Md Razib Ali
Senior Reporter
বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর: শেয়ারবাজারে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা
দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান চিত্র নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, বাজারের বর্তমান অস্থিরতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রথম সারির অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারকে এখন ‘ক্যাসিনো’র সঙ্গে তুলনা করছে। বিনিয়োগের এই প্রতিকূল পরিবেশ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদপত্রের সম্পাদক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নিজের ‘পছন্দের খাত’ হওয়া সত্ত্বেও শেয়ারবাজারের বর্তমান দশা অর্থমন্ত্রীকে বিচলিত করেছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংক নির্ভরতা কমানোর তাগিদ
বাজারের নাজুক অবস্থার পেছনে ব্যাংক ঋণের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি আমানত সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোতে ঋণ দিচ্ছে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন হওয়ার কথা ছিল পুঁজিবাজার থেকে, কিন্তু বাজারের ওপর আস্থা না থাকায় সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও নীতিগত পরিবর্তন
বাজারের প্রতি সাধারণ ও বড় বিনিয়োগকারীদের হৃত গৌরব ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে চাইলেও বর্তমান পরিবেশ তাদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।”
নতুন অর্থায়নের পথ: বন্ড ও সিকিউরিটাইজেশন
পুঁজিবাজারকে আধুনিক ও গতিশীল করতে নতুন সব আর্থিক সরঞ্জামের (Financial Tools) ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী জানান:
বন্ড মার্কেট: উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি ও মিউনিসিপাল বন্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারকে আর ব্যাংক বা বৈদেশিক ঋণের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
সম্পদ সিকিউরিটাইজ: সরকারি সম্পদ থেকে ভবিষ্যতে আসার সুযোগ থাকা আয়কে বর্তমান মূলধনে রূপান্তরের (Securitization) পরিকল্পনা চলছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যমুনা সেতুর ভবিষ্যৎ টোল থেকে আয়ের বিপরীতে সিকিউরিটিজ ইস্যুর কথা উল্লেখ করেন।
সরকারি শেয়ার: বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের বিষয়টিও সরকার নতুন করে মূল্যায়ন করছে। অর্থমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো—জনকল্যাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের সংস্থান করা।
বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে বিশেষ জোর
শেয়ারবাজারকে কেবল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের ফান্ড ম্যানেজার ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশের বাজারে সক্রিয় করতে সরকার বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পেশাদার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নীতিগত ও কাঠামোগত বড় সংস্কার ছাড়া শেয়ারবাজারে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এসব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পরও শেয়ারবাজারে বড় পতন
- পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে
- নিজের নামে কোথায় কত জমি, অনলাইনে দেখবেন যেভাবে
- নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন
- সোনার ভরি কত আজ? ২১, ১৮ ও ২২ ক্যারেটের দামও জেনে নিন
- Honor 600 Pro: ২০০MP ক্যামেরা ও ৭০০০mAh ব্যাটারিতে কেমন?