MD. Razib Ali
Senior Reporter
বদর বিজয়ের আড়ালে মদিনায় কেন নেমেছিল শোকের ছায়া?
ইসলামের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া দিন ১৭ রমজান। দিনটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে যেমন রণক্ষেত্রের অভাবনীয় সাফল্যের গল্প, তেমনি রয়েছে প্রিয়জন হারানো আর সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের নানা অধ্যায়। ইতিহাসের আয়নায় এই তারিখটি কেবল একটি যুদ্ধের বিজয়গাথা নয়, বরং রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক এক মহাবর্তের নাম।
মক্কার আর্থিক ভিত্তিকে টলিয়ে দেওয়া বদরের রণকৌশল
২ হিজরির ১৭ রমজানে বদরের প্রান্তরে যে লড়াই হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপট ছিল সুদূরপ্রসারী। এটি কেবল একটি কাফেলা প্রতিরোধের অভিযান ছিল না; বরং মক্কায় মুহাজিরদের ছিনিয়ে নেওয়া সম্পদের ‘আর্থিক পুনরুদ্ধার’ ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মক্কার বাণিজ্যিক পথ রুদ্ধ করে কুরাইশদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন নবীজী (সা.)।
এই যুদ্ধে মুসলমানদের জয়ের পেছনে চমৎকার সমরকৌশল কাজ করেছিল। পানির কূপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সাহসী পরামর্শ দিয়েছিলেন সাহাবী হুবাব বিন মুনজির (রা.)। অন্যদিকে, সাদ বিন মুয়াজের (রা.) প্রস্তাবিত কমান্ড সেন্টার ‘আঁশ-শাজারাহ’ থেকে পরিচালিত হয়েছিল যুদ্ধের মূল পরিকল্পনা। আসমানি মদদ আর সাহাবীদের অকুতোভয় লড়াইয়ের সামনে অবশেষে ধূলিসাৎ হয়েছিল কুরাইশদের অহমিকা।
বিজয়ের বারতার মাঝেই মদিনায় শোকের ছায়া
বদর যুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের বার্তা যখন মদিনায় পৌঁছাল, তখন মানুষের মুখে হাসি থাকলেও রাসুল (সা.)-এর ঘরে ছিল বিয়োগান্তক পরিবেশ। এই দিনেই চিরবিদায় নেন নবী-নন্দিনী হযরত রুকাইয়াহ (রা.)। অসুস্থ স্ত্রীর শয্যাপাশে থাকার নির্দেশের কারণে স্বামী হযরত উসমান (রা.) বদরের যুদ্ধে শরিক হতে পারেননি। বিজয়ী কাফেলা মদিনায় প্রবেশের আগেই ‘দুই হিজরতের অধিকারিণী’ এই মহীয়সীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। ফলে মদিনাবাসীর কাছে বিজয়ের আনন্দ আর বিয়োগব্যথা একাকার হয়ে গিয়েছিল।
জেরুজালেমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন সংকট
৪৯০ হিজরির এই একই তারিখে জেরুজালেম বা পবিত্র কুদস প্রত্যক্ষ করেছিল এক বড় ধরনের ক্ষমতার পালাবদল। তখন বাগদাদের আব্বাসীয় এবং কায়রোর ফাতিমীয় খেলাফতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই তুঙ্গে। সেলজুক তুর্কিদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে ফাতিমীয় উজির আল-আফদাল শাহানশাহ জেরুজালেমের দখল নেন।
দীর্ঘদিন পর আল-আকসার মিম্বরে ফাতিমীয় খলিফা ‘আল-মুস্তালি বিল্লাহ’-র নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়। তবে ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো, মুসলিমদের এই অভ্যন্তরীণ বিভেদই তাদের দুর্বল করে দিয়েছিল। যার সুযোগ নিয়ে মাত্র দুই বছরের মাথায় ক্রুসেডাররা জেরুজালেমে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়।
দুর্ভিক্ষ ও জনরোষ: সুলতান বাইবার্সের পতন
৭১০ হিজরির ১৭ রমজান মিশরের মামলুক শাসনের এক আলোচিত অধ্যায় সমাপ্ত হয়। সুলতান বাইবার্স আল-জাশনাকির, যিনি মাত্র দেড় বছর ক্ষমতায় ছিলেন, তিনি গদি ছাড়তে বাধ্য হন। তার শাসনকাল ছিল নানা সংকটে জর্জরিত। কাকতালীয়ভাবে সে সময় নীল নদের পানির উচ্চতা কমে যায় এবং দেশজুড়ে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ এই দুর্ভিক্ষকে সুলতানের ‘অপয়া’ শাসনের ফল হিসেবে গণ্য করতে থাকে। তীব্র গণ-অসন্তোষ আর জনপ্রিয়তার অভাবে এদিন তিনি ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বদর যুদ্ধের বিজয় থেকে শুরু করে সাম্রাজ্যের পতন—১৭ রমজান যেন ইতিহাসের এক অম্লমধুর সমাপতন, যা আজও আমাদের গভীর শিক্ষা দেয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে
- সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- আজ দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম
- 'এমবাপ্পে বাংলাদেশে'—বড় ঘোষণার পর যা জানাল সরকার
- BCB compliance report উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
- নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের
- আগামী ৪ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় সতর্কবার্তা
- IMEI নম্বর চেক করার সহজ উপায়; Android ও iPhone-এ IMEI দেখবেন যেভাবে
- ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি
- ভবন নির্মাণে নতুন নিয়ম: বাংলাদেশ building code যা মানতে হবে
- মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান নিয়োগ
- Diego Simeone নতুন চ্যালেঞ্জ প্রস্তুতিতে অ্যাটলেটিকো
- বিনিয়োগের আগে cash flowদেখবেন কেন?