ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত সৈনিক, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১০:৫৫:৫৪
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত সৈনিক, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের হাতে আটকে পড়া মানুষদের মুক্ত করতে পরিচালিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র চক্রটির গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। তবে অভিযানে ৫৭ জন জিম্মিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে আটক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিস্তারিত জানায়। এতে বলা হয়, সংঘর্ষের সময় বাঁ কাঁধে গুলি লাগে তিতাস শেখের। গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পাঠানো হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রায় ১২০ জনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে অভিযান

রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী দলের তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী, ওই পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে আটকে রেখেছিল ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র দল।

আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে একক কোনো বাহিনী নয়, সমন্বিতভাবে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় পুলিশের সদস্যদের নিয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে দলটি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।

অভিযানকারী দলের ওপর সশস্ত্র হামলা

যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরেই মানবপাচারকারী দলের সদস্যরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সৈনিক তিতাস শেখ। তার বাঁ কাঁধে গুলি লাগার পর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।

সংঘর্ষের মধ্যেই অভিযান অব্যাহত রেখে ৫৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী। পাশাপাশি মানবপাচারকারী দলের সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে।

তিতাস শেখের আত্মত্যাগ স্মরণে সেনাবাহিনী

অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো তরুণ সেনাসদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৈনিক মো. তিতাস শেখের আত্মত্যাগ বাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে সেনাবাহিনী। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা।

FAQ

১. টেকনাফের কোথায় যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়?

কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

২. অভিযানে নিহত সেনাসদস্যের পরিচয় কী?

নিহত সেনাসদস্য হলেন ২৭ বছর বয়সী সৈনিক মো. তিতাস শেখ।

৩. মানবপাচারকারীরা কতজনকে জিম্মি করে রেখেছিল?

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

৪. যৌথ বাহিনীর অভিযানে কী অর্জন হয়েছে?

৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং মানবপাচারকারী চক্রের সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

৫. ঘটনাস্থল থেকে কী কী উদ্ধার করা হয়েছে?

একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ