ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাবার জমি ভাই-বোনের মধ্যে ভাগ হবে কীভাবে? জেনে নিন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১১:৪০:৪৫
বাবার জমি ভাই-বোনের মধ্যে ভাগ হবে কীভাবে? জেনে নিন নিয়ম

বাবার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া জমি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি দেখা যায়, তা হলো—কে কতটুকু জমি পাবেন? ছেলে ও মেয়ের অংশ কি সমান, নাকি আলাদা? আর শুধু ওয়ারিশের অংশ জানলেই কি জমি আলাদা করে নিজের নামে নেওয়া যায়? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইনের ওপর। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের উত্তরাধিকার অংশ নির্ধারণের সময় শুধু সন্তানদের সংখ্যা নয়, মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, বাবা-মা এবং অন্য যোগ্য উত্তরাধিকারী জীবিত আছেন কি না, সেটিও বিবেচনায় আসে।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা রেকর্ডে হালনাগাদ করার জন্য নামজারি এবং ভাগ আলাদা করে নিতে চাইলে আইনসম্মত বণ্টননামার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩বি ধারায় উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষদের স্বাক্ষরিত বণ্টননামা নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমেই জানতে হবে—বাবার মৃত্যুর পর কে কে ওয়ারিশ?

কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর সম্পত্তি সরাসরি শুধু ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। উত্তরাধিকার নির্ধারণের আগে দেখতে হয় মৃত ব্যক্তির স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান, বাবা-মা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য উত্তরাধিকারী কারা জীবিত আছেন।

অর্থাৎ, একজন বাবা যদি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান, তাহলে শুধু দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে পুরো জমি ভাগ করে দেওয়ার নিয়ম হবে না। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীও উত্তরাধিকারী হলে তাঁর অংশ আগে হিসাবের মধ্যে আসবে। একইভাবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির বাবা-মাও উত্তরাধিকারী হতে পারেন।

তাই “এক ছেলে কতটুকু এবং এক মেয়ে কতটুকু”—এই হিসাব করার আগে পুরো ওয়ারিশ তালিকা নির্ধারণ করা জরুরি।

মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের অংশ কীভাবে হয়?

বাংলাদেশে মুসলিমদের অন্তঃস্বত্ব বা intestate succession-এর ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য। মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭-এর ২ ধারায় মুসলিমদের উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনকে প্রযোজ্য আইন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও ওই ধারায় কৃষিজমির বিষয়ে একটি ব্যতিক্রমও রয়েছে।

সাধারণভাবে, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে একই স্তরের ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে উত্তরাধিকারী হলে একজন ছেলে দুই অংশ এবং একজন মেয়ে এক অংশ পায়। তবে এটিকে পুরো জমির সরাসরি ২:১ ভাগ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ মৃত ব্যক্তির অন্য ওয়ারিশ থাকলে প্রথমে তাঁদের নির্ধারিত অংশ বিবেচনা করতে হয়, এরপর অবশিষ্ট অংশে সন্তানদের হিসাব হতে পারে।

সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, কোনো মুসলিম বাবা স্ত্রী ওয়ারিশ রেখে মারা গেলেন এবং তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। এখানে স্ত্রীও উত্তরাধিকারী। ফলে পুরো জমি আগে শুধু দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ হবে না।

অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে শুধু দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকে এবং অন্য কোনো অংশীদার ওয়ারিশ না থাকে, তাহলে সন্তানদের অংশের অনুপাত হবে—

উত্তরাধিকারীঅংশের অনুপাত
প্রথম ছেলে ২ অংশ
দ্বিতীয় ছেলে ২ অংশ
মেয়ে ১ অংশ
মোট ৫ অংশ

উত্তরাধিকারী অংশের অনুপাত

অর্থাৎ মোট ৫ অংশের মধ্যে প্রত্যেক ছেলে ২ অংশ করে এবং মেয়ে ১ অংশ পাবে।

তবে এটি কেবল উদাহরণ। বাস্তবে কার কত অংশ হবে, তা নিশ্চিত করতে পুরো ওয়ারিশ তালিকা বিবেচনা করতে হবে।

বাবা জীবিত থাকলে নিয়মটি আলাদা

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর জমিকে সন্তানদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি হিসেবে ভাগ করার প্রশ্ন ওঠে না।

উত্তরাধিকার সাধারণত মালিকের মৃত্যুর পর কার্যকর হয়। বাবা জীবিত অবস্থায় তাঁর সম্পত্তি সন্তানদের দিতে চাইলে সেটি উত্তরাধিকার হিসেবে নয়, বরং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী দান, হেবা বা অন্য বৈধ হস্তান্তরের মাধ্যমে হতে পারে।

অতএব, “বাবার জমি ভাই-বোনের মধ্যে উত্তরাধিকার হিসেবে ভাগ” এবং “বাবা জীবিত অবস্থায় সন্তানদের জমি দিয়ে দেওয়া”—এই দুটি বিষয় এক নয়।

বাবা মারা যাওয়ার পর জমি কীভাবে নিজেদের নামে নেবেন?

উত্তরাধিকার নির্ধারণের পর জমির রেকর্ড হালনাগাদ করার বিষয়টি আসে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তন হলে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদের জন্য মিউটেশন বা নামজারি করতে হয়। উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।

অর্থাৎ, শুধু বাবার মৃত্যুসনদ বা ওয়ারিশের পরিচয় থাকলেই জমির রেকর্ডের কাজ শেষ হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান, প্রয়োজনীয় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ভূমি রেকর্ডের তথ্য ঠিকভাবে মিলিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

ভাই-বোন সবাই মিলে জমি ভাগ করতে চাইলে কী করবেন?

সব উত্তরাধিকারী সম্মত থাকলে নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে নেওয়া যায়। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩বি ধারায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্থাবর সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আপসে ভাগ করার পর বণ্টননামা প্রস্তুত, সংশ্লিষ্ট পক্ষদের স্বাক্ষর এবং নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এরপর সেই নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে খতিয়ান সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়।

এর ফলে প্রত্যেক উত্তরাধিকারী কোন দাগের কতটুকু জমি পেয়েছেন, সেটি আলাদাভাবে নির্ধারণ করার সুযোগ তৈরি হয়।

শুধু খতিয়ানে সবার নাম থাকলেই কি জমি ভাগ হয়ে যায়?

না। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

উত্তরাধিকারসূত্রে একাধিক ব্যক্তি মালিক হলে তাঁদের নাম রেকর্ডে থাকতে পারে। কিন্তু কে কোন নির্দিষ্ট অংশ বা দাগের কোন জায়গা ভোগ করবেন, সেটি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা এবং রেকর্ডে প্রতিফলিত করার জন্য আইনসম্মত বণ্টনের প্রয়োজন হতে পারে।

ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এও উত্তরাধিকার বা অন্যভাবে মালিকানা একাধিক ব্যক্তির ওপর বর্তালে এবং পৃথক নামজারি না হলে জমিকে একই খতিয়ানভুক্ত হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। আর খতিয়ানে অংশ আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলে ১৪৩বি ধারার বিধান অনুযায়ী বণ্টননামা ও তার ভিত্তিতে নামজারির কথা বলা হয়েছে।

ভাই-বোনের মধ্যে কেউ জমি নিতে না চাইলে?

কোনো উত্তরাধিকারী তাঁর প্রাপ্য অংশ অন্য উত্তরাধিকারীকে দিতে চাইলে সেটি শুধু মৌখিকভাবে বলে দিলেই জমির মালিকানা বদলে যায় না। স্থাবর সম্পত্তির অধিকার সৃষ্টি, হস্তান্তর বা বিলোপের সঙ্গে সম্পর্কিত আইনগত দলিলের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। Registration Act, 1908-এর ১৭ ধারায় স্থাবর সম্পত্তির বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি বা হস্তান্তরকারী দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

তাই কোনো ভাই বা বোন নিজের অংশ অন্য ভাই-বোনকে দিতে চাইলে কোন ধরনের দলিল প্রয়োজন, তা সম্পত্তির প্রকৃতি ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করে নিবন্ধিতভাবে কাজ করা নিরাপদ।

হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে কি একই নিয়ম?

না। হিন্দু উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ২:১ নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইন ও প্রথা প্রযোজ্য। যেমন, Hindu Law of Inheritance (Amendment) Act, 1929 নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হিন্দু পুরুষের intestate সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীদের ক্রম নিয়ে বিধান দিয়েছে এবং এর প্রয়োগের ক্ষেত্রও আইনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না দেখবেন যেভাবে, জানুন সহজ পদ্ধতি

খতিয়ান, পর্চা ও দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী?

তাই কোনো হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে শুধু “ছেলে দুই অংশ, মেয়ে এক অংশ”—এই সূত্র প্রয়োগ করে জমি ভাগ করা আইনগতভাবে নিরাপদ নয়। পরিবারের সদস্যদের প্রকৃত সম্পর্ক, সম্পত্তির ধরন, প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি দেখে হিসাব করতে হবে।

উত্তরাধিকার নির্ধারণে কোন বিষয়গুলো আগে যাচাই করবেন?

বাবার জমি ভাগ করার আগে অন্তত এসব তথ্য ঠিকভাবে যাচাই করা উচিত—

বাবা মৃত্যুর সময় কোন ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের অধীন ছিলেন।

মৃত্যুর সময় তাঁর স্ত্রী বা স্বামী জীবিত ছিলেন কি না।

ছেলে-মেয়ে কতজন এবং তাঁদের কেউ আগে মারা গেছেন কি না।

বাবার বাবা-মা জীবিত ছিলেন কি না।

অন্য কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী আছেন কি না।

জমির খতিয়ান ও পূর্ববর্তী মালিকানার কাগজপত্র ঠিক আছে কি না।

জমিটি কৃষিজমি কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিধান প্রযোজ্য কি না।

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আপস করে বণ্টন হবে, নাকি বিরোধ রয়েছে।

এই তথ্যগুলো ছাড়া শুধু জমির পরিমাণ জেনে সঠিক উত্তরাধিকার অংশ বের করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

জমি ভাগের আগে সবচেয়ে বড় যে ভুলটি এড়াতে হবে

অনেক পরিবারে দেখা যায়, বাবা মারা যাওয়ার পর ভাই-বোন নিজেদের মধ্যে বসে জমি ভাগ করে নেন। কিন্তু কে কত অংশের আইনগত মালিক—তা নির্ধারণ না করেই দখল অনুযায়ী জমি ভাগ করে নেওয়া হয়। পরে কোনো উত্তরাধিকারী আপত্তি করলে বিরোধ তৈরি হতে পারে।

তাই প্রথমে আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের তালিকা ও অংশ নির্ধারণ, এরপর পারস্পরিক সম্মতি থাকলে বণ্টননামা নিবন্ধন, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারি ও খতিয়ান হালনাগাদ—এই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা বেশি নিরাপদ। ১৪৩বি ধারায় নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে খতিয়ান সংশোধনের বিধানও রয়েছে।

এক নজরে নিয়ম

বিষয়কী মনে রাখতে হবে
বাবা জীবিত উত্তরাধিকার হিসেবে সন্তানের অংশ কার্যকর হয় না
বাবা মারা গেলে প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্ধারণ হয়
মুসলিম পরিবারের ছেলে-মেয়ে সাধারণভাবে একই স্তরের ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়
স্ত্রী/বাবা-মা জীবিত থাকলে তাঁদের অংশও হিসাব করতে হয়
একাধিক উত্তরাধিকারী প্রত্যেকের আইনগত অংশ নির্ধারণ জরুরি
জমি আলাদা করে ভাগ আপসে বণ্টননামা করে নিবন্ধনের বিধান রয়েছে
নামজারি উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদ করা প্রয়োজন
হিন্দু পরিবার মুসলিম ২:১ সূত্র সরাসরি প্রযোজ্য নয়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: উত্তরাধিকার আইন পরিস্থিতিভেদে জটিল হতে পারে। বিশেষ করে স্ত্রী, বাবা-মা, একাধিক বিবাহ, আগে মারা যাওয়া সন্তান, কৃষিজমি বা অন্য কোনো উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি থাকলে সাধারণ উদাহরণ দিয়ে চূড়ান্ত অংশ নির্ধারণ করা উচিত নয়। জমির সঠিক দাগ-খতিয়ান ও পরিবারের পূর্ণ ওয়ারিশ তালিকা দেখে প্রয়োজনে ভূমি অফিস বা আইনজীবীর সহায়তায় হিসাব করা উচিত।

FAQ

প্রশ্ন: বাবার জমি কি ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমান ভাগ হয়?

উত্তর: সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম নয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে একই স্তরের ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে উত্তরাধিকারী হলে সাধারণভাবে ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়। তবে অন্য ওয়ারিশ থাকলে তাঁদের অংশও আগে হিসাব করতে হয়।

প্রশ্ন: বাবা জীবিত থাকলে ছেলে-মেয়ে কি তাঁর জমির অংশ দাবি করতে পারে?

উত্তর: সাধারণ উত্তরাধিকার হিসেবে নয়। উত্তরাধিকার কার্যকর হয় মালিকের মৃত্যুর পর। বাবা জীবিত অবস্থায় জমি সন্তানকে দিতে চাইলে সেটি আলাদা আইনগত হস্তান্তরের বিষয়।

প্রশ্ন: বাবার মৃত্যুর পর ভাই-বোন নিজেরাই জমি ভাগ করে নিতে পারবেন?

উত্তর: আইনগতভাবে নিরাপদভাবে ভাগ করতে হলে আগে প্রত্যেকের উত্তরাধিকার অংশ নির্ধারণ করতে হবে এবং আপসের ভিত্তিতে ভাগ হলে আইন অনুযায়ী বণ্টননামা প্রস্তুত ও নিবন্ধনের বিষয়টি অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করা যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মিউটেশন ব্যবস্থায় উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ড হালনাগাদের জন্য নামজারির ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন: হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রেও কি ছেলে ২ অংশ ও মেয়ে ১ অংশ পাবে?

উত্তর: না, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ২:১ সূত্র হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা যায় না। হিন্দু উত্তরাধিকার নির্ধারণে প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন ও পরিস্থিতি আলাদাভাবে দেখতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: