MD. Razib Ali
Senior Reporter
এক লাফে বাড়লো তেলের দাম, জানুন দাম
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তাপ সরাসরি আছড়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মূল্য ১০৮.৭৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা মূল্যবৃদ্ধি
জ্বালানি তেলের এই উল্লম্ফন গত চার বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার পর এক দিনে তেলের দামের এমন বিশাল বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছিল, যা এই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সরবরাহ সংকট ও লজিস্টিক ঝুঁকি
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যের আশঙ্কায় রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেলের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেলের যে বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণ করা সৌদি আরবের একার পক্ষে সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে সংকট
এএনজেড (ANZ)-এর সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স এই পরিস্থিতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, উত্তেজনার কারণে উৎপাদকরা বর্তমানে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে তেলের কূপগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়, তবে সংঘাত থামার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। এর অর্থ হলো, জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে লম্বা সময় ধরে।
অন্যদিকে, জেপিমরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান রয়টার্সকে জানান, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তার মতে, নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করতে পারে। যদি রাজনৈতিক সমাধানও আসে, তবুও বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর আঘাত
ব্রুস কাসমানের আশঙ্কা অনুযায়ী, তেলের এই অস্বাভাবিক দামের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসতে পারে বাড়তি মূল্যস্ফীতির বোঝা, যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে। পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয় এবং তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে অবস্থান করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি অনিবার্যভাবে একটি বড় ধরনের মন্দার (Recession) কবলে পড়বে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ফাইনাল: বিশাল রানের টার্গেট দিল ভারত
- লভ্যাংশ ঘোষণা করল শেয়ারবাজারের ৩ কোম্পানি
- ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ফাইনাল: টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
- প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা সেই বিশেষSirin Finney ফোনের দাম কত জানুন
- আজকের খেলার সময়সূচী:ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড
- ভারত নাকি নিউজিল্যান্ড? বৃষ্টিতে ফাইনাল পণ্ড হলে বিজয়ী কে?
- ক্লার্কের বাজি বুমরাহ: ফাইনালে কে হবেন ম্যাচসেরা?
- অবশেষে ভারত ছাড়ছেন ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ ও প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা
- কিউইদের সামনে কেন ফিকে জাসপ্রিত বুমরাহ? তথ্য ফাঁস
- আজকের স্বর্ণের দাম: একলাফে কমলো সোনার দাম
- শেষ আটের দৌড়ে টিকে থাকতে যে জটিল সমীকরণ মিলাতে হবে বাংলাদেশ কে
- টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস: আট বিভাগেই নামতে পারে বজ্রবৃষ্টি
- আজকের স্বর্ণের দাম:(রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬)
- টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: একনজরে দেখেনিন বিশাল প্রাইজমানি সমূহ
- সাবধান! এই ৫ 'স্বাস্থ্যকর' খাবারই বাড়াচ্ছে হার্টের ঝুঁকি