মাদরাসায় গিয়ে আর ফেরেনি ছাত্রী, অভিযুক্ত পরিচালক
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় প্রথমে হুমকি, তারপর একদিন সকালে মাদরাসা থেকে নিখোঁজ। গাজীপুরের জয়দেবপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মেয়েটির বাবার করা মামলায় আসামি করা হয়েছে মোট পাঁচজনকে। ছাত্রীকে খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক দল।
প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যান আর হুমকি
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসার ছাত্রী ছিল মেয়েটি। সেখানকার শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বহুদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ। ছাত্রী রাজি না হলে তিনি জোর করে তুলে নেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করেন।
মেয়েটি পরিবারকে সব জানালে অভিভাবকেরা আরিফুলকে এমন আচরণ থেকে সরে আসতে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এতে তিনি আরও রেগে যান এবং ভয় দেখানো বন্ধ করেননি।
১০ অক্টোবরের সকাল
হুমকির ধারাবাহিকতাতেই ১০ অক্টোবর সকালে ঘটে ঘটনাটি। সেদিন মাদরাসায় যাওয়ার পর ছাত্রীকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার ভাষ্য, অন্য আসামিদের সহযোগিতায় আরিফুল এ কাজ করেছেন। মেয়ের খোঁজে নানা জায়গায় ছোটাছুটি করেও কোনো হদিস না পেয়ে পরিবার শেষ পর্যন্ত থানার দ্বারস্থ হয়।
রোববার রাতে থানায় মামলা
রোববার রাতে ছাত্রীর বাবা জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার ওসি আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিদের পরিচয়
মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলাম। জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট সংলগ্ন দারুল মা’আরিফ হোসাইনিয়া (কওমি) মাদরাসা ও মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসা, এই দুই প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক তিনি।
তাঁর সঙ্গে আসামির তালিকায় আছেন ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। সবার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর বওলায়। তাঁরা এখন গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশ কী বলছে
ওসি আল মামুন জানান, মাদরাসাছাত্রীকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
আলোচনায় আরেক ঘটনা
গাজীপুরের টঙ্গীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই রেশ কাটার আগেই মাদরাসাসংশ্লিষ্ট আরেকজনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে অপহরণের এই অভিযোগ সামনে এল।
প্রতিবেদনটি মামলার অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. গাজীপুরে কার বিরুদ্ধে ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে?
জয়দেবপুরের দুটি মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মামলায় তিনি প্রধান আসামি।
২. ছাত্রী কবে নিখোঁজ হয়?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পর তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়।
৩. মামলা কে করেছেন, আসামি কতজন?
ছাত্রীর বাবা রোববার রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। আসামি মোট পাঁচজন।
৪. আসামিরা কারা?
আরিফুল ইসলাম, তাঁর ভাই শরীফ মিয়া, বাবা সেলিম মিয়া, মা রহিমা খাতুন এবং দেলোয়ার হোসেন।
৫. ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ কী করছে?
ওসি আল মামুন জানিয়েছেন, ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ওয়ানডে দলে ফিরবেন মুশফিক-রিয়াদ? ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন ডি ভিলিয়ার্স?
- জমির দলিল হারালে নকল তুলতে কত টাকা খরচ হবে?
- টেক্সটাইল খাতে সংকট, বন্ধ ১৪ কোম্পানির কারখানা,বিপাকে বিনিয়োগকারীরা
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৬টি দেশের টাকার মান
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার ভরি কত করে
- আজ ব্যালন ডি’অর ২০২৬, কার হাতে উঠবে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার?