Md Razib Ali
Senior Reporter
সালমান আলী আঘার বিতর্কিত রান আউট: আইসিসির নিয়ম কি বলে
ক্রিকেট বিশ্বে বর্তমানে টক অব দ্য টাউন পাকিস্তান ব্যাটার সালমান আলী আঘা এবং বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যকার সেই বিতর্কিত রান আউট। মাঠের এই ঘটনা নিয়ে যেমন চলছে সমালোচনা, তেমনি নিয়ম নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আইসিসির প্রটোকল অনুযায়ী আঘা আউট হলেও, বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঠিক কী ঘটেছিল মাঠে?
ঘটনাটি ছিল মিরাজের একটি বল খেলার পর সালমান আলী আঘা এবং মিরাজের মধ্যে এক ধরণের সংঘর্ষ বা 'কলিশন' হয়। ওই সময় আঘা বলটি মাটি থেকে কুড়িয়ে বোলারের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বলটি তখনও অফিসিয়ালি ‘ডেড’ ঘোষণা করা হয়নি। এই সুযোগেই মিরাজ তাকে রান আউট করেন। যদিও আঘার উদ্দেশ্য ছিল স্রেফ বোলারকে সাহায্য করা, কিন্তু ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার অভাবে তাকে সাজঘরে ফিরতে হয়।
নিয়মের বেড়াজালে ‘আউট’
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসির নিয়ম বা প্রটোকল অনুযায়ী এটি স্পষ্ট আউট। এমনকি বলটি কুড়িয়ে নেওয়ার কারণে তিনি ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ (Obstruction the field) আউটের শিকারও হতে পারতেন। নিয়ম অনুযায়ী, বলটি ডেড না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যাটারের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ক্রিজে অবস্থান করা। আঘা ভালো মনে মিরাজকে সাহায্য করতে চাইলেও, বল খেলার মধ্যে থাকায় আম্পায়ার তাকে আউট দিতে বাধ্য হন।
অতীতের কিছু আলোচিত ঘটনা
ক্রিকেট ইতিহাসে এমন বিতর্কিত আউট এই প্রথম নয়। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে আরও কিছু নাম:
জনি বেয়ারস্টো: অ্যাশেজ সিরিজে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে বেয়ারস্টোর আউটটি ছিল এমনই এক ‘স্মার্টনেস’ বনাম ‘কনসেন্ট্রেশন’ এর লড়াই। বেয়ারস্টো ওভার শেষ ভেবে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
মুশফিকুর রহিম: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটটিও ছিল এক ধরণের ‘ব্রেইন ফেড’ বা মনোযোগ হারানোর ফল।
মোহাম্মদ রফিক: ২০০৩ সালের মুলতান টেস্টে রফিক মানকাডিং করার সুযোগ পেয়েও স্পিরিট অব দ্য গেমের কথা চিন্তা করে অ্যাপিল প্রত্যাহার করেছিলেন।
গেম অ্যাওয়ারনেস এবং সালমান আঘার প্রতিক্রিয়া
ক্রিকেট কেবল ব্যাটে-বলের লড়াই নয়, এটি বুদ্ধিমত্তারও খেলা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সময় একজন খেলোয়াড়ের ‘গেম অ্যাওয়ারনেস’ থাকা অত্যন্ত জরুরি। সালমান আলী আঘা ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে এলেও ক্রিকেটের ব্যাকরণ তার পক্ষে ছিল না।
ভিডিওর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আউটের পর সালমান আলী আঘা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার জন্য তাকে জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে। ক্রিকেটের আইনে যা বৈধ, সেখানে অসন্তোষ প্রকাশ করা কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গের শামিল হতে পারে।
দিনশেষে ক্রিকেটীয় আইন এবং ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’—এই দুইয়ের দ্বন্দ্ব সবসময়ই থাকবে। তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে নিয়মের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সালমান আলী আঘার এই আউটটি আগামী দিনের ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- চাঙ্গা হচ্ছে শেয়ারবাজার: বিদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২৬ ব্লু-চিপ শেয়ার
- নাভানা ফার্মায় তোলপাড়: বিএসইসির ৪ সদস্যের কমিটি
- ৯ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক চাহিদা
- শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর সতর্কবার্তা
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: সরাসরি দেখুন Live
- আজ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ২য় ওয়ানডে: পাকিস্তানের ব্যাটিং ঝড়, সরাসরি দেখুন Live
- লভ্যাংশের চমক শেয়ারবাজারে: বিনিয়োগকারীদের বড় ডিভিডেন্ড দিচ্ছে ৩ কোম্পানি
- বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের কোচরা আসবে না কেন? জানা গেল বিস্তারিত
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬)
- গরমে এসি চালু করছেন? আগে এই বিষয়গুলো না দেখলে বিপদ
- শেয়ারবাজারে বড় রদবদল: ৩ ব্রোকারেজ থেকে ৬ প্রতিনিধি বাদ পড়লেন
- আজকের খেলার সময়সূচি:বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান