সাবধান! আপনার এই ৮টি ভুলেই কি দ্রুত টাক পড়ে যাচ্ছে? আজই জানুন
মাথার ঘন চুল ব্যক্তিত্বের অন্যতম অংশ। কিন্তু বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অকাল কেশহানি। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা এখন প্রকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়ার পেছনে কেবল বংশগতিই নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অযত্নও বড় ভূমিকা রাখছে। সঠিক সচেতনতার অভাবে অনেককেই অল্প বয়সে টাক পড়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
কেন আলগা হচ্ছে চুলের গোড়া?
দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কিছু সাধারণ ভুল অজান্তেই চুলের ক্ষতি করছে। পুষ্টিহীন খাবার গ্রহণ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়া ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং চুলে যথেচ্ছ রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহারও এর জন্য দায়ী। দীর্ঘক্ষণ হেলমেট বা টুপি পরে থাকার ফলে মাথার ত্বকে যে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে, সেখান থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে চুল পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে।
তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অকাল টাক পড়া ঠেকাতে অনুসরণ করুন নিচের পরামর্শগুলো:
১. উষ্ণ জলের ব্যবহারে সতর্কতা: চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত তাপ চুলের ফলিকল নষ্ট করে দেয়। এর পরিবর্তে হালকা কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বেছে নিন।
২. প্রসাধন নির্বাচনে সচেতনতা: বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে নিজের চুলের ধরণ বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করুন। বিশেষ করে সালফেট যুক্ত শ্যাম্পু চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়, তাই এ জাতীয় পণ্য এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. স্টাইলিং পণ্যে নিয়ন্ত্রণ: চুলে নিয়মিত জেল বা হেয়ার ড্রায়ারের মতো কৃত্রিম যন্ত্রপাতির প্রয়োগ কমিয়ে দিন। মনে রাখবেন, সৌন্দর্য বর্ধনের এসব অতিরিক্ত উপকরণের অতিব্যবহার চুলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।
৪. মানসিক প্রশান্তি ও পর্যাপ্ত নিদ্রা: উদ্বেগ বা অস্থিরতা চুলের বড় শত্রু। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মানসিক চাপ কমিয়ে চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। মনকে শান্ত রাখতে নিয়মিত ইয়োগা বা ধ্যানের অভ্যাস করতে পারেন।
৫. ধূমপান বর্জন: গবেষণায় দেখা গেছে, তামাকের আসক্তি চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। তাই চুলের অকাল পতন রুখতে ধূমপান ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই।
৬. খাদ্যতালিকায় আমিষের গুরুত্ব: শরীর যদি প্রয়োজনীয় প্রোটিন না পায়, তবে তার প্রভাব পড়ে চুলে। তাই দৈনন্দিন পাতে মাছ, মাংস ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করুন। প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় থাকলে চুল পড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে।
৭. স্কাল্পের পরিচ্ছন্নতা: বাইরের ধুলাবালি ও দূষণে মাথার ত্বকে ময়লা জমে সংক্রমণের সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার করার মাধ্যমে গোড়ায় জমে থাকা ময়লা দূর করুন।
৮. শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি: অলস জীবনযাপন ত্যাগ করে প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা শরীরচর্চা করুন। সেটা হতে পারে দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং কিংবা সাঁতার। এতে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং স্ট্রেস কমে, যা প্রকারান্তরে চুলের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।
আপনার সচেতনতাই পারে অকাল কেশহানি রোধ করে চুলের সজীবতা দীর্ঘস্থায়ী করতে।
চুল পড়া রোধ নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. চুল পড়ার প্রধান কারণগুলো কী কী?
উত্তর: চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ধূমপান এবং চুলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল বা তাপ ব্যবহার দায়ী হতে পারে।
২. গরম পানি কি চুল পড়ার জন্য দায়ী?
উত্তর: হ্যাঁ, অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। চুল ধোয়ার জন্য সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রা বা হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত।
৩. কোন ধরনের শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো?
উত্তর: নিজের চুলের ধরণ (তৈলাক্ত বা শুষ্ক) অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। সালফেটযুক্ত (Sulfate-free) শ্যাম্পু এড়িয়ে চলা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
৪. মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কি চুল পড়ার ওপর প্রভাব ফেলে?
উত্তর: অবশ্যই। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিদ্রা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা সরাসরি চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দেয়। এজন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও মেডিটেশন প্রয়োজন।
৫. খাদ্যাভ্যাসের সাথে চুল পড়ার সম্পর্ক কী?
উত্তর: চুলে মূলত প্রোটিন দিয়ে গঠিত। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের অভাব হলে চুল দ্রুত পড়ে যায়। সুষম খাবার চুলের গোড়া মজবুত করে।
৬. ধূমপান কি চুল পড়ার কারণ হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, ধূমপান মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং চুলের ফলিকল নষ্ট করে। ফলে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার সমস্যা বেশি দেখা যায়।
৭. শরীরচর্চা করলে কি চুল পড়া কমে?
উত্তর: নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে, ফলে চুল পড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে।
৮. কতদিন অন্তর চুল পরিষ্কার করা উচিত?
উত্তর: মাথার ত্বকে ময়লা বা ঘাম জমলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত বা একদিন অন্তর চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে স্কাল্প সুস্থ থাকে।
সোহেল/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ‘জেড’ থেকে 'বি' ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬)
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ! কেন সরব হলো WCA?
- আজ বার্সেলোনা বনাম ওভিয়েদো ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আইসিসির বৈঠকে চিৎকার বিসিবি সভাপতির বুলবুলের
- earthquake today: আবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (২৫ জানুয়ারি)
- আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: প্রিভিউ, ইনজুরি আপডেট ও সম্ভাব্য একাদশ
- আজ ৮ কোম্পানির বোর্ড সভা: আসছে ইপিএস
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
- পিসিবিকে আইসিসির হুঁশিয়ারি: নিষিদ্ধ হতে পারে পাকিস্তান
- এমবাপের জোড়া গোল: বার্সাকে সরিয়ে লিগের শীর্ষে রিয়াল
- আবহাওয়ার খবর: ৫ দিনের পূর্বাভাস, শীত ও কুয়াশা নিয়ে নতুন তথ্য
- ব্রেন্টফোর্ড বনাম নটিংহাম ফরেস্ট: সম্ভাব্য লাইনআপ, ম্যাচ প্রেডিকশন
- ইয়ামালের অবিশ্বাস্য গোল: রিয়ালকে হটিয়ে শীর্ষে ফিরল বার্সেলোনা