ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জমি কেনার আগে এই ১০ কাগজ না দেখলে বিপদ হতে পারে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৯:৩০:০৮
জমি কেনার আগে এই ১০ কাগজ না দেখলে বিপদ হতে পারে

জমি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার হাতে থাকা দলিল দেখে টাকা পরিশোধ করলেই নিরাপদ থাকা যায় না। জমিটির বর্তমান খতিয়ান, মালিকের নাম, আগের মালিকানা হস্তান্তরের দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা, মৌজা ম্যাপ এবং প্রয়োজনে আদালতের কাগজ—সবকিছুর মধ্যে মিল আছে কি না, সেটিই আসল বিষয়। একটি কাগজে তথ্য ঠিক থাকলেও অন্য রেকর্ডে গরমিল থাকলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থায় খতিয়ানে মালিকের নাম, মৌজা, দাগ নম্বর, দাগের মোট জমি এবং মালিকের অংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। আবার জমি হস্তান্তরের পর রেকর্ড হালনাগাদের জন্য নামজারি ব্যবস্থাও রয়েছে।

তাই জমি কেনার আগে নিচের কাগজগুলো দেখা এবং সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

১. সর্বশেষ খতিয়ান বা পর্চা

সবার আগে দেখতে হবে জমিটির সর্বশেষ খতিয়ান/পর্চা। এখানে মৌজার নাম ও নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং রেকর্ডীয় মালিকের তথ্য থাকে।

বিক্রেতা যে জমি বিক্রি করছেন, সেই জমির দাগ ও পরিমাণ খতিয়ানের সঙ্গে মিলছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে বিক্রেতার নাম এবং তার মালিকানার অংশ ঠিক আছে কি না দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু পুরোনো খতিয়ান দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। পরবর্তী সময়ে বিক্রয়, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো কারণে মালিকানা পরিবর্তিত হলে রেকর্ড হালনাগাদ হতে পারে।

২. বিক্রেতার নামে নামজারি বা খারিজ খতিয়ান

জমিটি বিক্রেতার নামে নামজারি হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-মিউটেশন ব্যবস্থায় ক্রয়সূত্রে নামজারির সময় দলিল নম্বর, দলিলের তারিখ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণের মতো তথ্য দিতে হয়।

অর্থাৎ বিক্রেতা যে মালিকানা দাবি করছেন, তার সঙ্গে নামজারি রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—নামজারি বা খারিজ একাই মালিকানার সব প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান নয়। মূল মালিকানা কীভাবে এসেছে, আগের দলিলগুলো কী বলছে এবং অন্য কোনো দাবি বা বিরোধ আছে কি না, সেগুলোও যাচাই করতে হবে।

৩. বর্তমান বিক্রয় দলিল ও আগের মালিকানার দলিল

বিক্রেতা কীভাবে জমিটির মালিক হয়েছেন, তার প্রমাণ হিসেবে বর্তমান দলিলের পাশাপাশি আগের মালিকানা হস্তান্তরের দলিলের ধারাবাহিকতা দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ হিসেবে, বিক্রেতা যদি কয়েক বছর আগে অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি কিনে থাকেন, তাহলে তার সেই ক্রয় দলিলও যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে আরও আগের দলিল পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করতে হবে।

নিবন্ধন আইনে স্থাবর সম্পত্তির অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ সৃষ্টি, ঘোষণা, হস্তান্তর বা বিলোপকারী বিভিন্ন দলিলের নিবন্ধনের বিধান রয়েছে।

শুধু ফটোকপি নয়, কী করবেন?

দলিলের নম্বর, তারিখ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং জমির তফসিল মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি রেকর্ডে যাচাই করা ভালো। Registration Act, 1908-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট রেজিস্টার ও ইনডেক্স পরিদর্শন এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নকল পাওয়ার বিধান রয়েছে।

৪. ভূমি উন্নয়ন করের সর্বশেষ দাখিলা

জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের সর্বশেষ দাখিলা দেখে নিন।

সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থায় খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনার সংযোগ রয়েছে এবং কর পরিশোধের পর দাখিলা রসিদ পাওয়া যায়।

দাখিলায় থাকা জমির তথ্য, মালিকানা/হোল্ডিং সংক্রান্ত তথ্য এবং জমির বিবরণ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

তবে খাজনা দেওয়া আছে বলেই জমির মালিকানা শতভাগ প্রমাণিত—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এটি মালিকানা যাচাইয়ের অন্যান্য কাগজের পাশাপাশি দেখতে হবে।

৫. মৌজা ম্যাপ বা নকশা

কাগজে দাগ নম্বর ঠিক থাকলেই বাস্তবে একই জমি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই মৌজা ম্যাপ বা সংশ্লিষ্ট নকশা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাপে দাগের অবস্থান, আশপাশের দাগ এবং জমিটির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ভূমি প্রশাসনের নথিতেও তফসিলে বর্ণিত চৌহদ্দির নকশার উল্লেখ রয়েছে।

সম্ভব হলে কাগজের দাগ নম্বর ও ম্যাপের অবস্থান মাঠে গিয়ে যাচাই করুন। প্রয়োজনে আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোক করানো যেতে পারে।

৬. বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র

জমির কাগজপত্রের সঙ্গে বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা দরকার।

নাম, পিতার বা স্বামীর নাম এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দলিল ও খতিয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না পরীক্ষা করুন।

নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি Registration Act-এও রয়েছে। নিবন্ধন কর্মকর্তা দলিল সম্পাদনকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়ার বিষয়টি আইনের ৩৪ ধারায় উল্লেখ আছে।

একই সঙ্গে বিক্রেতা নিজে মালিক কি না, নাকি অন্য কারও প্রতিনিধি হিসেবে দলিল করছেন—সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

৭. উত্তরাধিকার সনদ ও ওয়ারিশদের কাগজপত্র

জমির মালিক যদি উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি পেয়ে থাকেন, তাহলে উত্তরাধিকার সনদসহ সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের তথ্য ও মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।

কারণ একজন ওয়ারিশ একা পুরো জমি বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকার ও অংশের ওপর। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-মিউটেশন নির্দেশিকাতেও উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সনদ সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি হলে কারা ওয়ারিশ, কে কত অংশের মালিক এবং বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পক্ষগুলো যুক্ত আছে কি না—এসব আগে যাচাই করা উচিত।

৮. আদালতের মামলা, রায় বা ডিক্রির কাগজ

জমিটি নিয়ে কোনো মামলা, রায়, ডিক্রি বা আদালতের আদেশ থাকলে তার কাগজ অবশ্যই দেখতে হবে।

ভূমি প্রশাসনের সরকারি নথিতে মামলাধীন সম্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান, দাগ, জমির পরিমাণ, মামলা ও রায়ের তথ্য এবং উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয় পর্যন্ত আলাদাভাবে উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

যদি বিক্রেতা বলেন জমিটি নিয়ে আগে মামলা হয়েছিল কিন্তু এখন সমস্যা নেই, তাহলে শুধু মৌখিক কথায় ভরসা না করে রায়ের সার্টিফায়েড কপি এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী আদেশ বা আপিলের তথ্য যাচাই করা উচিত। ভূমি প্রশাসনের নথিতেও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতের রায়/আদেশ/ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির কথা উল্লেখ রয়েছে।

৯. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা

অনেক সময় জমির মালিক নিজে উপস্থিত না থেকে প্রতিনিধি দিয়ে লেনদেন করান। এমন ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা যাচাই না করে টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

Registration Act-এর ৩২ ধারায় অনুমোদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে প্রতিনিধির দলিল উপস্থাপনের বিধান রয়েছে এবং ৩৩ ধারায় কোন ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে মালিক বিদেশে থাকলে বা প্রতিনিধি দিয়ে দলিল করার ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বৈধতা, ক্ষমতার পরিধি এবং তা বাতিল হয়েছে কি না—এসব আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করা নিরাপদ।

১০. রেজিস্ট্রি অফিসের তল্লাশি ও আগের লেনদেনের রেকর্ড

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইগুলোর একটি হলো জমিটি নিয়ে আগে কোনো নিবন্ধিত লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি রেজিস্ট্রি রেকর্ডে খোঁজ নেওয়া।

Registration Act-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট রেজিস্টার ও ইনডেক্স পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির কপি পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একই আইনে রেজিস্টার তল্লাশি ও নকল দেওয়ার জন্য ফি নির্ধারণের বিধানও রয়েছে।

এখানে লক্ষ্য থাকবে—বিক্রেতা যে মালিকানা দাবি করছেন, তার সঙ্গে রেজিস্ট্রি রেকর্ডের তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং আগে অন্য কোনো হস্তান্তর বা নিবন্ধিত লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় কি না।

শুধু ১০টি কাগজ দেখলেই কি জমি নিরাপদ?

না। এই ১০টি কাগজকে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের তালিকা হিসেবে দেখা উচিত। জমির ধরন ও মালিকানার ইতিহাস অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলোও মিলিয়ে দেখা জরুরি—

খতিয়ান, দলিল ও নামজারিতে দাগ নম্বর একই কি না

জমির পরিমাণে কোনো গরমিল আছে কি না

বিক্রেতার মালিকানার অংশ কতটুকু

জমির শ্রেণি কী

বাস্তবে জমির অবস্থান কাগজের সঙ্গে মেলে কি না

জমিতে অন্য কেউ দখলে আছে কি না

উত্তরাধিকার থাকলে সব ওয়ারিশের বিষয়টি পরিষ্কার কি না

আদালতের মামলা বা আপিলের কোনো বিষয় আছে কি না

প্রতিনিধি দিয়ে বিক্রি হলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বৈধ কি না

রেজিস্ট্রি রেকর্ডে আগের কোনো লেনদেনের তথ্য আছে কি না

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-মিউটেশন ব্যবস্থাতেও জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, দলিল নম্বর ও তারিখসহ বিভিন্ন তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যের গরমিল থাকলে নামজারি প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।

বায়না করার আগেই যাচাই করুন

জমি কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রথমে বায়না করে পরে কাগজপত্র যাচাই করেন। এতে সমস্যা দেখা দিলে টাকা ফেরত পাওয়া বা চুক্তি থেকে বের হওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালের সংশোধনের পর Registration Act-এর ১৭A ধারায় স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়চুক্তি লিখিতভাবে সম্পাদন ও নিবন্ধনের বিধান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তি নিবন্ধনের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমার কথা বলা হয়েছে।

তাই বায়না বা বিক্রয়চুক্তির আগে জমির মালিকানা ও রেকর্ড যাচাই করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

এক নজরে জমি কেনার আগে ১০ কাগজের চেকলিস্ট

ক্রমযে কাগজ দেখবেনকী যাচাই করবেন
১ সর্বশেষ খতিয়ান/পর্চা মালিক, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ
২ নামজারি/খারিজ খতিয়ান বর্তমান মালিকের রেকর্ড
৩ বর্তমান ও আগের দলিল মালিকানার ধারাবাহিকতা
৪ ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা কর পরিশোধ ও জমির তথ্য
৫ মৌজা ম্যাপ/নকশা দাগ ও জমির অবস্থান
৬ বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র পরিচয় ও কাগজের তথ্যের মিল
৭ উত্তরাধিকার সনদ ওয়ারিশ ও মালিকানার অংশ
৮ আদালতের রায়/ডিক্রি মামলা বা মালিকানা বিরোধের অবস্থা
৯ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রতিনিধির মাধ্যমে বিক্রি বৈধ কি না
১০ রেজিস্ট্রি তল্লাশি/রেকর্ড আগের নিবন্ধিত লেনদেন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: জমির কাগজে একটি তথ্য ঠিক আছে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। খতিয়ান → নামজারি → দলিলের ধারাবাহিকতা → করের দাখিলা → ম্যাপ → রেজিস্ট্রি রেকর্ড → বাস্তব দখল—এসবের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটিই মূল যাচাই।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবায় খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।

আইনি সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। কোনো নির্দিষ্ট জমি কেনার আগে কাগজপত্রের প্রকৃতি ও জমির মালিকানার ইতিহাস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: জমি কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কোনটি?

উত্তর: একটি কাগজকে এককভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা নিরাপদ নয়। সর্বশেষ খতিয়ান, নামজারি, মালিকানার ধারাবাহিক দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং রেজিস্ট্রি রেকর্ড—সবগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।

প্রশ্ন: খাজনা দেওয়া থাকলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?

উত্তর: না। ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হলেও এটি একাই মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অন্যান্য মালিকানা ও রেজিস্ট্রি রেকর্ডও যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: নামজারি থাকলে কি জমি কেনা নিরাপদ?

উত্তর: শুধু নামজারি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নামজারির পাশাপাশি মূল দলিল, আগের মালিকানার ধারাবাহিকতা, খতিয়ান, রেজিস্ট্রি রেকর্ড ও বাস্তব দখল যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি কিনলে কী বেশি দেখতে হবে?

উত্তর: উত্তরাধিকার সনদ, সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশদের তথ্য, কার কত অংশ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পক্ষগুলো যুক্ত আছে কি না—এসব বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: জমির আগের দলিল কীভাবে যাচাই করা যায়?

উত্তর: দলিলের তথ্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। Registration Act-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট রেজিস্টার ও ইনডেক্স পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির কপি পাওয়ার বিধান রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ