এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬: বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে কত টাকা লাগবে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের সামনে এখন উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। প্রতি পত্রের জন্য নির্ধারিত ফি ১৫০ টাকা। তবে আবেদন করার আগে পদ্ধতি, ফি পরিশোধ এবং বিষয় নির্বাচনের নিয়ম ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। সর্বোচ্চ GPA-5 পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
কবে থেকে কবে পর্যন্ত বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন?
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে। শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
আবেদনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট:
https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd
প্রতি বিষয়ে আবেদন করতে কত টাকা লাগবে?
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো বিষয়ের দুটি পত্র থাকলে উভয় পত্রের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধের জন্য বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবা ব্যবহার করা যাবে। আবেদন পোর্টালে বিষয় নির্বাচন করার পর কত টাকা দিতে হবে, তা দেখানো হবে।
এইচএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদন করবেন যেভাবে
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পরীক্ষার্থীকে অনলাইন পোর্টালে গিয়ে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
প্রথম ধাপ: https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: নির্ধারিত ঘরে পরীক্ষার রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখুন।
তৃতীয় ধাপ: বোর্ড ড্রপডাউন তালিকা থেকে নিজের শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করুন।
চতুর্থ ধাপ: সাবমিট বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় যান।
পঞ্চম ধাপ: পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের তথ্য এসএমএসে পাওয়ার জন্য সচল মোবাইল নম্বর দিন।
ষষ্ঠ ধাপ: পরবর্তী পৃষ্ঠায় বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যে বিষয় বা পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করুন।
সপ্তম ধাপ: নির্বাচিত পত্রের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। পেমেন্টের আগে বিষয় ও ফি ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
অষ্টম ধাপ: টাকা পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ অপশনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
একবার আবেদন করার পর নতুন বিষয় যুক্ত করা যাবে?
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফি পরিশোধ করে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরও একইভাবে অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অন্যদিকে, ফি দেওয়ার আগে নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করার প্রয়োজন হলে পোর্টালের ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনকৃত বিষয় বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
বোর্ডের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি নম্বর বাড়বে?
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করলেই নম্বর বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রক্রিয়াও নয়। উত্তরপত্র ও নম্বরসংক্রান্ত নির্ধারিত বিষয়গুলো যাচাইয়ের পর ফলাফলে পরিবর্তন হলে তা সংশোধন করা হয়। আবার যাচাই শেষে আগের ফলাফলও বহাল থাকতে পারে।
তাই কোনো বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম গ্রেড পেলে কিংবা ফলাফলে ভুল হয়েছে বলে মনে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা যেতে পারে। তবে শুধু ফল ভালো হয়নি বলে নম্বর বাড়বে—এমন ধারণা নিয়ে আবেদন করা ঠিক নয়।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও GPA-5—দুই ক্ষেত্রেই গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো—
মোট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী: ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন
মোট উত্তীর্ণ: ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন
মোট অকৃতকার্য: ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন
গড় পাসের হার: ৫২.১২ শতাংশ
GPA-5 পেয়েছেন: ৪০ হাজার ৮৪ জন
২০২৫ সালে পাসের হার ছিল: ৫৮.৮৩ শতাংশ
২০২৫ সালে GPA-5 পেয়েছিলেন: ৬৯ হাজার ৯৭ জন
অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে GPA-5 পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
ছেলে ও মেয়েদের ফলাফলে কী চিত্র দেখা গেছে?
এবারের ফলাফলে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও GPA-5 পাওয়ার সংখ্যায় ছেলেরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন মেয়ের মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ।
GPA-5 পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছেলে এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন মেয়ে। অর্থাৎ, পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও সর্বোচ্চ GPA অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর কী করবেন?
আবেদন করার পর শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে তা পাওয়া যাবে। আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও এসএমএস পাঠানো হতে পারে।
ফলাফলে পরিবর্তন এলে সংশোধিত ফল অনুযায়ী পরবর্তী শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর আগের ফল বহাল থাকলে সেই ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি বা অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
সুতরাং, যাঁরা ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১ থেকে ৭ নভেম্বরের সময়সীমা মেনে আবেদন করা। বিষয় নির্বাচন ও ফি পরিশোধে ভুল এড়াতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
পাঠকের সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর
১. ২০২৬ সালের এইচএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন কবে শুরু হবে?
১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু হবে। শেষ সময় ৭ নভেম্বর ২০২৬।
২. এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে কত টাকা লাগবে?
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
৩. বোর্ড চ্যালেঞ্জের আবেদন কোথায় করতে হবে?
https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
৪. একাধিক বিষয়ে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা যাবে কি?
হ্যাঁ। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক বিষয় বা পত্র নির্বাচন করে আবেদন করা যাবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।
৫. বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলে কি নম্বর বাড়বেই?
না। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে পরিবর্তন হতে পারে, আবার আগের ফলও বহাল থাকতে পারে।
তানভির ইসলাম/