Alamin Islam
Senior Reporter
নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১ শতাংশে জাল ভোট, টিআইবির চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন
দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বাছাই করা ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনেই এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে এবারের সংসদে সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
জাল ভোট নিয়ে টিআইবির স্পষ্ট ব্যাখ্যা
মাঠ পর্যায়ের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, টিআইবি গবেষণার জন্য নমুনা হিসেবে ৭০টি আসন নির্বাচন করেছিল। এর মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে জাল ভোটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তিনি এই পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তার অর্থ এই নয় যে জাতীয়ভাবে ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। দয়া করে বিষয়টি এইভাবে ইন্টারপ্রেট করবেন না। আমরা কেবল আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকা আসনগুলোর চিত্র তুলে ধরেছি।”
ঋণের জালে অর্ধেক সংসদ সদস্য
টিআইবির প্রতিবেদনে হলফনামা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই বিভিন্ন ধরনের দায় বা ঋণে জর্জরিত। নির্বাচিত সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা বিগত চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ।
দলগতভাবে ঋণের এই হারে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণের হার ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১৬ শতাংশ।
সংসদে ব্যবসায়ীদের দাপট অব্যাহত
পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ সংসদ সদস্যই পেশায় ব্যবসায়ী। তবে দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবারের সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমলেও, নবম সংসদের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেড়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি ও প্রশাসনের ভূমিকা
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। টিআইবি জানায়, নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাংশের মধ্যে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ সহযোগিতা করেনি।
সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (Level Playing Field) নিশ্চিতে বড় দলগুলো তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।
প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের পুরনো চর্চা এবারও অব্যাহত রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এক লাফে কমলো স্বর্ণের দাম
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা দেখুন
- সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা যে দিন থেকে শুরু হবে
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যেরোজার আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা
- শেয়ারবাজারের সময়সূচিতে পরিবর্তন
- ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় শাস্তি: ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো দুই কোম্পানির শেয়ার
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: দেখেনিন কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন?
- নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা: ৫০ জনের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ
- বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকছেন যারা? দেখুন তালিকা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- 2026 ramadan calendar: বাংলাদেশে রোজা কবে থেকে জানুন
- কোন বিভাগ থেকে কতজন মন্ত্রী হলেো, দেখুন তালিকা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা: শপথের ডাক পাওয়া ৪৮ জনের তালিকা প্রকাশ
- সূর্য গ্রহণ 2026 বাংলাদেশ সময়: আজ কখন দেখবেন?