ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৫:৩৭:২৯
পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির আগে শেষ মুহূর্তের কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত দিনে গেজেট প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে গেজেটটি পরবর্তী ধাপে যাবে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।

এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে নতুন সময়সীমা হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। অর্থসচিবও জানিয়েছেন, রোববারই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।ফলে এখন সংশ্লিষ্টদের নজর বিজি প্রেস ও অন্যান্য দপ্তরের শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা রয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের ব্যবধানও কিছুটা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১:১.৯৪৫ থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা ১:১.৭৮ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বেতন কাঠামোয় ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও এর পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় বেসরকারি খাতেও সময়োপযোগী বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ