ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম ভুল? সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৫:৫৪:১১
জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম ভুল? সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

জন্মনিবন্ধন সনদে বাবার নামের বানান ভুল থাকলে, নামের কোনো অংশ বাদ পড়লে কিংবা বাবার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সনদের অমিল দেখা গেলে তা সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে সন্তানের জন্মনিবন্ধনে সরাসরি বাবার নাম পরিবর্তন করলেই হবে না। বাবার নিজস্ব জন্মনিবন্ধন নম্বর আছে কি না, সন্তানের জন্মতারিখ এবং বাবার জীবিত থাকা বা না থাকার মতো বিষয় অনুযায়ী সংশোধনের প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থা (BDRIS) অনুযায়ী, বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকলে সাধারণত প্রথমে তাঁর নিজের জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে হয়। এরপর সন্তানের জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে বাবার নিবন্ধন নম্বরের সংযোগ ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করে সংশোধিত সনদ পুনর্মুদ্রণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করলে অযথা দৌড়ঝাঁপ কমতে পারে।

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধনের নিয়ম

বাবার নাম সংশোধনের আগে তাঁর নিজের জন্মনিবন্ধন নম্বর আছে কি না, সেটি যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ তথ্যের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে।

বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকলে কী করবেন?

বাবার ডিজিটাল বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকলে প্রথমে তাঁর নিজের সনদে নামের তথ্য ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।

যদি বাবার জন্মনিবন্ধনেও নাম ভুল থাকে, তাহলে প্রথমে তাঁর জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে হবে। সংশোধন অনুমোদিত হওয়ার পর সন্তানের জন্মনিবন্ধনে বাবার তথ্য কীভাবে যুক্ত রয়েছে, তা যাচাই করতে হবে।

সন্তানের জন্মনিবন্ধন তৈরির সময় বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, বাবার নাম সংশোধনের পর সন্তানের সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে সংশোধিত নাম দেখা যেতে পারে।

সন্তানের জন্মনিবন্ধনে বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর যুক্ত না থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে সন্তানের রেকর্ডের সঙ্গে বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর সংযুক্ত বা ম্যাপ করতে হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সন্তানের সনদে আলাদা করে একই তথ্য সংশোধনের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। এতে প্রয়োজনীয় সংযোগ ঠিক না করে বারবার আবেদন করার ঝুঁকি কমবে।

বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে কী করবেন?

বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে সন্তানের জন্মতারিখ এবং বাবার জীবিত থাকা বা না থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০১-এর আগে হলে: সরকারি BDRIS সংশোধন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদনেই বাবার নাম সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাবা মারা গেলেও তাঁর মৃত্যুর প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

সন্তানের জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০১ বা তার পরে হলে এবং বাবা মারা গিয়ে থাকলে: বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে সন্তানের জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে বাবার মৃত্যুর প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

বাবা জীবিত, কিন্তু তাঁর জন্মনিবন্ধন নম্বর নেই: এ পরিস্থিতিতে কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করে নিন। অনলাইনে পাওয়া সাধারণ নির্দেশনা সব ধরনের পরিস্থিতি সমানভাবে ব্যাখ্যা করে না। তাই বাবার পরিচয় প্রমাণের নথি নিয়ে নিবন্ধকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধনে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

বাবার নামের বানান সংশোধন, নামের কোনো অংশ যোগ বা বাদ দেওয়া এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র এক রকম নাও হতে পারে। সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা যেতে পারে:

যে জন্মনিবন্ধন সনদে সংশোধন করতে চান, তার কপি।

বাবার জন্মনিবন্ধন সনদ, যদি থাকে।

বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, যদি থাকে।

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষাগত সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

নামের সঠিক বানান বা পরিচয় প্রমাণ করে এমন পাসপোর্ট কিংবা অন্য গ্রহণযোগ্য নথি, প্রয়োজন অনুযায়ী।

বাবা মারা গিয়ে থাকলে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাঁর মৃত্যুর প্রমাণপত্র।

অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট করা কপি এবং আবেদনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

এ তালিকার সব নথি প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সংশোধনের ধরন ও বিদ্যমান রেকর্ড অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইতে পারে নিবন্ধন কার্যালয়। বিশেষ করে বাবার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে চাইলে শুধু বানান সংশোধনের তুলনায় বেশি প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।

ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য BDRIS-এর নির্ধারিত পেজে যান:

https://bdris.gov.bd/br/correction

ধাপ ২: জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিয়ে রেকর্ড খুঁজুন।

যে ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে চান, তাঁর জন্মনিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসরণ করুন। সঠিক রেকর্ড নির্বাচন করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন।

ধাপ ৩: সংশোধনের তথ্য নির্বাচন করুন।

সংশোধনের বিষয় হিসেবে বাবার নাম নির্বাচন করে সঠিক নাম লিখুন। সংশোধনের কারণও উল্লেখ করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় নামের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী মিলিয়ে নিন।

ধাপ ৪: প্রমাণপত্র যুক্ত করুন।

ওয়েবসাইটে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছবি আপলোড করুন। ফাইলের ধরন ও আকারসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলুন। আবেদনের আগে সব নথিতে নামের বানান একই আছে কি না, তা যাচাই করুন।

ধাপ ৫: আবেদন জমা দিয়ে প্রিন্ট করুন।

প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিন। আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করুন।

ধাপ ৬: সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দিন।

অনলাইনে আবেদন করলেই সব কাজ শেষ হয়ে যায় না। আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট জন্মনিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আবেদন অনুমোদন করা হবে কি না, তা নথি যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত হবে।

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য ফি জানতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় বা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ফি তালিকা যাচাই করুন। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পুরোনো ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া টাকার অঙ্ককে বর্তমান সরকারি ফি ধরে নেওয়া উচিত নয়। টাকা জমা দিতে হলে অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

জন্মনিবন্ধনের সংশোধন কত দিনে হবে?

আবেদন জমা দেওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হবে, তা সব ক্ষেত্রে এক নয়। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় সংযোগ ঠিক করা এবং আবেদন অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।

আবেদনের নম্বর সংরক্ষণ করুন। নির্ধারিত সময়েও অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনের অবস্থা জেনে নিন।

জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম সংশোধনের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

বাবার নামের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর নিজের জন্মনিবন্ধনের তথ্য এবং সন্তানের সনদের মধ্যে সংযোগ ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা। বাবার নামের বানান ভুল হলে এবং বাবার নিজস্ব জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকলে আগে তাঁর রেকর্ড সংশোধন করতে হতে পারে। আবার বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে সন্তানের জন্মতারিখ ও বাবার জীবিত থাকার অবস্থার ভিত্তিতে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

এ ছাড়া জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন সর্বোচ্চ চারবার করা যায় বলে BDRIS-এর সংশোধন পেজে উল্লেখ রয়েছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে তথ্য ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ভুল তথ্য দিয়ে বারবার আবেদন না করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের সহায়তা নিন।

সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে সরকারি পদ্ধতিতে আবেদন করলে জন্মনিবন্ধনে বাবার নামের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সহজ হয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদনের ওপর।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. জন্মনিবন্ধনে বাবার নাম ভুল থাকলে কোথায় আবেদন করতে হবে?

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিতে হতে পারে।

২. বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর থাকলে কি সন্তানের সনদে সরাসরি নাম সংশোধন করা যাবে?

বাবার নিজের জন্মনিবন্ধনে নাম ভুল থাকলে সাধারণত আগে তাঁর রেকর্ড সংশোধন করতে হয়। এরপর সন্তানের সনদের সঙ্গে বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর যুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হয়।

৩. বাবার জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে কী করবেন?

সন্তানের জন্মতারিখ এবং বাবা জীবিত কি না, তার ওপর নির্ভর করে নিয়ম আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি ২০০১-এর আগে জন্ম হলে এবং ওই তারিখের পরে জন্মের ক্ষেত্রে বাবা মারা গিয়ে থাকলে সরকারি নির্দেশনায় আলাদা ব্যবস্থা উল্লেখ রয়েছে।

৪. বাবার নাম সংশোধনে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সাধারণত সন্তানের জন্মনিবন্ধন, বাবার জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সঠিক নাম প্রমাণের প্রাসঙ্গিক নথি প্রয়োজন হতে পারে। সুনির্দিষ্ট তালিকা সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যালয় থেকে জেনে নিতে হবে।

৫. জন্মনিবন্ধনের সংশোধনের আবেদন কয়বার করা যায়?

BDRIS-এর সংশোধন পেজে সর্বোচ্চ চারবার আবেদন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: