ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কুয়াকাটায় মাসুদ সাঈদীর রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধ করল প্রশাসন

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১০:২৭:৫৫
কুয়াকাটায় মাসুদ সাঈদীর রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধ করল প্রশাসন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে জমির ব্যবহারের সামঞ্জস্য এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকল্পটির চেয়ারম্যান পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।

নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর প্রকল্প এলাকায় সতর্কবার্তাও টাঙিয়েছে প্রশাসন। কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনাটির সামনে লাল অক্ষরে লেখা একটি ব্যানার দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, “এই স্থাপনাটি যথাযথ অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রেল অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত জমিতে নির্মাণের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও ভূমি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার লতাচাপলী মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ২৯২-এর আওতাভুক্ত প্রায় ২১ একর ৬৬ শতাংশ জমিতে রিসোর্ট প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে। চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের কাছে জমিটিতে নির্মাণকাজ জোরেশোরে শুরু হয়।

প্রকল্প এলাকার প্রায় ছয় একর জমি ঘিরে ইতোমধ্যে বিশাল সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি আধুনিক মসজিদ ও বড় আকারের কনভেনশন হল তৈরির অবকাঠামোগত কাজ চলছিল।

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, কুয়াকাটার সরকারি মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি ভবিষ্যতের রেল অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা নির্মাণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সেখানে নির্মাণকাজ চালানোর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

অভিযানে ছিলেন যেসব কর্মকর্তা

মঙ্গলবার দুপুরে নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক জানান, যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ করা বিদ্যমান আইনে দণ্ডনীয়। বিএস জরিপ অনুযায়ী, জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাভুক্ত হলেও অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ করায় তা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারি মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি ভবিষ্যৎ রেল অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার জন্য চিহ্নিত রয়েছে।

আগেই কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: ইউএনও

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের ভাষ্য, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো নির্মাণকাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়া প্রয়োজন। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে এর আগে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।

তিনি বলেন, সোমবার কুয়াকাটা পরিদর্শনে এসে বিভাগীয় কমিশনার এ বিষয়ে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজের মালিক বা উদ্যোক্তা কে, সেটি বিবেচ্য নয়; আইন সবার জন্য সমান।

ইউএনও আরও জানান, পিরোজপুরের একজন সংসদ সদস্য প্রকল্পটি নির্মাণ করছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রকল্পের প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি

নির্মাণকাজ বন্ধের অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, অভিযানের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; কলাপাড়ায় থাকায় এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারছেন না।

অন্যদিকে, প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

পাঠকের সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর

১. কুয়াকাটায় কোন রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে?

‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

২. কেন নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে?

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এবং সরকারি মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্মাণকাজ চলছিল।

৩. প্রকল্পটির চেয়ারম্যান কে?

প্রকল্পটির চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, যিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

৪. রিসোর্ট প্রকল্পটি কত জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে?

স্থানীয় সূত্র ও ভূমি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি লতাচাপলী মৌজায় প্রায় ২১ একর ৬৬ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে।

৫. নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ কবে দেওয়া হয়?

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: