মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, যতো উইকেট ও যতো রান করলেন
মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতে আবারও নজর কেড়েছেন, ব্যাট হাতেও করেছেন দলের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। কিন্তু গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং ধস সামলাতে পারেননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ফলে বার্বাডোজের কাছে ৬ উইকেটে হেরে চলতি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল টেবিলের শীর্ষ দলটি।
সিপিএলে মিরাজের অভিষেকের আগের ম্যাচেই আসরের প্রথম হার দেখেছিল গায়ানা। এরপর বাংলাদেশি স্পিনারের কার্যকর বোলিংয়ে টানা জয় তুলে নেয় তারা। তবে প্রথম কোয়ালিফায়ারের আগে আবারও হারের মুখে পড়তে হলো দলটিকে।
সরাসরি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের মুখোমুখি হবে গায়ানা। লিগ পর্বে যে দলের কাছেই প্রথমবার হেরেছিল তারা, সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বার্বাডোজের বিপক্ষে এই হার কিছুটা ধাক্কা হয়ে এলো।
শুরুতেই ভেঙে পড়ে গায়ানার ব্যাটিং
টস জিতে গায়ানাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বার্বাডোজ। ইনিংসের তৃতীয় ওভার শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ১৫ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গায়ানা।
এমন পরিস্থিতিতে গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মিরাজ। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। তবে এই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৪ রানে বিদায় নেন ফিলিপস। গায়ানার হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানও শেষ পর্যন্ত ওই ২৪।
মিরাজও ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২৪ বল মোকাবিলা করে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১৮ রান করেন তিনি, যা দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ও ইমরান তাহির কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের জুটিতে আসে ৩১ রান, যা গায়ানার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। তবে শেফার্ড ২২ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলে ১৮.১ ওভারে ৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় গায়ানা।
বার্বাডোজের হয়ে এএম গজনফার ও জোহান লেইন তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।
বল হাতে আবারও মিরাজের জোড়া আঘাত
মাত্র ১০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও বার্বাডোজ শুরুতে কিছুটা চাপের মধ্যে পড়ে। ৩৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় তারা।
এই সময়ই বোলিংয়ে নিজের প্রভাব দেখান মিরাজ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কুইন্টন ডি ককের অফস্টাম্প উপড়ে দিয়ে প্রথম সাফল্য পান এই অফস্পিনার।
এরপর ১২তম ওভারে শ্যাডর্যাক ডেসকার্টেকেও ফেরান মিরাজ। ৩২ রানে তাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন তিনি। তবে ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছিল বার্বাডোজ।
ম্যাচে ২৫ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। সিপিএলে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট। ফলে টুর্নামেন্টে তার বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
১৪.৫ ওভারেই জয় বার্বাডোজের
গায়ানার দেওয়া ১০০ রানের লক্ষ্য খুব বেশি সময় নেয়নি বার্বাডোজ। ব্র্যান্ডন কিং ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
১৪.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে বার্বাডোজ। মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দলের ব্যাটিং ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত গায়ানাকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।
আল-মামুন/