিব আনন্দের পাশাপাশি বছরের কিছু বিশেষ রাত ও দিনে ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব বা ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন—শবে বরাত, শবে কদর ও আশুরার মতো দিনগুলোতে নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ থাকে।
একনজরে ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি দিবসসমূহ
আগামী ২০২৬ সালে শবে বরাত, রমজান ও ঈদসহ বিভিন্ন ইবাদতের সম্ভাব্য তারিখগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
শবে মেরাজ: ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার (দিবাগত রাত)।
শবে বরাত: ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার (দিবাগত রাত)।
পবিত্র রমজান শুরু: ১৮ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।
জুমাতুল বিদা: ১৩ মার্চ।
শবে কদর: ১৫ মার্চ, রবিবার (দিবাগত রাত)।
ঈদুল ফিতর: ১৯ বা ২০ মার্চ (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
হজ পালন: ১৪ মে থেকে শুরু হতে পারে।
ঈদুল আজহা: ১৬ মে, শনিবার (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।
আশুরা: ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার।
ঈদে মিলাদুন্নবী: ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার।
সতর্কতা ও তারিখ পরিবর্তন
উল্লেখিত তারিখগুলো মূলত সরকারি ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। তাই চাঁদ দেখার প্রেক্ষিতে রমজান, ঈদ ও হজের সঠিক তারিখ এক বা দুই দিন পরিবর্তন হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ২০২৬ সালের শবে বরাত কত তারিখে?
উত্তর: ২০২৬ সালের শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার দিবাগত রাতে পালিত হবে।
২. ২০২৬ সালের রমজান মাস কবে শুরু হবে?
উত্তর: সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৬ সালের রমজান মাস ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। তবে এটি শাবান মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।
৩. ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা কবে?
উত্তর: ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর ১৯ বা ২০ মার্চ এবং ঈদুল আজহা ১৬ মে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই তারিখ এক দিন আগে-পরে হতে পারে।
৪. ইসলামে ইবাদতের পাশাপাশি উপার্জন নিয়ে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: ইসলাম ইবাদত এবং হালাল উপার্জন—উভয়টির ওপর সমান গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা জুমআ’র ১০ নম্বর আয়াতে নামাজ শেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ বা জীবিকা তালাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. ২০২৬ সালের হজ কবে অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তর: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের হজ ১৪ মে থেকে শুরু হতে পারে।
৬. ইসলামে উৎসব পালনের জন্য কোন দুটি দিন নির্ধারিত?
উত্তর: ইসলামে আনন্দ ও উৎসব উদযাপনের জন্য আল্লাহ তাআলা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুটি পবিত্র দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
৭. এই ইসলামি তারিখগুলো কি নিশ্চিত?
উত্তর: না, এই তারিখগুলো মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা ও সরকারি ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য। প্রকৃত তারিখগুলো চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ‘জেড’ থেকে 'বি' ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার
- তিন কোম্পানির ইপিএস প্রকাশ, কার অবস্থা কেমন?
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬)
- আজ বার্সেলোনা বনাম ওভিয়েদো ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ! কেন সরব হলো WCA?
- earthquake today: আবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (২৫ জানুয়ারি)
- আইসিসির বৈঠকে চিৎকার বিসিবি সভাপতির বুলবুলের
- আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: প্রিভিউ, ইনজুরি আপডেট ও সম্ভাব্য একাদশ
- আজ ৮ কোম্পানির বোর্ড সভা: আসছে ইপিএস
- পিসিবিকে আইসিসির হুঁশিয়ারি: নিষিদ্ধ হতে পারে পাকিস্তান
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
- এমবাপের জোড়া গোল: বার্সাকে সরিয়ে লিগের শীর্ষে রিয়াল
- আবহাওয়ার খবর: ৫ দিনের পূর্বাভাস, শীত ও কুয়াশা নিয়ে নতুন তথ্য
- ডিআরসি আবেদন বাতিল, বিসিবি ক্রীড়া আদালতের পথে