বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল, ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর পথে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায়। এর সঙ্গে সৌদি আরবের তেল সরবরাহের আংশিক পুনরুদ্ধারও বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের বাজারের ঝুঁকি কিছুটা কমিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি; ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে।
দুই প্রধান বেঞ্চমার্কেই দরপতন
সোমবার জিএমটি রাত ২টা ১৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ৭১ ডলার। একদিনের ব্যবধানে এটি ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কমেছে। এর আগে শুক্রবারও ব্রেন্টের দর ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ হয়েছিল।
মার্কিন বাজারের ডব্লিউটিআইও একই সময়ে নিম্নমুখী ছিল। ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে এর দাম নেমে আসে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে। আগের সেশনেও ডব্লিউটিআইয়ের দর ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছিল।
অর্থাৎ টানা দ্বিতীয় সেশনের মতো দুই বেঞ্চমার্কেই দাম কমেছে এবং সোমবারের দর ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের আশায় বাজারে ঝুঁকি কমেছে
তেলের দামের এই পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক কোনো পথ বের হতে পারে—এমন প্রত্যাশার কারণে তেলের বাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এই প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়; সময়ই বিষয়টি স্পষ্ট করবে।
এদিকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক ব্রোকারের মতে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন স্তরের নিচে চলে গেছে। একই সঙ্গে অক্টোবরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে কিছু বিনিয়োগকারী তাঁদের অবস্থান নভেম্বরের চুক্তিতে সরিয়ে নিয়ে থাকতে পারেন।
বৈঠকের আগ্রহ ট্রাম্পের, আলোচনার শর্ত জানিয়েছে ইরান
কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটেনি। রোববার দুই পক্ষই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসতে আগ্রহী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ানের এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে। শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই এ কথা বলেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
হুতিদের হামলায় সৌদি তেল অবকাঠামোও ঝুঁকিতে
কূটনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
একই সময়ে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু শহরে সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। ইয়ানবু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র।
এই হামলার পর হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীনের সহায়তা চেয়েছিল সৌদি আরব। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সৌদির সেই আহ্বানের পর চীন ইরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বলেছে।
পাইপলাইনে বিঘ্ন, তবু সৌদির রপ্তানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে
হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটলেও দেশটির তেল সরবরাহ পুরোপুরি থেমে যায়নি। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানিটি চলতি মাস ও আগামী মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। বিপরীতে ইয়ানবু দিয়ে কিছু তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে রপ্তানি নেমে দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছিল। অন্তত ২০১৩ সালের পর সেটিই ছিল সৌদি আরবের সর্বনিম্ন রপ্তানি।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্নের পরও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ‘আশ্চর্যজনকভাবে শক্তিশালী’ রয়েছে।
তাঁদের হিসাব বলছে, গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে। ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় এই পরিমাণ দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম।
হরমুজ দিয়ে সৌদির তেল পরিবহন চার গুণের বেশি
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গড় পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৯ লাখ ব্যারেল। আগস্টে একই পথে সৌদি তেল পরিবহনের পরিমাণ ছিল দৈনিক মাত্র সাত লাখ ব্যারেল।
ফলে একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের তেল সরবরাহের আংশিক পুনরুদ্ধার—দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল: কিছুক্ষণ পর ম্যাচ, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- অ্যাটলেটিকো-রিয়াল ম্যাচ চলছে: লাল কার্ড ও গোল দেখুন Live
- চলছে অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কোথায় ও কার বিপক্ষে
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- শেয়ারবাজারের এই কোম্পানির নাম বদলে গেল
- শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শেখাতে বিএসইসির বড় পরিকল্পনা
- নতুন পে স্কেলে আপনার বেতন কত, জানুন হিসাবের নিয়ম
- শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগের সময়? সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব
- শেয়ার কিনবেন? আগে এই ৭ ভুল থেকে দূরে থাকুন
- অ্যাটলেটিকো বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: লাল কার্ড, ২ গোলের ম্যাচে ফলাফল কী
- সরকারি কোম্পানিতে বড় ধাক্কা, লোকসানে ১২টি
- ২০২৬ সালে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন
- কম দামে বেশি মাইলেজ, ২০২৬-এর সেরা ৫ বাইক