ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:৩০:৫৬
মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

একদিকে আয় ও মুনাফায় বড় ধরনের পতন, অন্যদিকে নগদ অর্থের সংকট—এর মধ্যেই সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১ পয়সা করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড। কোম্পানিটির এমন নামমাত্র ডিভিডেন্ড ঘোষণায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে এই ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করা হয়। কোম্পানিটির মোট ৬ কোটি ২২ লাখ শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারপ্রতি ১ পয়সা হিসাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণযোগ্য ডিভিডেন্ডের মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ লাখ ২২ হাজার টাকা।

তবে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ শেয়ারের বিপরীতে কোনো ডিভিডেন্ড নেবেন না। কোম্পানির নগদ অর্থ ধরে রাখা এবং তারল্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যেই উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের এ সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমরা নেটওয়ার্কসের আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ পয়সায়। এর আগের বছর ইপিএস ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকেও কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি ছিল দুর্বল। ওই সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির আয় প্রায় ২২ শতাংশ কমে ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। এ সময়ে নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্রি কমে যাওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে আয় ও মুনাফায় এই পতন হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বড় করপোরেট গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ সময়মতো আদায় না হওয়ায় নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৫৫ পয়সায় নেমে যায়। অর্থাৎ হিসাবের খাতায় আয় থাকলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি চাপের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এবার ১ পয়সা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হলেও ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম করতে পারেনি। ফলে পরবর্তী এজিএম আয়োজনের তারিখ নির্ধারণে হাইকোর্টের সম্মতির প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষিত ডিভিডেন্ডের রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর।

পুঁজিবাজারে আমরা নেটওয়ার্কসের বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের ইতিহাসও রয়েছে। ২০১৭ সালে আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে আরও ৯৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়।

তবে বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের পরও সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির আয়, নগদ প্রবাহ ও মুনাফায় দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে একদিকে ধারাবাহিক লোকসান ও নগদ সংকট, অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড ঘোষণায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সর্বশেষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৯ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে আয় ও মুনাফার তথ্যের পাশাপাশি প্রকৃত নগদ প্রবাহ এবং পাওনা আদায়ের সক্ষমতার বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ