ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মো. রাজীব আলী

সিনিয়র রিপোর্টার

সপ্তাহের শুরুতেই ফের পতন শেয়ারবাজারে, কারণ যা জানা গেল

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৪:৩৭:১০
সপ্তাহের শুরুতেই ফের পতন শেয়ারবাজারে, কারণ যা জানা গেল

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ১৩ মিনিট পর্যন্তের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯.৯২ পয়েন্ট বা ০.৩৪% কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইএস সূচক ৫.৭৫ পয়েন্ট ও ডিএস৩০ সূচক ৬.৫১ পয়েন্ট কমেছে।

এদিন মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৯২৩টি লেনদেন সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৮০৬ মিলিয়ন টাকার শেয়ার। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪০টির দরপতন হয়েছে, বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ১১৬টির, আর ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে অব্যাহত পতন চলছে। ২৯ জুন যেখানে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫,৭২২ পয়েন্টের কাছাকাছি এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে ৫,৯২৬ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠে, সেখান থেকে ক্রমাগত কমতে কমতে বর্তমানে সূচকটি ৫,৭৮৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে বিএসইসির প্রস্তাবিত নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালা। তারল্য ও লেনদেন বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মার্জিন ঋণের বিধিমালা শিথিলের উদ্যোগ নিলেও, নতুন খসড়া প্রস্তাবনায় যুক্ত হওয়া 'পিবি রেশিও' (প্রাইস টু বুক ভ্যালু) শর্তের কারণে বিমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানিই মার্জিন ঋণ সুবিধা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন শর্ত অনুযায়ী মাত্র ৭ থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠান মার্জিন ঋণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতে পারে, যার ফলে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে বিতর্কের মুখে বিএসইসি ইতোমধ্যে এই বিধান পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, বাজারে এই প্রস্তাবের কারণে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে, এবং বিনিয়োগকারীদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খসড়া প্রস্তাবের ওপর মতামত দেওয়ার জন্য এখনো দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে, তাই যৌক্তিক সমাধানের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ