ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২ লাখ নাকি ৩ লাখ? কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হয়

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৮:৫৮:১৬
২ লাখ নাকি ৩ লাখ? কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হয়

কারও কাছে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হবে—এ প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক দিয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ইসলামে যাকাত ফরজ হওয়ার আর্থিক সীমাকে বলা হয় নিসাব, আর নিসাবের ভিত্তি নির্ধারিত হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার নির্দিষ্ট পরিমাণের মাধ্যমে। ফলে স্বর্ণ-রুপার বাজারদর পরিবর্তনের সঙ্গে টাকার হিসাবে নিসাবও পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার সমমূল্যের সম্পদ নিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে শুধু নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে যাকাত ফরজ হয়ে যায় না। যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাবের সমান বা তার বেশি থাকার পর এক হিজরি বছর (হাওল) অতিবাহিত হওয়াও সাধারণ নগদ অর্থ, সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক সম্পদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

যাকাত ফরজ হওয়ার মূল শর্ত কী?

যাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। কোরআনে বিভিন্ন স্থানে নামাজের সঙ্গে যাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে। সূরা আল-বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও।”

অর্থাৎ যাকাত শুধু দান বা ঐচ্ছিক সদকা নয়; নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এটি সম্পদের ওপর ফরজ অধিকার।

সাধারণভাবে নগদ টাকা, ব্যাংকে থাকা সঞ্চয়, স্বর্ণ-রুপা এবং ব্যবসার যাকাতযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য মূল বিষয়গুলো হলো—

সম্পদটি যাকাতযোগ্য হতে হবে;

মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাবের সমান বা বেশি হতে হবে;

সাধারণ নগদ ও অনুরূপ সম্পদের ক্ষেত্রে এক হিজরি বছর অতিবাহিত হতে হবে;

এরপর নির্ধারিত হারে যাকাত দিতে হবে।

তাহলে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ?

এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামে যাকাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

নিসাব ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণ ও রুপার ওজনের সঙ্গে নির্ধারিত। প্রচলিত হিসাবে ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার মূল্যকে নিসাবের ভিত্তি ধরা হয়।

তাই আজ যে পরিমাণ টাকা নিসাবের সমান, কয়েক মাস পর স্বর্ণ বা রুপার দাম পরিবর্তিত হলে সেই টাকার অঙ্কও বদলে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো সময় ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার বাজারমূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ওই হিসাবে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিসাবের সমান হবে। আবার রুপার দাম বাড়লে নিসাবের টাকার অঙ্কও বাড়বে।

এ কারণে “সবার জন্য ৩ লাখ টাকা থাকলেই যাকাত ফরজ”—এ ধরনের স্থায়ী দাবি সঠিক নয়।

স্বর্ণের নিসাব কত?

স্বর্ণের ক্ষেত্রে নিসাবের পরিমাণ হিসেবে ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বহুল ব্যবহৃত একটি মান।

অর্থাৎ কারও কাছে যাকাতযোগ্য স্বর্ণের পরিমাণ এই সীমায় পৌঁছালে স্বর্ণের যাকাতের বিষয়টি সামনে আসে। তবে স্বর্ণের সঙ্গে নগদ টাকা, রুপা বা অন্য যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকলে হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

এখানে স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় নিসাব নির্ধারণ করতে হয়। স্বর্ণের দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হওয়ায় স্বর্ণভিত্তিক নিসাবের টাকার অঙ্কও স্থির থাকে না।

রুপার নিসাব কত?

রুপার ক্ষেত্রে নিসাব ৬১২.৩৬ গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচ উকিয়ার কম রুপার ওপর যাকাত নেই বলে জানিয়েছেন।

আধুনিক হিসাবে পাঁচ উকিয়াকে ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার সমতুল্য হিসেবে ধরা হয়। তবে রুপার নিসাবের ওজনকে গ্রামে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে আলেমদের ব্যবহৃত মানে সামান্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে নির্ভরযোগ্য আলেম বা যাকাত বিশেষজ্ঞের ব্যবহৃত মান অনুসরণ করা ভালো।

নগদ টাকা ও ব্যাংকের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কী হবে?

আজকের সময়ে অধিকাংশ মানুষের সম্পদের বড় অংশ থাকে নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ে।

এসব অর্থ যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে পড়তে পারে। তাই শুধু হাতে থাকা নগদ টাকা দেখলেই হবে না; ব্যাংক বা অন্যান্য হিসাবে থাকা যাকাতযোগ্য সঞ্চয়ও মোট সম্পদের হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

একাধিক ধরনের যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকলে সেগুলো একসঙ্গে হিসাব করে নিসাবের সঙ্গে তুলনা করা হয়। উদাহরণ হিসেবে নগদ টাকা, ব্যাংক সঞ্চয়, স্বর্ণ, রুপা এবং ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য বিবেচনায় আসতে পারে।

২ লাখ টাকা থাকলেই কি যাকাত দিতে হবে?

এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—সব সময় নয়।

কারণ যাকাতের নিসাব টাকার অঙ্কে স্থায়ী নয়। ২ লাখ টাকা কোনো সময়ে রুপার নিসাবের ওপরে থাকতে পারে, আবার অন্য সময়ে রুপার বাজারদর অনুযায়ী নিসাবের নিচেও থাকতে পারে।

এ ছাড়া ব্যক্তির অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদ ও প্রযোজ্য দায়-দেনার হিসাবও বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে শুধু একটি ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ টাকা আছে বলেই সবার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

যাকাতের হার কত?

নগদ টাকা, সঞ্চয়, স্বর্ণ-রুপা ও ব্যবসায়িক সম্পদের মতো সাধারণ যাকাতযোগ্য সম্পদের ক্ষেত্রে প্রচলিত যাকাতের হার ২.৫ শতাংশ, অর্থাৎ মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ।

সহিহ বুখারিতে যাকাতসংক্রান্ত নির্দেশনায় রুপার ক্ষেত্রে এক-চল্লিশাংশ বা ২.৫ শতাংশের উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে কারও মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ যদি হিসাবের দিনে ১০ লাখ টাকা হয় এবং তার ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার সব শর্ত পূরণ থাকে, তাহলে সাধারণ হিসাবে যাকাত হবে—

১০,০০,০০০ × ২.৫% = ২৫,০০০ টাকা।

তবে এটি কেবল বোঝানোর জন্য সাধারণ উদাহরণ। প্রকৃত যাকাত নির্ধারণে ব্যক্তির সম্পদের ধরন, দায়-দেনা ও সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিধান বিবেচনা করতে হবে।

এক বছর বলতে কত দিন?

এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। যাকাতের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে হিজরি বা চন্দ্র বছর ধরা হয়, ইংরেজি ১২ মাস নয়।

এক হিজরি বছর প্রায় ৩৫৪ দিনের। যাকাতের ব্যাখ্যায় এই সময়কে ‘হাওল’ বলা হয়। নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর সাধারণ নগদ ও অনুরূপ যাকাতযোগ্য সম্পদের ক্ষেত্রে এক হিজরি বছর পূর্ণ হলে যাকাত আদায়ের বিষয়টি আসে।

তবে সম্পদের ধরনভেদে হাওলের বিধান আলাদা হতে পারে। কৃষিপণ্যের মতো কিছু সম্পদের ক্ষেত্রে এক বছর অপেক্ষার নিয়ম নেই। তাই সব ধরনের সম্পদের ওপর একই নিয়ম প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

বছরজুড়ে টাকা কম-বেশি হলে কী হবে?

বাস্তবে কারও ব্যাংক ব্যালান্স বা সঞ্চয়ের পরিমাণ সারা বছর একই থাকে না। কখনো বাড়ে, কখনো কমে।

এই পরিস্থিতিতে নিসাব ও হাওলের হিসাব কীভাবে করা হবে—এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে হানাফি ফিকহে বছরের শুরু ও শেষের নিসাব-সংক্রান্ত হিসাবের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।

তাই কারও সম্পদ বছরে বারবার নিসাবের নিচে নেমে গেলে সাধারণ একটি অনলাইন হিসাব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। নিজের মাজহাব ও স্থানীয় আলেমের নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব করা নিরাপদ।

স্বর্ণের গয়না থাকলে কি যাকাত দিতে হবে?

স্বর্ণের গয়নার যাকাত নিয়ে ফিকহে মতভেদ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের স্বর্ণালংকারের ওপর যাকাত ফরজ কি না—এ বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসা বা সম্পদ হিসেবে রাখা স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। তাই শুধু “গয়না আছে” বলেই যাকাত আছে বা নেই—এভাবে সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

বিশেষ করে নারীর ব্যক্তিগত ব্যবহারের গয়না, সঞ্চয় হিসেবে রাখা স্বর্ণ এবং ব্যবসার পণ্য—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে।

ব্যবসার টাকার ক্ষেত্রেও কি যাকাত আছে?

ব্যবসার জন্য রাখা পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্পদও যাকাতের হিসাবের আওতায় আসতে পারে। যাকাতের হিসাব করার সময় যাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করে মোট সম্পদের সঙ্গে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়।

অর্থাৎ দোকানে পণ্য আছে বলে সেটি যাকাতের বাইরে থাকবে—এমন নয়। আবার দোকানের চেয়ার-টেবিল, ভবন বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত স্থায়ী সরঞ্জামকে পণ্যদ্রব্যের মতো করে হিসাব করাও ঠিক নয়।

ব্যবসার জটিল হিসাব থাকলে অভিজ্ঞ আলেম বা যাকাত বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া ভালো।

ঋণ থাকলে যাকাতের হিসাব কীভাবে হবে?

কারও ওপর ঋণ থাকলে যাকাতের হিসাব আরও সতর্কভাবে করতে হয়। কোন ধরনের ঋণ বা কতটা দায় মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে—এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে।

তাই উদাহরণ হিসেবে কারও কাছে ৫ লাখ টাকা আছে এবং তার ৩ লাখ টাকা ঋণ আছে—শুধু ৫ লাখ থেকে সরাসরি ৩ লাখ বাদ দিয়ে বাকি ২ লাখের ওপর যাকাত হবে, এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ঋণের ধরন, পরিশোধের সময় এবং অনুসৃত ফিকহি মত অনুযায়ী হিসাব ভিন্ন হতে পারে।

কোরআনে যাকাত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

কোরআনে যাকাতের গুরুত্ব একাধিক স্থানে এসেছে। সূরা আল-বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে নামাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাকাত দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

সূরা আত-তাওবার ১০৩ নম্বর আয়াতেও নবী (সা.)-কে তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ যাকাতের উদ্দেশ্য শুধু সম্পদের একটি অংশ অন্যকে দেওয়া নয়; এটি সম্পদ পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।

হাদিসে যাকাতের নিসাবের প্রমাণ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে বিভিন্ন সম্পদের জন্য আলাদা নিসাবের নির্দেশ পাওয়া যায়।

সহিহ মুসলিমে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচ উকিয়ার কম রুপা, পাঁচ উসুকের কম শস্য/খেজুর এবং পাঁচটির কম উটের ওপর যাকাত নেই।

সহিহ বুখারিতে আবু বকর (রা.)-এর সময়ে যাকাতের পরিমাণ ও বিভিন্ন সম্পদের নিসাবসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনাও সংরক্ষিত হয়েছে। সেখানে রুপার ক্ষেত্রে এক-চল্লিশাংশ বা ২.৫ শতাংশের কথা উল্লেখ আছে।

এসব হাদিস থেকেই বোঝা যায়, যাকাতের বিধান কেবল নগদ টাকার একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপর নির্ভর করে না; সম্পদের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী শরিয়তে এর বিস্তারিত বিধান রয়েছে।

নিসাব নির্ধারণে স্বর্ণ নাকি রুপা—কোনটি ধরবেন?

এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি পার্থক্য রয়েছে।

সমসাময়িক যাকাত নির্দেশিকাগুলোতে স্বর্ণ ও রুপা—দুই মানই ব্যবহৃত হয়। কিছু আলেম রুপার নিসাব ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেন, কারণ সাধারণত এর মূল্য স্বর্ণের তুলনায় অনেক কম হয় এবং এতে বেশি মানুষ যাকাতের আওতায় আসেন। আবার অন্য আলেম স্বর্ণের নিসাবকে অধিক উপযুক্ত মনে করেন।

হানাফি মাজহাবের প্রচলিত ফিকহি অবস্থানে রুপার নিসাব ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে অন্যান্য মাজহাবের মধ্যে স্বর্ণভিত্তিক নিসাবের মতও রয়েছে।

সুতরাং একটি ওয়েবসাইটে “যাকাতের নিসাব মানেই অমুক টাকা”—এভাবে কোনো স্থায়ী অঙ্ক প্রকাশ করলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

যাকাতের হিসাব করার সহজ পদ্ধতি

নিজের যাকাত হিসাব করতে প্রথমে নির্দিষ্ট একটি তারিখ ঠিক করা যেতে পারে। এরপর ওই তারিখে নিজের যাকাতযোগ্য সম্পদগুলো হিসাব করতে হবে।

ধাপগুলো হতে পারে—

১. হাতে থাকা নগদ টাকা হিসাব করুন।

২. ব্যাংক ও অন্যান্য হিসাবে থাকা যাকাতযোগ্য সঞ্চয় যোগ করুন।

৩. যাকাতযোগ্য স্বর্ণ ও রুপার বর্তমান মূল্য হিসাব করুন।

৪. ব্যবসার যাকাতযোগ্য পণ্যের মূল্য যোগ করুন।

৫. প্রযোজ্য ও গ্রহণযোগ্য দায়-দেনার হিসাব করুন।

৬. মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাবের সমান বা বেশি কি না যাচাই করুন।

৭. হাওল পূর্ণ হওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হলে তা নিশ্চিত করুন।

৮. এরপর সাধারণ যাকাতযোগ্য সম্পদের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ হিসাব করুন।

কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়—এর কোনো চিরস্থায়ী টাকার অঙ্ক নেই। যাকাতের নিসাব স্বর্ণ ও রুপার নির্ধারিত পরিমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ায় বাজারদরের সঙ্গে টাকার হিসাবে নিসাব পরিবর্তিত হয়। প্রচলিত হিসাবে নিসাব ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার সমমূল্য।

তাই নিজের কাছে শুধু “কত টাকা আছে” তা দেখলেই যাকাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নগদ টাকা, ব্যাংক সঞ্চয়, স্বর্ণ-রুপা, ব্যবসায়িক সম্পদ ও প্রযোজ্য দায়-দেনা মিলিয়ে প্রকৃত যাকাতযোগ্য সম্পদ নির্ধারণ করতে হবে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিসাবের মানদণ্ড স্বর্ণ নাকি রুপা হবে এবং ঋণ বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের গয়নার ক্ষেত্রে কীভাবে হিসাব হবে—এসব বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। তাই বড় অঙ্কের সম্পদ বা জটিল আর্থিক পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত আলেম/মুফতির পরামর্শ নিয়ে যাকাতের হিসাব করা উত্তম।

FAQ

প্রশ্ন: কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

উত্তর: নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী টাকার অঙ্ক নেই। নিসাবের ভিত্তি স্বর্ণ বা রুপার নির্ধারিত পরিমাণের মূল্য। প্রচলিত হিসাবে ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ বা ৬১২.৩৬ গ্রাম রুপার সমমূল্য নিসাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন: ২ লাখ টাকা থাকলে কি যাকাত দিতে হবে?

উত্তর: শুধু ২ লাখ টাকা আছে বলেই সবার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। ওই টাকার সঙ্গে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদ, প্রযোজ্য দায় এবং আপনার অনুসৃত নিসাবের মানদণ্ড বিবেচনা করতে হবে।

প্রশ্ন: যাকাতের হার কত শতাংশ?

উত্তর: সাধারণ নগদ অর্থ, সঞ্চয়, স্বর্ণ-রুপা ও ব্যবসায়িক সম্পদের ক্ষেত্রে যাকাতের হার সাধারণত ২.৫ শতাংশ। সহিহ বুখারির যাকাতসংক্রান্ত নির্দেশনাতেও রুপার ক্ষেত্রে এক-চল্লিশাংশের কথা এসেছে।

প্রশ্ন: ব্যাংকে থাকা টাকার ওপর কি যাকাত দিতে হয়?

উত্তর: যাকাতযোগ্য ব্যাংক সঞ্চয়ও মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের মধ্যে আসে। নিসাব ও হাওলের শর্ত পূরণ হলে এর ওপর যাকাত প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রশ্ন: স্বর্ণের নিসাব নাকি রুপার নিসাব—কোনটি ধরতে হবে?

উত্তর: এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবের প্রচলিত অবস্থানে রুপার নিসাব ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে অন্যান্য মাজহাবের মধ্যে স্বর্ণভিত্তিক নিসাবের মতও রয়েছে। তাই নিজের অনুসৃত মাজহাব অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: