ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্ঞানেশের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: রাহুল গান্ধী

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২১:০০:০৩
জ্ঞানেশের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: রাহুল গান্ধী

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধের নিষ্পত্তিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের পথে হাঁটছে কংগ্রেস। সোমবার বিকেলেই আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।

সোমবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁদের আপত্তি শুধু রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, এই লড়াইয়ের সঙ্গে সংবিধান, গণতন্ত্র এবং দেশের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। তাই দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এবার আদালতে যাওয়ার ঘোষণা কংগ্রেসের

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিরোধীরা প্রথমে কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান রাহুল। কিন্তু সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ। পরদিন যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর তাঁরা রাজঘাটে গিয়ে প্রার্থনা করেন।

এবার আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। প্রধান বিচারপতি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি—এমন প্রচারের সমালোচনা করে রাহুলের বক্তব্য, এতে মূল বিষয়টি আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রধান বিচারপতি তাঁদের পিটিশন বা আবেদন দাখিল করার পথ দেখিয়েছেন। সেই অনুযায়ী সোমবার বিকেলেই আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে কেন রাজসাক্ষী হতে বলছেন রাহুল

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করার পাশাপাশি রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্যায়ের অভিযোগ থাকলেও তিনি মূল অপরাধী নন; বরং অন্যদের নির্দেশ ও চাপের মধ্যে কাজ করছেন বলে রাহুল মনে করেন।

জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে রাহুল বলেন, পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়াই তাঁর জন্য প্রায়শ্চিত্তের পথ। এ ধরনের আহ্বান এবারই প্রথম নয়; এর আগেও কংগ্রেস নেতা তাঁকে একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাহুল আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধানও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষায়, কমিশনারের উচিত রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।

মোদি, শাহ, দোভাল ও আদানিকে নিয়ে অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, তাঁদের চাপের কারণেই কমিশনকে ঘিরে অনিয়ম ঘটছে এবং এর ফলে সংবিধান বিপদের মুখে পড়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে। তিনি এই বিরোধকে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, দ্রুত আন্দোলন শেষ করার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

দিল্লিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের দাবি

আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন রাহুল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহরকে দুর্গের মতো করে রাখা হয়েছে এবং রাস্তায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুলের দাবি, পুলিশের ৫০ শতাংশ সদস্য তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পুলিশ সদস্যরা বিরোধীদের জানিয়েছেন, তাঁরা যা করছেন, তা ঠিক করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কীভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যাচার করেছে এবং কীভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদস্যদের রাস্তায় নামানো ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে, তা বোঝাতে ভিডিও দেখান রাহুল। তাঁর মতে, এই লড়াই সহজ নয়। এগিয়ে যেতে হলে ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের দাবি

সরকারের ভেতরের তথ্য পাওয়ার বিষয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

রাহুলের বক্তব্য, এসব কর্মকর্তার কাছ থেকে তাঁরা সরকারের বিষয়ে নিয়মিত খবর পাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁদের হাতে নতুন নতুন তথ্যও তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেপির সদস্যদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান

আন্দোলনকে শুধু কংগ্রেসের কর্মসূচি হিসেবে দেখতে নারাজ রাহুল। তাঁর আহ্বান, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে দলীয় অবস্থানের বাইরে এসে সবাইকে অংশ নিতে হবে। বিজেপির মধ্যেও যাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, এই লড়াই দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র এবং মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যে যেভাবে পারেন, আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পরিস্থিতি বুঝেই ঠিক হবে পরবর্তী কর্মসূচি

এরপর কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। প্রতিটি পদক্ষেপ আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। আকাশবাণী ভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও পূর্বপরিকল্পিত ছিল না বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।

পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, আন্দোলনের গতিপথও সেভাবে নির্ধারিত হবে বলে জানান রাহুল। তবে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের কাছে কী দাবি জানিয়েছেন?

রাহুল গান্ধী ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২. কংগ্রেস কবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে?

রাহুল গান্ধীর ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগে রাহুল কার কার নাম বলেছেন?

তিনি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করেছেন।

৪. আন্দোলন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অবস্থান কী?

তিনি জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

৫. সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে কী দাবি করেছেন রাহুল?

তাঁর দাবি, ইডি, সিবিআই ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তথ্য দিচ্ছেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ