ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদির পাইপলাইন চালু, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১১:৪৮:৫৭
সৌদির পাইপলাইন চালু, বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে আবারও পতন হয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় চালু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা—দুটি বিষয়ই বাজারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যেই বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচেই ব্রেন্ট

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দর আগের তুলনায় ৭ সেন্ট কমে যায়। শতাংশের হিসাবে এই পতন দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম দাঁড়ায় ৯৯ ডলার ১৮ সেন্ট।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও নিম্নমুখী ছিল। এই তেলের ব্যারেলপ্রতি দর ৩৫ সেন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে নেমেছে।

তেলের ধরনদাম কমেছেবর্তমান দাম
ব্রেন্ট ক্রুড ৭ সেন্ট (০.০৭%) ৯৯ ডলার ১৮ সেন্ট/ব্যারেল
ডব্লিউটিআই ৩৫ সেন্ট (০.৩৯%) ৯০ ডলার ১৭ সেন্ট/ব্যারেল

সৌদির তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন

বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনাকে তেলের দামের পতনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আবারও কার্যক্রম শুরু হওয়া।

লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। মঙ্গলবার এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার পর ১১ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল সৌদি আরব। এর প্রভাবে ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল তোলার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

এখন পাইপলাইনটি আবার সচল হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এই পরিমাণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাও নজরে বাজারের

শুধু সরবরাহের বিষয় নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও বাজারে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে একই দিনে তিনি যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।’

অর্থাৎ কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। বাজারও এখন এই আলোচনার সম্ভাব্য অগ্রগতিকে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে।

৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবার ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে

রয়টার্সের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার তেলের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাত থামানোর উদ্যোগ—দুই বিষয় থেকেই আশাবাদ তৈরি হয়। এর প্রভাবে ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়।

৮ সেপ্টেম্বরের পর মঙ্গলবারই প্রথমবার ব্রেন্টের দর ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করছেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারে বর্তমানে বেশি আশাবাদ রয়েছে।

তার মতে, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশার পরিবেশ তৈরি করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ধ্বংস করে দেয়ার’ হুমকির মতো কঠোর বক্তব্য চললেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকেও হিসাবের মধ্যে রাখছে।

ইরাকের রপ্তানিতেও বাড়তির তথ্য

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার আরেকটি ইঙ্গিত এসেছে ইরাক থেকে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরাক এখন প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে।

তুরস্কের মাধ্যমে সরবরাহের পরিমাণও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। ইরাক জানিয়েছে, তুরস্কের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করার আশা করছে তারা।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ফের চালু হওয়া, ইরাকের রপ্তানি বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আগের তুলনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বুধবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দরে ফের পতন দেখা গেল।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: