ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল ম্যাচ: ৯০ মিনিট শেষ, জানুন ফলাফল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১৭:৫৮:৪৮
অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল ম্যাচ: ৯০ মিনিট শেষ, জানুন ফলাফল

ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়া। নেস্টরি ইরানকুন্ডার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া গোলের সুবাদে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এখন চলছে যোগ করা সময়ের খেলা। শেষ বাঁশির অপেক্ষায় দুই দল।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ড স্টেডিয়ামে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনো দল। বরং ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করেও ব্রাজিল গোলের দেখা পায়নি। বিপরীতে ৭০ মিনিটে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোল করে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ইরানকুন্ডার ফ্রি-কিকেই ম্যাচের পার্থক্য

৭০ মিনিটে বক্সের কিনারায় ওকন-এংস্টলারকে ফেলে দেন ব্রাজিলের ডগলাস লুইজ। এতে ফ্রি-কিক পায় অস্ট্রেলিয়া। সেই সুযোগ থেকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা।

ইরানকুন্ডার নেওয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিলের গোলের ওপরের ডান কোণে গিয়ে জড়ায়। গোলরক্ষক হুগো সুজা সেই শট ঠেকানোর কোনো সুযোগ পাননি। দুর্দান্ত গোলেই অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে ব্রাজিল সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভেঙে গোল করার মতো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তাই ব্যবধান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের একাধিক পরিবর্তন

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দলই কোনো পরিবর্তন না করে মাঠে নামে। দুই দলের সমঝোতা অনুযায়ী ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

৫০ মিনিটে এস্তেভাও দূরপাল্লার শট নেন, কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকটা ছিল তুলনামূলক ধীর। ব্রাজিল আক্রমণভাগে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়া নিচে নেমে রক্ষণ সামলে খেলে।

৬০ মিনিটে ভিনি জুনিয়র সামনে থেকে বল নিয়ে নিচু ও জোরালো শট নেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচ সেটি ধরে ফেলেন। এর পর ব্রাজিল প্রথম পরিবর্তন আনে। ব্রুনো গিমারায়েসের জায়গায় মাঠে নামেন ডগলাস লুইজ। কিছুক্ষণ পর রাফিনিয়া দূর থেকে শট নিলেও বল বাইরে চলে যায়।

৬৫ মিনিটে ভিনি জুনিয়র আবারও শক্তিশালী শট নেন, সেটিও বিচ ঠেকিয়ে দেন। এরপর এস্তেভাও গোলের চেষ্টা করলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ব্রাজিল আরও দুটি পরিবর্তন করে। ভিনি জুনিয়র ও এনদ্রিক মাঠ ছাড়েন, তাদের জায়গায় নামেন পেদ্রো ও স্যামুয়েল লিনো।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের গোল বাতিল

ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াই বেশি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৫ মিনিটে কনর মেটকাফ বক্সের প্রান্ত থেকে শট নিলেও সেটি ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ১০ মিনিটে তার একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল।

এই সময় ডগলাস সান্তোস ও ইতালিয়ানোর মাথায় সংঘর্ষের কারণে খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। ডগলাস সান্তোস দ্রুত মাঠে ফিরলেও ইতালিয়ানোকে ব্যান্ডেজ করার জন্য কিছুটা বেশি সময় নিতে হয়। পরে তিনিও আবার খেলায় ফেরেন।

২০ মিনিটে এনদ্রিককে ফাউল করেন আরভিন। ফ্রি-কিক দ্রুত নিতে বাধা দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এর পর ব্রুনো গিমারায়েস বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট নিলেও বিচ তা ঠেকিয়ে দেন।

২৫ মিনিটে এনদ্রিক বক্সের কিনারা থেকে দূরপাল্লার শট নেন। বলটি সরাসরি বিচের হাতে গিয়ে জমা পড়ে। এরপর এস্তেভাও দূর থেকে চেষ্টা করলেও তার শট বাইরে চলে যায়।

৩০ মিনিটে ইরানকুন্ডার শক্তিশালী শট ব্রাজিলের রক্ষণ আটকে দেয়। ধীরে ধীরে ব্রাজিল ম্যাচে নিজেদের প্রভাব বাড়ালেও অস্ট্রেলিয়া তখনও ভালো সুযোগ তৈরি করছিল।

৩৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া কর্নার পায়। সেই বল ব্রাজিলের রক্ষণ পরিষ্কার করে দেয়। পাল্টা আক্রমণে ভিনি জুনিয়র দূরপাল্লার শট নেন, কিন্তু তা বিচের হাতে গিয়ে জমা পড়ে।

৪০ মিনিটে রাফিনিয়ার শট ব্রাজিলকে কর্নার এনে দেয়। কর্নার থেকে আসা বলও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ সরিয়ে দেয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণে আরেকটি কর্নার পায়। সেখান থেকে সার্কাতি শক্তিশালী হেড নিলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিল বল জালে পাঠিয়েছিল। এস্তেভাও ও এনদ্রিকের পাস আদান-প্রদানের পর এস্তেভাও বক্সে ঢুকে শট নিয়ে বিচকে পরাস্ত করেন। কিন্তু ঘটনাটি পর্যালোচনার পর এস্তেভাওয়ের ট্যাকেলে ফাউল ধরা পড়ে। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

এখন শেষ বাঁশির অপেক্ষা

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ইরানকুন্ডা। ৭০ মিনিটে তার ফ্রি-কিকই এখন পর্যন্ত দুই দলের ব্যবধান হয়ে আছে।

৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ১-০ গোলে এগিয়ে এবং এখন চলছে যোগ করা সময়। ব্রাজিলের সামনে সমতা ফেরানোর সুযোগ থাকলেও এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়াই লিড ধরে রেখেছে।

দুই দলের একাদশ

ব্রাজিল ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নামে। হুগো সুজা, মাতেউজিনহো, মারকিনিওস, ভিতর রেইস, ডগলাস সান্তোস, দানিলো, ব্রুনো গিমারায়েস, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, ভিনি জুনিয়র ও এনদ্রিক ছিলেন শুরুর একাদশে।

অস্ট্রেলিয়া ৩-৪-৩ ফরমেশনে শুরু করে। তাদের একাদশে ছিলেন বিচ, সার্কাতি, সাউতার, হ্যারিংটন, ইতালিয়ানো, আরভিন, ওকন-এংস্টলার, বেহিচ, মেটকাফ, ইরানকুন্ডা ও ইয়েঙ্গি।

ব্রাজিলের বেঞ্চে ছিলেন পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও, আর্থার দিয়াস, জাইর, ভান্দারসন, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মাউরো জুনিয়র, আন্দ্রে সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো, ব্রেনো বিদন, মার্টিনেলি, রায়ান, ডগলাস লুইজ, স্যামুয়েল লিনো ও পেদ্রো।

অস্ট্রেলিয়ার বেঞ্চে ছিলেন জ্যাকব চ্যাপম্যান, পল ইজ্জো, জেসন জেরিয়া, কেইসি বস, ডিলান লিওনার্ড, কিলি অ্যাডামসন, মিলোস দাগেনেক, এইডেন ও'নিল, এলি অ্যাডামস, মার্কাস ইউনিস, প্যাট্রিক ইয়াজবেক, নিশান ভেলুপিল্লাই, ইয়ায়া দুকুলি ও রাইলি ম্যাকগ্রি।

স্টেডিয়ামে কয়েক মিনিটের বিলম্ব ও লাইট শোর পর শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-ব্রাজিলের এই প্রীতি ম্যাচ। এখন নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ। যোগ করা সময় চলছে, আর অস্ট্রেলিয়া ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ