স্বর্ণের দামে বিশ্ববাজারে পতন, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট কত?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে অবশেষে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বুধবার একদিকে শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের কড়াকড়ি মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত এসেছে। এর মধ্যেই স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দর ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব এখনো বাংলাদেশের স্বর্ণের দরে দেখা যায়নি। দেশের বাজারে সর্বশেষ যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিই কার্যকর রয়েছে।
এক দিনে কমল স্পট ও ফিউচার—দুই বাজারেই
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বুঝতে স্পট ও ফিউচার—দুই দিকেই নজর রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণের প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৫৯ ডলারে অবস্থান করছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের স্বর্ণের ফিউচার দরও আগের অবস্থান থেকে ০.৫ শতাংশ কমেছে। এই বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৩০ ডলারে।
অর্থাৎ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু তাৎক্ষণিক লেনদেনের স্বর্ণ নয়, ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফিউচার দরেও পতন হয়েছে।
কেন চাপের মুখে পড়ল স্বর্ণ
স্বর্ণের দাম কমার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বাজার বিশ্লেষকেরা মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে দেখছেন। ডলারের শক্তি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এর সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যও বাজারের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করেছে। কড়াকড়ি মুদ্রানীতির পক্ষে তাদের অবস্থানের কারণে সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ এতে কিছুটা কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশের বাজারে আপাতত বদলায়নি দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমলেও বাংলাদেশের বাজারে নতুন কোনো মূল্য নির্ধারণ হয়নি। সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ীই দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সর্বশেষ নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়। এরপর আর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ওজনের এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আগের তুলনায় ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এক নজরে দেশের বাজারের চার ধরনের স্বর্ণের দর
বর্তমান নির্ধারিত মূল্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। এই মানের স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৫ টাকা।
১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০১ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে এ মানের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
বিশ্ববাজারের পতনের পর বাংলাদেশের দরে কী হলো
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৫৯ ডলারে নামলেও বাংলাদেশের বাজারে সর্বশেষ নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম যথাক্রমে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার যে দরপতন দেখা গেছে, বাংলাদেশের বাজারে এখনো তার ভিত্তিতে নতুন কোনো দাম কার্যকর হয়নি।
আল-মামুন/