ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১২:২১:৩০
ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ

দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুবাতাস বইছে। ঢাকা (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিলুপ্ত করে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ’ গঠনের পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এবং দুই বাজারের সক্ষমতাকে একীভূত করতেই এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আজই নির্ধারণ হতে পারে রূপরেখা

সচিবালয়ের অর্থ বিভাগে আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনরা অংশ নেবেন। সভার আলোচ্য সূচিতে ডিএসই ও সিএসই-র একীভূতকরণ ছাড়াও সিডিবিএল-কে বাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং সিসিবিএল-কে ডিএসইর অধীনে আনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা?

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়িক উৎকর্ষ সাধনের চেয়ে স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) সুদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উচ্চ বেতন কাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠান দুটির নিজস্ব আয়ে বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এফডিআর-এর মুনাফা না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়ত। মূলত সিএসইর ব্যবসায়িক ব্যর্থতা এবং একটি মহলের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এই একক বাজার ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে।

দুই বাজারের বর্তমান পরিসংখ্যানের ফারাক

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫৪ সালে যাত্রা শুরু করা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার বেশি। ৩৯৭টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এখানে দৈনিক গড়ে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বাজার মূলধন ৭ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার ওপরে হলেও দৈনিক লেনদেন মাত্র ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ঘরে সীমাবদ্ধ। ৪০০টি সিকিউরিটিজ থাকলেও সিএসই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে পারেনি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সময় বনাম বাস্তবতা: বাস্তবায়ন কি সম্ভব?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে বর্তমান সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র ১৫ দিন। এত অল্প সময়ে এমন বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবটি বর্তমান সরকার চূড়ান্ত করে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ তিন দশকেও সিএসই বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। তাই ডিএসইকে একমাত্র পুঁজিবাজার হিসেবে রেখে সিএসইকে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ হিসেবে রূপান্তর করাটাই হবে সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, আজকের গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ ডিএসই, সিএসই এবং সিডিবিএলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১. ডিএসই ও সিএসই একীভূত করার মূল কারণ কী?

উত্তর: মূল কারণ হলো পুঁজিবাজারের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের আয়ের জন্য মূলত এফডিআর (স্থায়ী আমানত)-এর সুদের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়িক উন্নতি না হওয়ায় এবং সিএসই বাজার হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২. সিএসই-র বর্তমান অবস্থা কী?

উত্তর: ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বর্তমানে ৪০০টি সিকিউরিটিজ থাকলেও এর দৈনিক লেনদেন খুবই নগণ্য (মাত্র ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা)। ৩০ বছর পার করলেও এটি একটি শক্তিশালী বাজার হিসেবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

৩. এই একীভূতকরণ কি এখনই কার্যকর হচ্ছে?

উত্তর: বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকায়, এই মুহূর্তে এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়া কঠিন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি একটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যা পরবর্তী সরকারের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

৪. ডিএসই-র বর্তমান বাজার চিত্র কেমন?

উত্তর: ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বর্তমানে ৬৫১টি সিকিউরিটিজ রয়েছে। এর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার বেশি এবং দৈনিক গড় লেনদেন ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

৫. একীভূতকরণ ছাড়া বৈঠকে আর কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে?

উত্তর: সভায় ডিএসই ও সিএসই একীভূতকরণ ছাড়াও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিসিবিএল) ডিএসইর সাবসিডিয়ারি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

৬. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?

উত্তর: ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) মতে, সরকারকে একক পুঁজিবাজার হিসেবে ডিএসই-কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) একটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা উচিত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ