প্রতি তিন মাসে মুনাফা তোলার সঞ্চয়পত্র, কিনতে পারেন যে কেউ
সরকারি সঞ্চয়পত্রের তালিকায় কিছু আছে নির্দিষ্ট মানুষের জন্য, যেমন নারীদের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্র, অবসরভোগীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যেই আছে একটি সঞ্চয়পত্র, যেটি কিনতে কোনো বিশেষ পরিচয় লাগে না এবং যার মুনাফা জমে থাকে না, প্রতি তিন মাস অন্তর তুলে নেওয়া যায়। প্রায় ২৮ বছর আগে চালু হওয়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক এই সঞ্চয়পত্রকে তাই সর্বজনীন বলাই যায়।
কোন অঙ্কের টাকায় কেনা যায়
এই সঞ্চয়পত্র এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ ও দশ লাখ টাকা মূল্যমানে পাওয়া যায়। মেয়াদ তিন বছর।
মুনাফা কেমন
মেয়াদ পূর্ণ করলে মুনাফার হার নির্ভর করে কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে তার ওপর:
সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত: ১১.৮২ শতাংশ
তার বেশি: ১১.৭৭ শতাংশ
হারের দিক থেকে এটি পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের কাছাকাছি।
মুনাফা থেকে কর কত কাটা যায়
মুনাফার ওপর অগ্রিম কর কাটার ভিত্তি আয়কর আইন-২০২৩–এর ১০৫ ধারা। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলে মুনাফার ১০ শতাংশ কাটা হয়। না থাকলে কাটা হয় ১৫ শতাংশ।
এ বছর থেকে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। কাটা এই টাকা আর চূড়ান্ত করদায় নয়, ফলে আয়কর রিটার্ন জমার সময় সমন্বয় করা যাবে। এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায়ের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
কেনা-ভাঙানোর ঠিকানা
জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর, এই চার জায়গায় সঞ্চয়পত্রটি কেনা ও ভাঙানো যায়।
মাঝপথে টাকার দরকার হলে
মেয়াদ ফুরানোর আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে মুনাফার হার কমে যায়। এ ছাড়া সে সময় আগে বাড়তি যে অর্থ পরিশোধ করা হয়ে থাকলে তা মূল টাকা থেকে কেটে রাখা হয়।
কোনো ক্রেতা মারা গেলে
সঞ্চয়পত্র কেনার সময় নমিনি নিয়োগ করা যায়। ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনির সামনে দুটি পথ খোলা:
সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে টাকা তুলে নেওয়া
মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের মতোই প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা তোলা
স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগ
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইস্যু অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া যায়।
কারা কিনতে পারবেন
ব্যক্তি: সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক।
প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা:
আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২)–এর বিধি ৪৯-এর উপবিধি (২)-এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্য তহবিল।
আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪–এর ষষ্ঠ তফসিলের পার্ট–এ–এর অনুচ্ছেদ-৩৪ অনুযায়ী মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগির খামার, পেলিটেড পোলট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদিপশুর খামার, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতার চাষ থেকে অর্জিত আয়, যা সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার প্রত্যয়ন করেছেন।
অটিস্টিকদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা তাঁদের সহায়তায় গড়া অন্য প্রতিষ্ঠান। শর্ত হলো, বিনিয়োগের মুনাফা অটিস্টিকদের সহায়তায় ব্যবহার করতে হবে এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।
দুস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান, যেমন অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার ও এতিমখানা।প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র।
বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা
ক্রেতার ধরন অনুযায়ী সীমা আলাদা:
ব্যক্তি: একক নামে ৩০ লাখ টাকা, যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা।
ভবিষ্য তহবিল: মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা।
ফার্ম: সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ কত?
তিন বছর। মেয়াদের আগে ভাঙালে মুনাফার হার কমে।
২. মুনাফা কত শতাংশ?
মেয়াদ পূর্ণ করলে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ, এর বেশি হলে ১১.৭৭ শতাংশ।
৩. টিআইএন না থাকলে কত কর কাটা হবে?
টিআইএন না থাকলে মুনাফার ১৫ শতাংশ কাটা হবে। টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ।
৪. ক্রেতা মারা গেলে কী হয়?
নমিনি চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে টাকা তুলতে পারেন, আবার চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর মুনাফা তুলতে পারেন।
৫. একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন?
একক নামে ৩০ লাখ টাকা এবং যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত
- মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬, সর্বশেষ খবর
- Ballon d’Or 2026 Rankings: শীর্ষে ইয়ামাল, সেরা ১০ কারা?
- OPPO Find X10 Ultra: ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় কী থাকছে?
- এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬: রোল নম্বর দিয়ে ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম