ইংল্যান্ড বনাম স্পেন: কেইনের পেনাল্টি মিস, নাটকীয় ম্যাচে জয় কার?
একটি পেনাল্টি ম্যাচের চেহারাই বদলে দিল। ৫৪তম মিনিটে হ্যারি কেইন গোল করতে পারলে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেত। কিন্তু শট নেওয়ার সময় পা পিছলে বল দাঁড়ানো পায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগে জয় তুলে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্পেনের টানা অপরাজিত থাকার ধারাও পৌঁছে গেছে ৩৯ ম্যাচে। অন্যদিকে ২০২৪ ইউরো ফাইনালে হারের পর স্পেনের বিপক্ষে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারল না ইংল্যান্ড।
দুই প্রান্তের দুই ভিন্ন গল্প
ম্যাচের শুরুতে স্পেন এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। দ্বিতীয় মিনিটে লামিন ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ড ৩৬তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে সমতা ফেরায়। এরপর স্বাগতিকরা আরও একবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
ইংল্যান্ডের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল পাল্টা আক্রমণের। নিকো উইলিয়ামস পিছলে যাওয়ার পর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে স্বাগতিকরা। অ্যান্থনি গর্ডন বল দেন জুড বেলিংহামকে। হাফওয়ে লাইন থেকে বেলিংহাম আবার গর্ডনের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। ২০ গজ দূর থেকে নিচু শটে ৩৬তম মিনিটে গোল করেন গর্ডন।
গোলের পর ওয়েম্বলির পরিবেশও বদলে যায়। ইংল্যান্ড তখন স্পেনের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে।
বিরতির আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ
গর্ডনের গোলের পর ইংল্যান্ডের সামনে আরও কয়েকটি সুযোগ এসেছিল। কেইনের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর ও’রেইলির ক্রস থেকে কেইনের হেড মার্ক কুকুরেলার প্রসারিত পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়।
কুকুরেলার সামনে অবশ্য দ্রুত ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তার শট ক্রসবারে আঘাত করায় স্পেন আর সমতায় ফিরতে পারেনি।
উল্টো ইংল্যান্ডই তৃতীয় গোল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। জারেল কুয়ানসার নেওয়া শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় ব্যবধান বাড়ানোর সেই সুযোগও নষ্ট হয়।
তবে ম্যাচের শুরুতে স্পেন যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার প্রমাণও তখনই পাওয়া গিয়েছিল।
ভুলের সুযোগে ইয়ামালের গোল
মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব কাজে লাগায় স্পেন। মার্ক গুয়েহি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তার পেছনে থাকা ইয়ামালকে দেখতে পাননি। বল নিয়ে ঘোরার মুহূর্তে ইয়ামাল সেটি কেড়ে নেন এবং দূরের পোস্টের ভেতর দিয়ে শট নিয়ে জেমস ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করেন।
এরপর ইংল্যান্ডকে আরও চাপে ফেলে স্পেন। ফেরান তোরেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পরে ইংল্যান্ডের এলোমেলো রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে আবারও শট নেন তোরেস, কিন্তু এবার ট্রাফোর্ড তা আটকে দেন।
ইয়ামালের একটি দারুণ ফ্লিকের পর দানি ওলমোও গোলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
পেনাল্টির মুহূর্তেই বদলে গেল ম্যাচ
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের সামনে বড় সুযোগ আসে। রদ্রির চ্যালেঞ্জে বক্সের মধ্যে পড়ে যান জুড বেলিংহাম। রেফারি ডেভিড মাসা ভিএআর মনিটরে ঘটনাটি দেখার পর ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি দেন।
কেইনের সামনে তখন ছিল ম্যাচে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার সুযোগ। কিন্তু স্পটকিক নিতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। শটের সময় তার পা পিছলে যায় এবং বল দাঁড়ানো পায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে।
গোল না পাওয়ার সেই মুহূর্তটিই পরে ইংল্যান্ডের জন্য বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বদলি বায়েনার দ্রুত প্রভাব
কেইনের পেনাল্টি মিসের পর স্পেন আক্রমণে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে নামা অ্যালেক্স বায়েনা খুব দ্রুতই ম্যাচে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
ইয়ামালের একটি ব্যাকহিল থেকে স্পেন আবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণ পর ও’রেইলির দুর্বল পাস ওলমো কেটে নিলে সুযোগ তৈরি হয় বায়েনার সামনে। ২০ গজ দূর থেকে শট নিয়ে তিনি স্পেনকে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
স্কোরলাইন ২-২ হওয়ার পর ইংল্যান্ডও জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। বুকায়ো সাকার শক্তিশালী শট দূরের পোস্টের বাইরে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত ওয়ারজাবালের গোল
ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোয়, স্পেনের আক্রমণের গতি তত বাড়তে থাকে। সেই চাপের ফল আসে ৭৪তম মিনিটে।
বায়েনার পাস পেয়ে ওয়ারজাবাল বল পাঠিয়ে দেন ট্রাফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে জালে। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
এই গোলটির তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ ইউরোর ফাইনালেও ওয়ারজাবালের গোলেই ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙেছিল। ওয়েম্বলিতে এবারও তার গোলেই শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের হার নিশ্চিত হয়।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ১০ সপ্তাহ পর মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। স্পেনের বিপক্ষে ২০২৪ ইউরো ফাইনালের হারের জবাব দেওয়ার লক্ষ্যও ছিল তাদের। কিন্তু কেইনের পেনাল্টি মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
FAQ
প্রশ্ন: ইংল্যান্ডকে কত গোলে হারিয়েছে স্পেন?
উত্তর: স্পেন ৩-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে।
প্রশ্ন: হ্যারি কেইন কখন পেনাল্টি মিস করেন?
উত্তর: ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে কেইন পেনাল্টি মিস করেন।
প্রশ্ন: কেইনের পেনাল্টির শট কেন গোলে যায়নি?
উত্তর: শট নেওয়ার সময় কেইনের পা পিছলে যায় এবং বল তার দাঁড়ানো পায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে।
প্রশ্ন: স্পেনের জয়সূচক গোল কে করেন?
উত্তর: ৭৪তম মিনিটে বায়েনার পাস থেকে ওয়ারজাবাল গোল করে স্পেনকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রশ্ন: স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারা কত ম্যাচে দাঁড়িয়েছে?
উত্তর: এই জয়ের পর স্পেনের টানা অপরাজিত থাকার ধারা ৩৯ ম্যাচে পৌঁছেছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- bangladesh vs malaysia live: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে
- কিছুক্ষণ পর ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- আজ বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- চলছে বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: গোল, গোল, সরাসরি দেখুন Live
- চলছে ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কে জিতল?
- আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া ম্যাচ কবে, কখন, কোথায় লাইভ দেখবেন
- কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ: ফ্রিতে মোবাইলে লাইভ দেখবেন যেভাবে
- vivo V80: ৭২০০mAh ব্যাটারি, ১৪৪Hz ডিসপ্লে ও ZEISS ক্যামেরা
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া আজকের খেলা লাইভ