ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল? যেভাবে সংশোধন করবেন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৫:৪৭:২৫
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল? যেভাবে সংশোধন করবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নিজের নাম, বাবার নাম বা মায়ের নাম ভুল লেখা থাকলে তা সংশোধনের জন্য বিআরটিএতে আবেদন করা যায়। তবে সংশোধনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রাসঙ্গিক নথিতে নামের বানান ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এরপর নির্ধারিত আবেদন ফরম, ভুলের পক্ষে প্রমাণপত্র এবং প্রযোজ্য ফি জমার রসিদসহ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

অনেকেই লাইসেন্সে নামের একটি অক্ষর ভুল থাকার বিষয়টি ছোট সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্যের অমিল থাকলে পরবর্তী সময়ে লাইসেন্স নবায়ন বা অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভুলটি চোখে পড়ার পরই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া ভালো।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের জন্য কোন ফরম লাগবে?

বিআরটিএর ওয়েবসাইটে ফরম-৪(খ) নামে একটি আবেদন ফরম রয়েছে। এটি মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন, প্রতিলিপি, শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন, ধরন পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন এবং তথ্য সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

ফরমটি বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যায়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিন, আপনার ক্ষেত্রে ফরমটি কীভাবে পূরণ করতে হবে এবং কোন কোন কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

ফরম সংগ্রহের জন্য বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইটের ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল ফরম’ বিভাগেও যেতে পারেন।

নাম সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নামের ভুল সংশোধনের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. কোন তথ্যটি ভুল, তা যাচাই করুন

প্রথমে লাইসেন্সে লেখা নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা প্রাসঙ্গিক পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। নিজের নামের বানান, বাবার নাম কিংবা মায়ের নামের কোথায় ভুল রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।

যে নথির ভিত্তিতে নাম সংশোধন করতে চান, সেটিতে সঠিক তথ্য থাকা প্রয়োজন। অন্য পরিচয়পত্রেও যদি নামের ভুল থাকে, তাহলে কোন নথিতে সংশোধন আগে প্রয়োজন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।

২. ফরম-৪(খ) সংগ্রহ ও পূরণ করুন

বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম-৪(খ) সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। আবেদনে লাইসেন্সের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য এবং কোন তথ্য সংশোধন করতে চান, তা নির্ভুলভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নাম সংশোধনের কারণও পরিষ্কারভাবে লিখুন। ফরম পূরণের সময় কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে অনুমান করে না লিখে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সহায়তা নিন।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

আবেদনের সঙ্গে সাধারণত সংশোধনের পক্ষে প্রমাণপত্র এবং বিদ্যমান লাইসেন্সের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখুন:

বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি; প্রয়োজনে মূল লাইসেন্স।

জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের মতো প্রাসঙ্গিক পরিচয়পত্র, যদি প্রয়োজন হয়।

শিক্ষাগত সনদ বা নামের সঠিক বানান প্রমাণ করে এমন অন্য নথি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

নির্ধারিত আবেদন ফরম।

প্রযোজ্য ফি জমার রসিদ।

নাম পরিবর্তনের মতো বিশেষ পরিস্থিতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইবে, তা।

এটি সম্ভাব্য কাগজপত্রের তালিকা। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রতিটি নথি বাধ্যতামূলক—এমন নয়। নামের ভুলের ধরন ও আবেদনকারীর নথি অনুযায়ী বিআরটিএ অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

৪. সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে আবেদন জমা দিন

ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন। বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফি জমার রসিদ এবং সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।

কিছু সেবার আবেদন বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে করা যায়। তবে নাম সংশোধনের আপনার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোন ধাপে অনলাইনে আবেদন করা যাবে এবং কোথায় সরাসরি কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা আগে নিশ্চিত করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার, আবেদন নম্বর বা ফি জমার রসিদ নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা জানতে এগুলো কাজে লাগতে পারে।

৫. যাচাই শেষে সংশোধিত লাইসেন্স সংগ্রহ করুন

আবেদন ও সংযুক্ত নথি যাচাই করে বিআরটিএ সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধিত তথ্য কীভাবে লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সংশোধিত কার্ড বা নথি কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জেনে নিন।

আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন সম্পন্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যাচাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার কারণে সময় লাগতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের ফি কত?

নাম সংশোধনের ফি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিআরটিএর সর্বশেষ ফি তালিকা বা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ফি পরিবর্তন হতে পারে এবং কোন ধরনের সংশোধন করা হচ্ছে, তার ওপর প্রযোজ্য খরচ নির্ভর করতে পারে।

তাই পুরোনো ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনানুষ্ঠানিক পোস্টে উল্লেখ করা অঙ্ক দেখে টাকা জমা দেবেন না। আবেদনের আগে বর্তমান ফি, অর্থ জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং কার্ড বা ডাকসংক্রান্ত অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করুন। টাকা জমা দিলে রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ভুল থাকলে কী করবেন?

যদি ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রেও নামের ভুল থাকে, তাহলে প্রথমে কোন নথিতে সংশোধন প্রয়োজন তা নির্ধারণ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সংশোধিত পরিচয়পত্র পাওয়ার পর সেটিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা প্রয়োজন কি না, তা বিআরটিএর সঙ্গে নিশ্চিত করুন।

অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ঠিক থাকলেও লাইসেন্সে বানান ভুল থাকলে সেই সঠিক নথির কপি আবেদনের সঙ্গে দিন। এতে সংশোধনের ভিত্তি বোঝানো সহজ হতে পারে।

নামের বানান ভুল আর আইনগতভাবে নাম পরিবর্তন এক নয়

লাইসেন্সে নামের একটি অক্ষর ভুল থাকা এবং নিজের নাম আইনগতভাবে পরিবর্তন করা এক ধরনের ঘটনা নয়। বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিচয়পত্র দিয়ে সঠিক নাম প্রমাণ করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে নাম পরিবর্তন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

তাই নামের বানান সংশোধনের আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে জানান। শুধু বানান ভুলের আবেদন দিয়ে আইনগত নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সমাধান হবে—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তথ্যের প্রমাণ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। আবেদন ফরমে ভুল তথ্য লেখা, প্রয়োজনীয় নথি বাদ পড়া কিংবা ভুল ফি জমা দেওয়ার কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।

সুতরাং, ফরম-৪(খ) সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং ফি জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসের নির্দেশনা যাচাই করুন। সরকারি সেবা ও ফি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিআরটিএর ওয়েবসাইট এবং বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করাই নিরাপদ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল হলে কোথায় আবেদন করতে হবে?

বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে নির্ধারিত ফরম ও প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে হবে। আপনার ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন প্রযোজ্য কি না, সেটিও আগে যাচাই করুন।

২. নাম সংশোধনের জন্য কোন ফরম লাগবে?

বিআরটিএর ফরম-৪(খ) লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনসহ কয়েক ধরনের সেবায় ব্যবহৃত হয়। আবেদন করার আগে ফরমের সর্বশেষ সংস্করণ ও প্রযোজ্যতা নিশ্চিত করুন।

৩. নাম সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

সাধারণত বর্তমান লাইসেন্সের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সংশোধনের পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি প্রয়োজন হতে পারে। সুনির্দিষ্ট তালিকা ভুলের ধরন অনুযায়ী বিআরটিএ থেকে জেনে নিতে হবে।

৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম সংশোধনের ফি কত?

প্রযোজ্য ফি বিআরটিএর সর্বশেষ ফি তালিকা বা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে নিশ্চিত করতে হবে। যাচাই না করে পুরোনো কোনো অঙ্কের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

৫. জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ভুল থাকলে কি আগে সেটি সংশোধন করতে হবে?

জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে আগে সংশোধন করা প্রয়োজন হতে পারে। কোন নথি আগে সংশোধন করতে হবে, তা আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করুন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: