দীর্ঘদিন পর সচল হচ্ছে ৬১৭ বিও হিসাব, কী বদলাবে বাজারে?
দীর্ঘদিন লেনদেনের সুযোগ না পাওয়া ৬১৭টি বিও হিসাব আবার সচল করার সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারের একাধিক পক্ষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব হিসাবে থাকা শেয়ার পুনরায় কেনাবেচার সুযোগ পেলে বাজারে লেনদেনের পরিধি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং মার্জিন ঋণ প্রদানকারী স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
স্থগিত হিসাবগুলোতে লেনদেনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, কমিশনারবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ডিবিএ।
হিসাব সচল হলে যেসব পরিবর্তনের প্রত্যাশা
ডিবিএর বিবেচনায়, ৬১৭টি বিও হিসাবের লেনদেন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেননি। হিসাবগুলো আবার চালু হওয়ায় সেই সুযোগ ফিরে আসবে। এতদিন লেনদেনের বাইরে থাকা শেয়ার বাজারে কেনাবেচার আওতায় আসতে পারবে।
এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছে সংগঠনটি। ডিবিএর প্রত্যাশা, নতুন করে শেয়ার লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে এবং সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি যাঁদের আস্থা কমেছে, তা পুনরুদ্ধারেও সিদ্ধান্তটি সহায়ক হতে পারে।
মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আটকে থাকা কার্যক্রমে সুযোগ
বিও হিসাবগুলো পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখছে ডিবিএ। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন হিসাব স্থগিত থাকায় মার্জিন ঋণ দেওয়া স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ব্যবসায়িক এবং আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল।
এসব হিসাবের আওতায় থাকা শেয়ার আবার লেনদেন করা সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আটকে থাকা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ডিবিএ মনে করে, এতে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফেরার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
এর পাশাপাশি ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সহজ হতে পারে। পুঁজিবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়লে সামগ্রিক বাজারের গতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ডিবিএর আবেদনের পর বিএসইসির সিদ্ধান্ত
৬১৭টি বিও হিসাব স্থগিত হওয়ার পেছনে ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুরোধ এবং বিএসইসির সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয় ডিবিএ।
গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে সংগঠনটি। সেখানে ডিবিএর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা সরকারি সংস্থার নিষেধাজ্ঞা না থাকলে দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত থাকা বিও হিসাবগুলো পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ডিবিএর সেই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে হিসাবগুলোতে আবার লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান মাসুদ খান, কমিশনারবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি
শুধু বিও হিসাব সচল করার বিষয় নয়, দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ডিবিএ।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করবে। এ জন্য বিএসইসিসহ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডিবিএ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধন্যবাদান্তে স্বাক্ষর করেছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি মো. দিদারুল গনী।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. কতটি স্থগিত বিও হিসাব পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে?
মোট ৬১৭টি স্থগিত বিও হিসাব পুনরায় চালু করে লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
২. বিও হিসাব চালুর সিদ্ধান্তের জন্য ডিবিএ কাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে?
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান, কমিশনারবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ডিবিএ।
৩. ডিবিএ কবে বিও হিসাব চালুর আবেদন করেছিল?
গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিল সংগঠনটি।
৪. বন্ধ বিও হিসাব সচল হলে শেয়ারবাজারে কী সুবিধা হতে পারে?
ডিবিএর মতে, আটকে থাকা শেয়ার আবার লেনদেনের সুযোগ পাবে। এতে বাজারের তারল্য, লেনদেনের পরিমাণ এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
৫. বিও হিসাব স্থগিত থাকার কারণে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটে পড়েছিল?
ডিবিএর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্জিন ঋণ প্রদানকারী স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক ও আর্থিক কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছিল। হিসাবগুলো চালু হলে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পরও শেয়ারবাজারে বড় পতন
- পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে
- নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন
- Honor 600 Pro: ২০০MP ক্যামেরা ও ৭০০০mAh ব্যাটারিতে কেমন?
- নিজের নামে কোথায় কত জমি, অনলাইনে দেখবেন যেভাবে
- এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ পরীক্ষা দিতে পারবে না যারা