ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

এনআইডির নাম, বয়স ও ঠিকানা বদলাতে লাগবে যেসব নথি

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১১:১০:১৪
এনআইডির নাম, বয়স ও ঠিকানা বদলাতে লাগবে যেসব নথি

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) একটি তথ্যের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হতে পারে—আবার প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকলে আবেদনও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিজের নাম, বাবা-মায়ের পরিচয়, জন্মতারিখ কিংবা ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নথি জমা দিতে হবে, তা নির্ভর করে সংশোধনের প্রকৃতির ওপর। কোথাও শিক্ষাগত সনদই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, আবার কোথাও হলফনামা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন কিংবা পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

তাই এনআইডির ভুল তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের জন্য গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। কারণ নামের সামান্য বানান ভুল এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের আবেদন এক নয়। একইভাবে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

নামের ভুল নাকি পুরো নাম পরিবর্তন, কাগজপত্রে পার্থক্য

এনআইডিতে নিজের নামের বানান অথবা নামের কোনো অংশে ভুল থাকলে সেটি প্রমাণের জন্য একাধিক নথি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাবিননামা বা স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপি জমা দেওয়া যেতে পারে।

তবে আবেদনটি যদি আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের হয়, তাহলে অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের আবেদনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হতে পারে—

এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা।

জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি।

এ ধরনের পরিবর্তনের আবেদন যাচাইয়ের জন্য মূল কাগজপত্র প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।

বাবা-মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বদলাতে যা লাগতে পারে

বাবা কিংবা মায়ের নামের বানান, পদবি অথবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো নথি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সংশোধনের আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিতে হতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব কিংবা চাকরিসংক্রান্ত প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

কিন্তু বাবা-মায়ের নাম পুরোপুরি পরিবর্তনের আবেদন হলে আরও শক্ত প্রমাণ দিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড চাওয়া হতে পারে। এর সঙ্গে বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে।

আর বাবা-মা মারা গিয়ে থাকলে তাঁদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীর ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনে শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

জন্মতারিখের ভুল সংশোধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রমাণপত্রের ধরন আলাদা হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে সবার জন্য একই কাগজপত্রের তালিকা প্রযোজ্য নয়।

যাঁরা এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তাঁদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হয়। তবে সনদে থাকা বয়সের সঙ্গে এনআইডির বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক মনে হলে কর্তৃপক্ষ মূল সনদ দেখতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত শুনানিতেও ডাকা হতে পারে।

অন্যদিকে এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে জন্মতারিখের পক্ষে বিকল্প নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে—

এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক।

এমপিওর কপি।

জন্মনিবন্ধন সনদ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স।

পাসপোর্ট।

নিকাহনামা।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণসংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।

ঠিকানা পরিবর্তন ও বানান সংশোধন এক বিষয় নয়

জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী কিংবা বর্তমান ঠিকানার ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকানার পক্ষে প্রমাণ দিতে হয়। এ জন্য শুধু একটি পরিচয়পত্রের ওপর নির্ভর না করে ঠিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি জমা দেওয়া যেতে পারে।

গ্রহণযোগ্য কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন বিল, পৌরকর বা চৌকিদারি কর পরিশোধের রসিদ। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্রও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।

এখানে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি আলাদা করে বুঝতে হবে। কেউ যদি নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় যেতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে ভোটার এলাকা একই রেখে শুধু ঠিকানার নম্বর কিংবা বানানের ভুল ঠিক করতে চাইলে সে জন্যও আবেদন করা যায়। এ ধরনের সংশোধনে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপি এবং ঠিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। জমা দেওয়া নথিতে তথ্যের অসংগতি থাকলে কিংবা পরিবর্তনের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে জটিল ও বড় ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্র জমা দিয়েই প্রক্রিয়া শেষ নাও হতে পারে। ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়া, মূল নথি প্রদর্শন কিংবা সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।

এ কারণে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস অথবা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের সংশোধনের ধরনটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করা উচিত। এতে আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা সহজ হবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. এনআইডিতে নামের বানান সংশোধনে কী কী কাগজ লাগে?

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণের উপযোগী নথি জমা দিতে হতে পারে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কাবিননামাও দেওয়া যেতে পারে।

২. এনআইডিতে সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের জন্য কী লাগে?

এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি প্রয়োজন হতে পারে।

৩. শিক্ষাগত সনদ না থাকলে জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে কি?

এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে।

৪. এনআইডিতে ঠিকানা সংশোধন করতে কী কী প্রমাণ লাগে?

অনলাইন জন্মনিবন্ধন, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর বা চৌকিদারি করের রসিদ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে।

৫. এনআইডি সংশোধনে কি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে হয়?

সব আবেদনে শুনানির প্রয়োজন হয় না। তবে বড় ধরনের নাম পরিবর্তন, জন্মতারিখের অস্বাভাবিক ব্যবধান কিংবা জটিল সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি বা সরেজমিন তদন্ত হতে পারে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ