ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

তাসকিন-মুস্তাফিজদের বিশ্বসেরা হওয়ার রহস্য ফাঁস করল উইজডেন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৬:১৯:১৭
তাসকিন-মুস্তাফিজদের বিশ্বসেরা হওয়ার রহস্য ফাঁস করল উইজডেন

একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই ছিল স্পিন বিষে প্রতিপক্ষকে নীল করা। মোহাম্মদ রফিক থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতেই সীমাবদ্ধ ছিল টাইগারদের সাফল্যগাথা। তবে সেই চেনা ছবিটা এখন আমূল বদলে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন ভীতি ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের পেসাররা। ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত ম্যাগাজিন ‘উইজডেন’ সম্প্রতি তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের এই অবিশ্বাস্য উত্তরণের নেপথ্য কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছে।

ঐতিহাসিক সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর: বদলে যাওয়ার শুরু

টাইগার পেস ইউনিটের আধুনিক এই বিপ্লবের বীজ বপন হয়েছিল ২০১৫ সালে মাশরাফির হাত ধরে। তবে উইজডেনের মতে, এর প্রকৃত রূপান্তর শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। প্রোটিয়াদের মাটিতে এর আগে ১৩টি ওয়ানডে খেলে একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এমনকি কন্ডিশনের প্রতিকূলতায় ছোট দলগুলোর কাছেও হারতে হয়েছিল।

কিন্তু ২০২২ সালে চিত্রনাট্য বদলে যায়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে এবাদত হোসেনের অবিশ্বাস্য স্পেল এবং শরিফুল-তাসকিনদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক যুগের সূচনা করে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে প্রথম ওয়ানডে জয়ের কারিগর ছিলেন পেসাররাই। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরিয়নে তাসকিনের ৫ উইকেট এবং মুস্তাফিজের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের ডেরায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সেই সিরিজে তাসকিন একাই নিয়েছিলেন ৮ উইকেট।

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের ‘পেস বিপ্লব’

উইজডেনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের আগে বাংলাদেশের পেসাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে ৩.১৫টি উইকেট নিতেন, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৫-এ। শুধু তাই নয়, বোলারদের বোলিং গড় ৩৬.০৬ থেকে নেমে এখন ৩০.৫৭-এ পৌঁছেছে।

বিশ্বের বড় বড় দলগুলোর তুলনায় এখন বাংলাদেশের পেসাররা অনেক বেশি কার্যকর। পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর থেকে ওয়ানডেতে টাইগার পেসারদের বোলিং গড় পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ সেরা এবং ইকোনমি রেটে তারা দ্বিতীয় স্থানে। গড় এবং ইকোনমি—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশের ধারেকাছে নেই আর কোনো দেশ।

ঘরের মাঠে অজেয় বাংলাদেশ

দেশের মাটিতে টাইগারদের সাফল্যের হার এখন ঈর্ষণীয়। ২০১৪ সালের পর থেকে ঘরের মাঠে খেলা ৬৭টি ওয়ানডের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৪৮টিতে। জয়ের এই অনুপাত (২.৫২৬) দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ট্রেলিয়া-ভারতের প্রায় সমান। মাশরাফি, তামিম বা সাকিবের মতো অভিজ্ঞরা দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেও পেসারদের কল্যাণে সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আগামীর কাণ্ডারি: তারুণ্যের জয়গান

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো এর গভীরতা। অভিজ্ঞ তাসকিন ও মুস্তাফিজের পাশাপাশি এখন গতির ঝড় তুলছেন নাহিদ রানার মতো তরুণরা। সম্প্রতি পাকিস্তান সিরিজে এই পেস ত্রয়ী মিলে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এই পেস আক্রমণকে দলের ‘ম্যাচ উইনার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মুস্তাফিজ ও তাসকিনের অভিজ্ঞতা এখন এক দশকেরও বেশি, অথচ তাদের বয়স এখনো ৩১ পেরোয়নি। অন্যদিকে ২৩-২৪ বছর বয়সী নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ এবং তানজিম হাসান সাকিবরা ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। উইজডেনের মতে, বাংলাদেশের এই শক্তিশালী পেস ইউনিটের সেরা সময়টা এখনো আসা বাকি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ডিএসইর দুই ব্রোকারেজে বড় রদবদল: বাদ পড়লেন ৪ প্রতিনিধি

ডিএসইর দুই ব্রোকারেজে বড় রদবদল: বাদ পড়লেন ৪ প্রতিনিধি

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত দুটি ব্রোকারেজ হাউজ তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের (অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ) প্যানেলে পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠান... বিস্তারিত