Md Razib Ali
Senior Reporter
কমলো তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। দফায় দফায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দর ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর, সর্বশেষ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল্যে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
যুদ্ধের দামামা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত
তেলের বাজারে এই চরম অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে রয়েছে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত। ইরান তাদের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে কাতারের বিখ্যাত ‘রাস লাফান’ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে পাল্টা আঘাত হানে। এই ঘটনার পর থেকেই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তাদের এলএনজি (LNG) রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, যা এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিতে ফেলবে।
বর্তমান বাজার দর ও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ
শুক্রবার ভোরে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারে ‘ডব্লিউটিআই’ (WTI) ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৪.৬ ডলারে নেমে এসেছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে পুনরায় হামলা না করার আশ্বাস দিলে বাজারে এই সামান্য স্বস্তি ফিরে আসে। ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি মূল্যের এই চরম বৃদ্ধি খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অচল হরমুজ প্রণালি: ২০ শতাংশ সরবরাহ আটকে
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি টানা ১৯ দিন ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আক্রান্ত হলে তারা এই পথ স্বাভাবিক হতে দেবে না। আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন।
২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের উচ্চমূল্য?
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের সাম্প্রতিক নোটে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে:
রেকর্ড মূল্য: সরবরাহ বিঘ্নিত হতে থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের রেকর্ড (১৪৭ ডলার) ছাড়িয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ভয়াবহ পরিস্থিতি: যদি হরমুজ প্রণালি আগামী দুই মাস অত্যন্ত সীমিত আকারে চালু থাকে, তবে ২০২৭ এর শেষেও তেলের দর ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাবে।
আশার আলো: যদি এপ্রিলের মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তবে ২০২৬ সাল নাগাদ দাম ৭০ ডলারের ঘরে নামতে পারে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। শুক্রবার ভোরেও বিভিন্ন দেশ থেকে আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়েছে, তার রেশ বিশ্ববাসীকে আগামী কয়েক বছর বইতে হতে পারে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ঈদের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করলো সৌদি আরব
- সৌদিতে আজ শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে কিনা জানা গেল
- শেয়ারবাজার: বস্ত্র খাতের ৫ কোম্পানির মুনাফায় বড় চমক
- বাংলাদেশ ঈদ কবে, যা জানা গেল
- মুনাফায় ধস: বস্ত্র খাতের ১৬ কোম্পানির আয় তলানিতে
- ঈদের তারিখ ঘোষণা করলো সিঙ্গাপুর ও তুরস্ক
- জানা গেল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬)
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬)
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে রিয়াল-বায়ার্ন ও বার্সা-অ্যাতলেটিকো
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: গোলবন্যায় শেষ আটে লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখ
- ৩৮ বছরেও মেসির জাদুতে ভরসা! আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা
- ব্রাজিল ও কলম্বিয়া ম্যাচের জন্য ফ্রান্সের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা
- হৃদপিণ্ডের শত্রু এই ৫ ফল? বাড়াতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, সাবধান!