ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

৩৮তম বিসিএস: জাল সনদের অভিযোগে দুই ক্যাডারের বিদেশযাত্রা বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৬:৫৫:১৯
৩৮তম বিসিএস: জাল সনদের অভিযোগে দুই ক্যাডারের বিদেশযাত্রা বন্ধ

৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া দুজন এখন আইনি জটিলতায়। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল সনদ বানিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সঞ্জয় দাস ও আবু সালেহ মো. মুসাকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।

কে কোন ক্যাডারে

সঞ্জয় দাস ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন। একই বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন আবু সালেহ মো. মুসা। এই দুজনের বিরুদ্ধেই জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে।

মঙ্গলবারের আদেশ

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুজনের ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা।

অভিযোগের মূল জায়গা

নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল দুদক। সেখানে বলা হয়, সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে দুজন জেনেশুনে অসৎ মতলবে এবং আর্থিক সুবিধা পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রতারণা ও জালিয়াতির পথে তাঁরা জাল সনদ তৈরি করেন।

দুদকের বক্তব্য, এই সনদ আসল ও বৈধ দলিল বলে চালিয়ে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে বিভ্রান্ত করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ানো। এর পরিণতিতেই দুজন ক্যাডার পদে সুপারিশ পান বলে আবেদনে উল্লেখ আছে।

চাকরিতে যোগ, তারপর মামলা

সুপারিশের পর চাকরিতে যোগ দিয়ে দুজনই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য অর্থ তুলেছেন। এতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা কেন চাওয়া হলো

আবেদনে দুদক জানায়, বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, দুই আসামি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাই তদন্ত চলাকালে তাঁদের বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আদালতকে বোঝানো হয়।

প্রতিবেদনটি দুদকের আবেদনের বক্তব্য ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতে লেখা। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. কোন দুই ক্যাডারের ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা এসেছে?

৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসার ওপর।

২. নিষেধাজ্ঞার আদেশ কে দিয়েছেন?

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)।

৩. নিষেধাজ্ঞা কেন চাওয়া হয়েছিল?

দুদক আদালতকে জানায়, বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে আসামিরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।

৪. দুজনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ কী?

জাল সনদ তৈরি করে তা বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার, সরকারি কর্ম কমিশনকে বিভ্রান্ত করা এবং চাকরিতে যোগ দিয়ে বেতন-ভাতা তুলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ।

৫. মামলা এখন কোন পর্যায়ে?

মামলার তদন্ত চলছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: