ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল ম্যাচ: গোল বাতিল, প্রথমার্ধ শেষ

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১৭:০৭:১১
অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল ম্যাচ: গোল বাতিল, প্রথমার্ধ শেষ

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। তবে বিরতির ঠিক আগে ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও গোল পায়নি। এস্তেভাও ও এনদ্রিকের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল জালে গেলেও এস্তেভাওয়ের ফাউলের কারণে ভিডিও পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ড স্টেডিয়ামে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির ম্যাচটি শুরু হয় কিছুটা বিলম্বের পর। স্টেডিয়ামে লাইট শো শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা মাঠে নামেন এবং শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।

শুরুতে নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার

ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বেশ সক্রিয় দেখা যায়। ৫ মিনিটে ইরানকুন্ডা সামনে থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন। ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুগো সুজা সেটি ঠেকিয়ে কর্নারের ব্যবস্থা করেন। কর্নার থেকে আসা বল অবশ্য ব্রাজিলের রক্ষণ সামলে নেয়।

অন্যদিকে একই সময় এস্তেভাও বক্সের প্রান্ত থেকে শট নিলে তা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে লেগে যায় এবং পরে গোলরক্ষক বিচ বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন।

১০ মিনিটে কনর মেটকাফ বক্সের প্রান্ত থেকে শট নিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এরপর ডগলাস সান্তোস ও ইতালিয়ানোর মাথায় সংঘর্ষ হলে কিছু সময়ের জন্য খেলা থামিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডগলাস সান্তোস দ্রুত মাঠে ফিরলেও ইতালিয়ানোকে ব্যান্ডেজ করার জন্য কিছুটা বেশি সময় নিতে হয়। পরে তিনিও খেলায় ফিরে আসেন।

১৫ মিনিটে মেটকাফ আবার বক্সের কাছে থেকে দূরপাল্লার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলের রক্ষণ। প্রথম দিকের এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া বল ধরে রেখে পাস বিনিময়ের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং ব্রাজিলকে গোলের সুযোগ কম দেয়।

ব্রাজিলও তৈরি করে সুযোগ

২০ মিনিটে এনদ্রিককে ফাউল করেন আরভিন। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ফ্রি-কিক দ্রুত নিতে বাধা দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

এর কিছুক্ষণ পর বক্সের ভেতর থেকে ব্রুনো গিমারায়েস শক্তিশালী শট নেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।

২৫ মিনিটে এনদ্রিক বক্সের কিনারা থেকে দূরপাল্লার শট নেন। বলটি সরাসরি গোলের মাঝামাঝি গিয়ে বিচের হাতে জমা পড়ে। এর পর এস্তেভাওও দূর থেকে চেষ্টা করেন, কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৩০ মিনিটে ইরানকুন্ডা সামনে থেকে শক্তিশালী শট নিলেও ব্রাজিলের রক্ষণ সেটি আটকে দেয়। এই পর্যায়ে ব্রাজিল ম্যাচে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে শুরু করলেও অস্ট্রেলিয়াই তখনও তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ তৈরি করছিল।

গোল পেয়েও শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি ব্রাজিল

৩৫ মিনিটে ডান দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া কর্নার পায়। বল বক্সে পাঠানো হলে ব্রাজিলের রক্ষণ তা সরিয়ে দেয়। পাল্টা আক্রমণে ভিনি জুনিয়র বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন, কিন্তু সেটি অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচের হাতে গিয়ে জমা পড়ে।

৪০ মিনিটে রাফিনিয়া সামনে থেকে বল পেয়ে শট নেন। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে লেগে বল কর্নারে চলে যায়। কর্নার থেকে বল বক্সে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ তা পরিষ্কার করে দেয়। এরপর পাল্টা আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া আরও একটি কর্নার পায়। সেখান থেকে সার্কাতি শক্তিশালী হেড নিলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রাজিল গোল করে ফেলেছিল। এস্তেভাও এনদ্রিকের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক বিচকে পরাস্ত করে শট নেন। কিন্তু পরে ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হয় এবং ট্যাকেলের সময় এস্তেভাও ফাউল করেছিলেন বলে গোলটি বাতিল করা হয়।

ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের স্কোর ০-০।

দুই দলের শুরুর একাদশ

ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নামে। একাদশে ছিলেন হুগো সুজা, মাতেউজিনহো, মারকিনিওস, ভিতর রেইস, ডগলাস সান্তোস, দানিলো, ব্রুনো গিমারায়েস, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, ভিনি জুনিয়র ও এনদ্রিক।

অস্ট্রেলিয়া ৩-৪-৩ ছকে খেলতে নামে। তাদের একাদশে ছিলেন বিচ, সার্কাতি, সাউতার, হ্যারিংটন, ইতালিয়ানো, আরভিন, ও-কো-এংস্টলার, বেহিচ, মেটকাফ, ইরানকুন্ডা ও ইয়েঙ্গি।

ব্রাজিলের বেঞ্চে যারা

পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও, আর্থার দিয়াস, জাইর, ভান্দারসন, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মাউরো জুনিয়র, আন্দ্রে সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো, ব্রেনো বিদন, মার্তিনেলি, রায়ান, ডগলাস লুইজ, স্যামুয়েল লিনো ও পেদ্রো।

অস্ট্রেলিয়ার বেঞ্চে যারা

জ্যাকব চ্যাপম্যান, পল ইজ্জো, জেসন জেরিয়া, কেইসি বস, ডিলান লিওনার্ড, কিলি অ্যাডামসন, মিলোস দাগেনেক, এইডেন ও'নিল, এলি অ্যাডামস, মার্কাস ইউনিস, প্যাট্রিক ইয়াজবেক, নিশান ভেলুপিল্লাই, ইয়ায়া দুকুলি ও রাইলি ম্যাকগ্রি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কোনো পক্ষই ব্যবধান গড়তে পারেনি। সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে শেষদিকে, যখন ব্রাজিলের গোল বাতিল হয়ে যায়। বিরতিতে তাই স্কোরলাইন অস্ট্রেলিয়া ০-০ ব্রাজিল।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ