Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
যে মাছ নিয়মিত খেলেই কমতে পারে হৃদ্রোগের আশঙ্কা
বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে রুই মাছ যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মধ্যবিত্তের দুপুরের ভাত থেকে শুরু করে গ্রামের পারিবারিক রান্না—সবখানেই এই মাছের দাপট চোখে পড়ে। পরিচিত স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের কারণেও এটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। সাম্প্রতিক পুষ্টিবিষয়ক বিশ্লেষণ ও গবেষণায় ইঙ্গিত মিলছে, নিয়ম মেনে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
এবার দেখা যাক, এই দাবির পেছনে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী।
পুষ্টিতে সমৃদ্ধ একটি সহজলভ্য মাছ
রুই মাছের অন্যতম বড় সুবিধা হলো—এটি পুষ্টিকর হলেও ক্যালোরি তুলনামূলক কম। ফলে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা অতিরিক্ত মেদ কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যে জানা যায়, রুই মাছে ভিটামিন এ, ডি ও ই ছাড়াও ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। একই সঙ্গে এতে পাওয়া যায় কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা স্নায়ুতন্ত্র সচল রাখা, চর্বির বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুষ্টি পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, রুই মাছ শরীরের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব
আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের একটি জার্নালে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, নিয়মিত রুই মাছ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এমনকি যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এই মাছ রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের সঙ্গে কী সম্পর্ক?
রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে আশাবাদী। এই উপাদান রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমায়, ফলে রক্তনালিতে ব্লক তৈরির ঝুঁকি হ্রাস পায়।
পাশাপাশি এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল—এলডিএল ও ভিএলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা বাড়ায়। এর ফলে হৃদ্যন্ত্রে চর্বি জমার সম্ভাবনা কমে যায়।
এই কারণেই পুষ্টিবিদরা মনে করেন, নিয়মিত ও পরিমিতভাবে রুই মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
কতটা খাওয়া যথেষ্ট?
খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ততা কখনোই ভালো নয়—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি বড় টুকরা রুই মাছ যথেষ্ট। এর বেশি গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
উপসংহার
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য সুষম খাবারের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ যোগ করলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্রও উপকৃত হতে পারে।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সচেতনভাবে রুই মাছ রাখলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে—এমনটাই বলছে বিজ্ঞান।
মোস্তাফা কামাল/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে বড় পদক্ষেপ: ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্তে বিএসইসি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬)
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬)
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে সোনা
- শেয়ারবাজার সংস্কারে এডিবির বড় প্রস্তাব: আমূল বদলে যাবে বন্ড মার্কেট
- সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: বাংলাদেশের ম্যাচ কবে কখন, জানুন সময়সূচি
- কমলো জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দাম
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ-বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: কখন ও কোথায় দেখবেন লাইভ?
- ফেসবুকে রিলস পোস্ট করেই ৩ হাজার ডলার আয়ের সুযোগ
- বার্সেলোনা বনাম রায়ো ভায়েকানো: ১ গোলে ম্যাচ শেষ জানুন ফলাফল
- আজকের খেলার সময়সূচি:বার্সেলোনা বনাম ভায়েকানো
- আর্জেন্টিনার দুই ম্যাচের সূচি ঘোষণা: জানুন প্রতিপক্ষ কারা
- আজকের খেলার সময়সূচি:ম্যানচেস্টার সিটি বনাম রিয়াল মাদ্রিদ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: (রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬)
- ওষুধ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার দূর করার ৫টি প্রাকৃতিক উপায়